কেরালার বিরুদ্ধে নাটকীয় ম্যাচে নায়ক কৃষ্ণা

সুস্মিতা গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা : কিবু ভিকুনার প্রতিশোধ যখন সম্পূর্ণ হয়েছে বলে মনে হচ্ছিল, তখনই ফুটবল দেবতা বোধহয় অলক্ষ্যে হেসে উঠলেন। যে ম্যাচে বিরতির পরে হার নিশ্চিত মনে হচ্ছিল তখনই জ্বলে উঠে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব আবার নতুনকরে প্রতিষ্ঠা করে দিল সবুজ-মেরুন শিবির। পাঁচ গোলের ম্যাচে আবার নায়ক হলেন রয় কৃষ্ণা। যাঁকে ব্যাটনটা এগিয়ে দিলেন সদ্য যোগ দেওয়া মার্সেলিনহো।

অথচ বিরতির পরে শুরুটা দেখেও কিন্তু ম্যাচটা যে এই নাটকীয়তায পৌঁছতে পারে, আঁচ করা যাযনি। যে কেরালা ব্লাস্টার্সকে উদ্বোধনী ম্যাচে পেয়েছিলেন রয় কৃষ্ণারা, তার সঙ্গে এখনকার দলটার তফাৎ রয়েছে বলেই মনে হচ্ছিল। গত কয়েকটা ম্যাচের ধারাবাহিকতা থেকে মনে হয়েছিল, কিবু ভিকুনা দলের রোগগুলো প্রায় সারিয়ে ফেলেছেন। শেষপর্যন্ত হতাশই করলো তাঁর দল। ২-২ অবস্থা থেকে ৮৭ মিনিটে ম্যাচটা পকেটে পুরে নিলেন প্রথম দফায়ও তাঁদের কাঁদানো সেই রয় কৃষ্ণাই। দুই দলের ফুটবলাররা হাতাহাতিতেও জড়িয়ে পড়লেন এরপর।

- Advertisement -

মাত্র ১৩ মিনিটে যখন কেরালা ১ গোলে এগিয়ে যায় যখন তখন মাঠ জুড়ে শুধুই হলুদ জার্সি ঝলমল করছে। সন্দীপ সিংয়ের ক্রস ধরে প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে গ্যারি হুপার চলতি বলেই চিপ করে দেন গোলে। আগুয়ান অরিন্দম নাগাল পাননি। প্রায একইভাবে মিনিট ছয়েক বাদে মিস পাস ধরে গোল করে ফেলছিলেন জর্ডন মারেও। এবং এক্ষেত্রে তিরি এবং কার্ল ম্যাকহিউ দুজনেই বক্সের সামনে আশ্চর্যজনকভাবে ভুল করে চললেন। যা দেখেশুনে ক্রমাগত অরিন্দমকে নিয়মিত পরীক্ষা করা শুরু করেন হুপার-মারে-সাহালরা।

বিরতির পর হাবাসের পরিকল্পনায় সামান্য পরিবর্তন এল। সাহিল-রাঠী দুজনকেই পরিবর্তন করে অভিজ্ঞ প্রণয় এবং আক্রমনে বাড়তি ঝাঁঝ আনতে মানবীরকে নামানোয় ম্যাচে ফিরলো মোহনবাগান। ৬৫ মিনিটে ২-২ পেনাল্টি থেকে। মানবীরকে আটকাতে গিয়ে হাতে বল লাগিয়ে ফেলেন জেসন কার্নেইরো। পেনাল্টি থেকে গোল কৃষ্ণার। প্রথমার্ধটা স্বার্থপরের মতো ফুটবল খেললেও মার্সেলিনহো নিজের সেরা সময়কে মনে করিয়ে গোলটা করেন তার আগেই।

এই সময়ে বারবার গোল ছেড়ে বেড়িয়ে বাড়তি সাহস না দেখালেই পারতেন অ্যালবিনো গোমস। তাঁকে টপকে ৫৯ মিনিটে জিকসনকে ঘাড়ে করে নিয়ে গোলে বল ঠেলে দিতে সমস্যা হয়নি মার্সেলিনহোর মতো স্ট্রাইকারের। ৫১ মিনিটে সাহালের কর্ণার থেকে কোস্তা জটলার মধ্যে থেকে ২-০ করে দলকে এগিয়ে দেন। কিন্তু মুশকিলটা হল, এই পর্বে এসে বেদম হয়ে পড়লেন কেরালার দুই অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার। আর তাতেই যে চাপটা ছিল বাগান ডিফেন্সের উপর, সেটা সম্পূর্ণ চলে গেল।

তবে হাবাসের দল নামানো নিয়ে প্রশ্ন এরপরেও থাকবে। এদিন কী ভেবে চার বিদেশি নিয়ে খেলার সাহস দেখালেন বোঝা গেল না। জাভি হার্নান্ডেজ যে ফিট তা তাঁকে পরে নামানোয় বোঝাই গেল। বিশেষকরে যেখানে রয় কৃষ্ণা ফর্মে নেই এবং মার্সেলিনহো সদ্য দলে যোগ দিয়েছেন। তবে কথায় বলে সব ভালো তার, শেষ ভালো যার। সেই কথাকে সত্যি করে লিগ তালিকায থাকা মুম্বই সিটি এফসির থেকে ব্যবধান তিনে নামিয়ে আনল মোহনবাগান।