জেলা শাসকের কার্যালয়ের অনতিদূরে কর্ণজোড়া পার্ক এখন মাদকাসক্তদের ঠিকানা

100

রায়গঞ্জ: জেলা শাসকের কার্যালয় থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বেই থাকা কর্ণজোড়া পার্ক এখন মাদকাসক্তদের আখরা। নিয়ম করে জমে উঠছে নেশা থেকে শুরু করে জুয়ার আসর। তাতে মজে রয়েছে ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সি কিশোরেরা। যাদের অনেকেই দিনের বেশিরভাগ সময় পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে লটারি বিক্রি করছে। আবার কেউ কেউ গোপনে মাদক পাচারের কাজও সারছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাগাতার অভিযান জারি রেখেছে পুলিশ। তবে শুধু অভিযানই নয়, এলাকার হাল ফেরাতে সচেতনতামূক কর্মসূচিকেও হাতিয়ার করেছে পুলিশ। যদিও পরিস্থিতি সেই একই তিমিরে। উলটে ভিড় বেড়েই চলেছে নেশার আসরে।

অভিযোগ, সন্ধ্যা হতেই মাদকাসক্তদের আসর বসতে শুরু করে। সেসময় ওই পথ ধরে চলা দায় হয়ে ওঠে। ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করেছেন স্থানীয়রা। এনিয়ে একাধিক সময় পুলিশে অভিযোগও জানানো হয়েছিল। অভিযোগের প্রেক্ষিতে লাগাতার অভিযানের পথে হাঁটতে শুরু করে পুলিশ। প্রায় দিনই অভিযান চালিয়ে ১০ থেকে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে খবর পুলিশ সূত্রে। যদিও কোনও প্রকার ভাটা পড়েনি সেই আসরে। তবে শুধু কর্ণজোড়ার ওই পার্ক নয়, মাদকাসক্তদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে রায়গঞ্জ শহর সংলগ্ন সুদর্শনপুর, অশোকপল্লী, রমেন্দ্রপল্লী, তুলসিপাড়া, বন্দর, কলেজ পাড়া, দেবীনগর, উকিলপাড়া, নেতাজিপল্লী, শ্মশানকলোনি ও গ্রাম অঞ্চল এলাকাগুলোতেও নেশাখোরদের আড্ডা বসে।

- Advertisement -

তবে শুধু মদ সিগারেট নয়, সঙ্গে রয়েছে ব্রাউন সুগার, কাশির সিরাপ, ঘুমের ট্যাবলেট, ডেনড্রাইট, গাঁজা, হোয়াইটনার। ঘটনায় বাড়ছে উদ্বেগ। কর্ণজোড়া ফাঁড়ির এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, ‘কর্ণজোড়া, পিরোজপুর, খলসি, বামুহা, ধুড়োইল, শেরপুর সহ মোট ৪৫৮ জন ব্রাউন সুগারে আসক্ত যুবকদের চিহ্নিত করা হয়েছে। একাধিক সচেতনতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিছু কিছু যুবককে নেশামুক্তি কেন্দ্রে ভর্তি করিয়ে নেশা ছাড়ানোর ব্যবস্থাও করা হয়েছে। আমরা অভিভাবকদের সঙ্গে প্রতি সপ্তাহে একদিন করে বৈঠক করে সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করেছি।’