চৈতন্যদেবের শিষ্যের পরিবারে দেড়শো বছরের প্রাচীন জোড়া কার্তিক পুজো

89

হরিশ্চন্দ্রপুর: বাড়ির পূর্বপুরুষরা মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্যর কাছে বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষা নিয়েছিলেন। হরিশ্চন্দ্রপুরে ৩০০ বছরের পুরোনো পিপলা গ্রামের জমিদার মিশ্রদের বাড়ির দুর্গামণ্ডপে বৃহস্পতিবার রাত জুড়ে চলল ঐতিহ্যবাহী জোড়া কার্তিকের পুজো। এই পুজোর বয়সও দেড়শো বছর। প্রায় পাঁচশো বছর আগে ষষ্ঠদশ শতাব্দীর প্রথম দশকে বরেন্দ্রভূমির অভয়পুরে মিশ্র পরিবারের পূর্বপুরুষরা বাস করতেন। ওই পরিবারের মালাধর মিশ্র, জয়ধর মিশ্র ও শ্রীধর মিশ্র মহাপ্রভুর কাছে বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষিত হন।

পরে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে মিশ্র বাড়ির পূর্বপুরুষরা অভয়পুর থেকে স্থানান্তরিত হয়ে রাজশাহী জেলার নাচোল থানার ঘিয়ন নামক গ্রামে বসবাস শুরু করেন। সেখান থেকে জনৈক এদেশীয় জমিদার তাদের পূর্বপুরুষ জগমোহন মিশ্রকে ব্রহ্মোত্তর জমি দিয়ে হরিশ্চন্দ্রপুরে স্থায়ীভাবে বসবাসের ব্যবস্থা করেন। এরপর তাদের আরেক পূর্বপুরুষ অভয় প্রসাদ মিশ্র দুর্গাপুজো চালু করেন সেখানে। বর্তমানে তাদের বংশধররাই হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পিপলা গ্রামে পুজো করছেন। মিশ্র বাড়ির সদস্য প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী সুরজিৎ মিশ্র জানান, চৈতন্যদেবের শিষ্য জয়ধর মিশ্র ও শ্রীধর মিশ্রের বংশধর ছিলেন গগনচন্দ্র মিশ্র। তিনি কার্তিক ঠাকুরের কাছে মানত করে দুই পুত্র সন্তান লাভ করেন। তারপরই তিনি বাড়িতে জোড়া কার্তিক পুজো শুরু হয়।

- Advertisement -

এই পুজোর বিশেষত্ব হল রাতের মধ্যেই চার প্রহরে চারবার পুজো করতে হয়। অন্নভোগ, ক্ষীর, লুচি, পায়েস, ফলমূল দিয়ে জোড়া কার্তিকের পূজা-অর্চনা হয়। তারপরই ভোরের আলো ফোটার আগেই হোম যজ্ঞ করে পুজোর সমাপ্তি হয়। আগে এই পূজাকে ঘিরে গ্রামবাসীদের মধ্যে উন্মাদনা থাকত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাতে ভাঁটা পড়েছে। বাড়ির নাটমন্দিরে ঐতিহ্যবাহী বড় চালার দুর্গা প্রতিমার কাঠামোর পাশেই জোড়া কার্তিকের পুজো হয়ে আসছে।