হু’র মানচিত্রে কাশ্মীর-লাদাখ ভারতের বাইরে

316

লন্ডন ও নয়াদিল্লি: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র করোনা মানচিত্রে ভারতের দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখকে মূল ভূখণ্ডের থেকে আলাদা করতে ভিন্ন রংয়ের ব্যবহার ঘিরে তোলপাড় ব্রিটেন। সাউথ ব্লক এবিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া না দিলেও ব্রিটিশ যুক্তরাজ্যের সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন প্রবাসী ভারতীয়রা। বেজায় ক্ষুব্ধ হয়েছে সেদেশে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের একাধিক সংগঠন। এর পেছনে চিনের হাত রয়েছে বলে তাদের ধারণা। হু’র দাবি, রাষ্ট্রসংঘের গাইডলাইন মেনেই মানচিত্রটি করা হয়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কোভিডের সংক্রমণ বোঝাতে হু’র ড্যাশবোর্ডে ভারতের মানচিত্র নীল রংয়ে দেখানো হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখকে দেখানো হয়েছে ধূসর রংয়ে। একই দেশের ভূখণ্ড হওয়া সত্ত্বেও কেন আলাদা রংয়ে চিত্রিত করা হয়েছে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল দুটিকে, এই প্রশ্নে তোলপাড় সেদেশের নেটিজেন প্রবাসী ভারতীয়রা। বিষয়টি প্রথম নজরে পড়ে লন্ডনে কর্মরত এক তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞের। পঙ্কজ নামে ওই প্রবাসী বিভিন্ন হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে বিষয়টি শেয়ার করে বলেন, ‘আমি চমকে গিয়েছি। হু’র মতো একটি দায়িত্বশীল সংস্থা এমন কাজ করল। এর পেছনে চিনের হাত আছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, চিন মোটা অঙ্কের অনুদান দেয় হু’কে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওপর চিনের বিরাট প্রভাব।’

- Advertisement -

ব্রিটেনে প্রবাসী ভারতীয়দের সোশ্যাল মিডিয়া সংগঠন ’রিচ ইন্ডিয়া’-র প্রধান নন্দিনী সিং একধাপ এগিয়ে মানচিত্রে ভুল দেখানোর জন্য হু’কে ভারতের কাছে ক্ষমা চেয়ে ভুল শুধরে নিতে বলেছেন। তিনি বলেন, ‘কোভিডের  মোকাবিলায় ভারত যা করেছে, যে বিপুল সংখ্যায় কিট সরবরাহ করেছে তাতে ধন্যবাদ না দিয়ে দেশের মানুষের ভাবাবেগে আঘাত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।’

২০২০-র ডিসেম্বরে মাইক্রোব্লগিং সাইটে লাদাখের বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে চিনের অংশ হিসেবে দেখিয়েছিল টুইটার। সেজন্য টুইটার কর্তৃপক্ষকে তলব করেছিল যৌথ সংসদীয় কমিটি। ভুলের কারণ ব্যাখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি ভুল সংশোধন করেছিল টুইটার। ডিসেম্বরের গোড়ায় একই ভুল করেছিল উইকিপিডিয়াও। পরে তারাও ভুল শুধরে নিয়েছিল।