নবান্ন উপলক্ষ্যে কার্তিক পুজোয় মাতল তারাপীঠ

254

রামপুরহাট: সব দেবীর উর্ধ্বে মা তারা। তাই তারাপীঠে দেবী মূর্তি পুজোর কোনও চল নেই। তবে দেব পুজোয় কোনও বাধা নেই। তাই নবান্ন উপলক্ষ্যে দেবসেনাপতি কার্তিকের আরাধনায় মাতে তারাপীঠ। এই উপলক্ষ্যে তারাপীঠের একাধিক জায়গায় কার্তিক পুজো করা হয়েছে এবারও। নবান্নই তারাপীঠবাসীর বড় উৎসব। নতুন ধানের অন্ন নবান্ন। মূলত গ্রাম বাংলার কৃষকরা নতুন ধান ঘরে তোলার আগে নবান্ন উৎসবে মাতেন। গ্রাম্যদেবতা এবং অন্নপূর্ণার পুজো না দিয়ে তারা নতুন অন্ন মুখে তোলেন না। তবে তারাপীঠ চাষবাস খুব একটা হয় তা নয়। কিন্তু প্রাচীন রীতি মেনে নবান্ন উৎসব পালন করে আসছেন তারাপীঠের বাসিন্দারা।

বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের মধ্যে নবান্ন বাঙালীর অন্যতম উৎসব। তারাপীঠের বাসিন্দাদের কাছে নবান্নই প্রধান উৎসব। নবান্নকে ঘিরে দেবসেনাপতি কার্তিকের পুজোয় মাতেন তারাপীঠের বাসিন্দারা। তাই উৎসবের আনন্দ উপভোগ করতে তারাপীঠে দিন দিন বেড়েছে থিমের পুজো। তবে করোনা আবহে এবার পুজোর জৌলুস অনেকাংশে কমেছে। নবান্ন উৎসব উপলক্ষ্যে কার্তিক, শিব ও অসুরের মূর্তি গড়ে পুজো করেন তারাপীঠবাসীরা। কারণ তারাপীঠে কোনও দেবী মূর্তির পুজোর প্রচলন নেই। তবে এবার শুধু পুজো হচ্ছে। বন্ধ সমস্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

- Advertisement -

তারাপীঠ তারামাতা সেবাইত সংঘের সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায়, সম্পাদক ধ্রুব চট্টোপাধ্যায় বলেন, মা তারা সব দেবীর উর্ধ্বে। দুর্গা থেকে জগদ্ধাত্রী, কালী থেকে লক্ষী-সরস্বতী সব দেবীর পুজো হয় মা তারাকে সামনে রেখে। তাই এখানে কোনও দেবী মূর্তির পুজো করা হয় না। তবে দেব মূর্তি পুজোয় কোনও আপত্তি নেই। কার্তিক যেহেতু দেবসেনাপতি, তাই কার্তিকের পুজো করা হয় নবান্ন উপলক্ষ্যে। এছাড়া শিব ও অসুরের মূর্তি গড়ে পুজো করা হয়। একটা সময় ছিল যখন তারাপীঠে কোনও মূর্তি পুজো হত না। নবান্ন হলেও তা হত বাড়ির চার দেওয়ালের মধ্যে। সেসময় তারাপীঠের যুবকরা মূর্তি গড়ে পুজো করার জন্য ঝোঁক ধরে। নবান্ন উপলক্ষ্যে সাধারণত অন্নপূর্ণার পুজো করা হয়। কিন্তু অন্নপূর্ণা দেবী। তাই সেসময় প্রবীণরা বিধান দেন দেব মূর্তির পুজো করা যেতে পারে।

সেই বিধান মেনে ১৯৬১ সালে তারাপীঠ মিলন সংঘ পাঠাগারের ব্যানারে কার্তিকের পুজো শুরু করা হয় দেবসেনাপতি হিসাবে। কার্তিকের পাশাপাশি গড়া হয় তারকাসুর ও শিব। কার্তিক তারকাসুরকে বধ করেছিলেন। আর শিব উপর থেকে বসে সেই যুদ্ধ দেখেছিলেন। তাই কার্তিকের পাশাপাশি শিব ও তারকাসুরের আরাধনা করা হয়। অন্যবার পুজো উপলক্ষ্যে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হত। গোটা তারাপীঠ সাজানো হত আলোয়। চারদিন ধরে বহিরাগত শিল্পী দ্বারা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হত। কিন্তু এবার সব কাটছাঁট করে শুধুমাত্র পুজোটুকু করা হয়েছে।