জন্ম: ৩ জুন ১৯২৪  মৃত্যু: ৭ অগাস্ট ২০১৮

চেন্নাই, ৭ অগাস্টঃ বৈচিত্রময়তার আর এক নাম মুথুভেল করুণানিধি। এম করুণানিধি কালাইনার নামেই পরিচিত ছিলেন তামিল রাজনীতিতে। এক দিকে রাজনীতিবিদ, অন্য দিকে সাহিত্য ও সিনেমা চর্চা, সব ক্ষেত্রেই তাঁর সাফল্য ছিল ঈর্ষণীয়। টানা অর্ধশতাব্দী শাসন করেছেন ডিএমকে-কে। ১৯৬৯ থেকে ২০১১ পাঁচ পাঁচ বার তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সুবাদে প্রায় সিকি শতক শাসন করেছেন নিজের রাজ্যটিকে। মৃত্যুর  দিন পর্যন্ত সক্রিয় ছিলেন রাজনীতিতে, ছিলেন ডিএমকের শীর্ষপদে। দ্রাবিড় আন্দোলনের প্রথম সংগঠনটি গড়ে উঠেছিল তাঁর হাতে।

১৯২৪ সালের ৩ জুন তামিলনাড়ুর নাগপট্টিনাম জেলার থিরুক্কুভালি গ্রামে জন্ম করুণানিধির। তাঁর প্রকৃত নাম দক্ষিণামূর্তি। স্কুল জীবন থেকেই নাটক, কবিতা এবং সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ ছিল কিশোর করুণানিধির। জাস্টিস পার্টির নেতা আজাগিরিস্বামীর অনুপ্রেরণায় মাত্র ১৪ বছর বয়সে সমাজ সংস্কার আন্দোলনে যোগ দেন। অল স্টুডেন্টস ক্লাব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর। দ্রাবিড় আন্দোলনের সামনের সারিতে ছিল এই ক্লাব।

করুণানিধির কর্মজীবন শুরু হয়েছিল তামিল ছবির চিত্রনাট্য লিখে। বক্তা হিসেবেও তিনি ছিলেন চমৎকার। ফলে অচিরেই তাঁকে কেন্দ্র করে অনুরাগীদের একটি বলয় তৈরি হয়। করুণানিধির প্রথম চিত্রনাট্য রাজকুমারী। এই ছবিতে অভিনয় করেন এমজি রামচন্দ্রন। তামিল সাহিত্যের নানা ক্ষেত্রে করুণানিধি তাঁর বহুমুখী প্রতিভার অনন্য স্বাক্ষর রেখে গিয়েছেন। গল্প ও কবিতার বহু গ্রন্থের পাশাপাশি, ১১ খণ্ডে লেখা আত্মজীবনীও আছে তাঁর।

কিশোর বয়সে রাজনীতিতে হাতেখড়ি হলেও ১৯৫৭ সালে মাত্র ৩৩ বছর বয়সে তিনি পা রাখেন তামিলনাড়ু বিধানসভায়। ১৯৬১-তে তিনি ডিএমকে-র কোশাধ্যক্ষ হন। এক বছর বাদে তাঁকে বিধানসভার উপ-বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত করা হয় ডিএমকে-র পক্ষ থেকে। ১৯৬৭-তে তামিলনাড়ুতে ডিএমকে ক্ষমতায় আসার পর পূর্তমন্ত্রীর পদ দেওয়া হয় তাঁকে। ১৯৬৯ সালে তিনি প্রথম রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হন। সেইসঙ্গে দলের লাগাম চলে আসে তাঁর হাতে।