সানি সরকার, শিলিগুড়ি : কাওয়াখালিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষিত প্রকল্প বেসরকারি সংস্থার হাতে গেল। কাওয়াখালিতে তিস্তা স্মার্ট সিটি তৈরির সিদ্ধান্ত থেকে ওয়েস্ট বেঙ্গল হাউজিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (হিডকো) সরে এল। পরিবর্তে একটি বেসরকারি সংস্থা ওই জমিতে প্রকল্পটি গড়ে তুলবে। সরকারি সূত্রে খবর, ইতিমধ্যে এজন্য প্রয়োজনীয় টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাটি কিছুদিনের মধ্যেই প্রকল্পটির কাজ শুরু করবে। হিডকোর চেয়ারম্যান দেবাশিস সেন বলেন, আমরা কাওয়াখালিতে কোনো আবাসন প্রকল্প গড়ছি না। একটি সংস্থা সেখানে প্রকল্প গড়বে। ইতিমধ্যে বিষয়টির বিডিং হয়েছে। লোকাল গার্ডিয়ান হিসেবে শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এসজেডিএ) কাজটির দেখভাল করবে। অন্যদিকে, বিষয়টি তাঁর জানা নেই বলে এসজেডিএ-র চেয়ারম্যান বিজয়চন্দ্র বর্মনের দাবি। তবে টেন্ডার প্রক্রিয়ার বিষয়টি স্বীকার করে রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব বলেন, একটি সংস্থা ৮৯ একর জমিতে তিস্তা উপনগরী গড়ে তুলবে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী এখানেও মেডিকেল হাব ও এডুকেশন পার্ক থাকবে। পাশাপাশি, সাধারণ মানুষের জন্যও বিশেষ সুযোগ থাকবে।

রাজ্যের ক্ষমতায় আসার পর তৃণমূল সরকার কাওয়াখালিতে ফিল্ম সিটি তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়। এজন্য ১১ একর জমি চিহ্নিত করা হয়। কিন্তু অনেক চেষ্টার পরও প্রকল্পটি বিশবাঁও জলে চলে যায়। এরপরেই সরকারিভাবে এখানে আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী এটির নাম দেন তিস্তা স্মার্ট সিটি। বাম জমানায় উপনগরী গড়ে তোলার জন্য চাঁদমণির মতো কাওয়াখালিতেও জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। ২০০৫ সালে অধিগৃহীত ৩০২ একর জমিতে সেই সময় নিউ টাউনশিপ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেই সময় জমি দিতে অনিচ্ছুকদের আন্দোলনে অক্সিজেন জোগানো তৃণমূল ২০১১ সালে রাজ্যের ক্ষমতায় আসার পর সরকারি ওই পরিকল্পনাকে নস্যাত্ করেনি। সিঙ্গুরের ধাঁচে অনিচ্ছুক ৫৩ জন জমির মালিককে জমি ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সেই অর্থে আবাসন প্রকল্প থেকে সরে আসেনি। বাম জমানার পরিকল্পনায় কিছুটা কাটছাঁট করে ফিল্ম সিটি গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চিত্র পরিচালক হরনাথ চক্রবর্তী, অভিনেতা প্রসেনজিত্ চট্টোপাধ্যায়ের মতো নামিদের সাহায্য নিয়ে রাজ্য অবশ্য তা গড়ে তুলতে পারেনি। পরে রাজ্য সরকার ওই জমিতে স্মার্ট সিটি গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয়। আবাসন দপ্তর এসজেডিএ-র কাছ থেকে ওই জমি নেয়। প্রকল্পটির জন্য হিডকো-কে দায়িত্ব দেওয়া হয়। স্মার্ট সিটির আগে তিস্তা নাম জুড়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, হিডকোর প্রকল্পটির ক্ষেত্রে সাধারণ মধ্যবিত্তরা অগ্রাধিকার পাবেন। কিন্তু শেষপর্যন্ত ফিল্ম সিটির জায়গা সহ আরও ৭৮ একর জমি আবাসন প্রকল্পের জন্য একটি বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হল। রাজ্য সরকারের সঙ্গে ওই সংস্থাটির কী চুক্তি হয়েছে, তা এখনও বিশদে জানা যায়নি। কিন্তু আবাসন প্রকল্পটি যখন বেসরকারি সংস্থার হাতে যাচ্ছে তখন তা সাধারণ মধ্যবিত্তদের আওতায় থাকবে কি না তা নিযে প্রশ্ন উঠেছে।

চাঁদমণিতে উপনগরী গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও সরকারি তরফে অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। যার অধিকাংশই রক্ষা করা হয়নি বলে অভিয়োগ। সূত্রের খবর, বাম জমানায় যে বেসরকারি সংস্থা চাঁদমণিতে উপনগরী গড়ে তুলেছিল সেই একই সংস্থা কাওয়াখালিতে আবাসন প্রকল্পে হাত দিচ্ছে। এনিযে বিতর্ক ছড়ানোর উপক্রম হয়েছে। পর‌্যটনমন্ত্রী গৌতমবাবুর বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, প্রতিটিই রক্ষা করা হবে। দেবাশিসবাবুর বক্তব্য অনুসারে, এসজেডিএ কাজের দেখভাল করবে। কিন্তু দেখভালের ক্ষেত্রে উন্নয়ন সংস্থাটির ভূমিকা কী হবে, তাও স্পষ্ট নয়।