সাক্ষরতায় শীর্ষে কেরল, সেরা দশে বাংলা

568

নয়াদিল্লি: ভারতে নিরক্ষরতা দূরীকরণের নানা কর্মসূচির কথা বিভিন্ন সময়ে শোনা গিয়েছে। কিন্তু বহু রাজ্যে ৭ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সের পড়ুয়াদের সাক্ষরতার হার যে আশাপ্রদ নয়, তা সাম্প্রতিক সরকারি রিপোর্টেই স্পষ্ট। অন্তত ১১টি রাজ্য সাক্ষরতার হার জাতীয় গড়ের (৭৭.৭) নীচে। সবচেয়ে করুণ দশা অন্ধ্রপ্রদেশ (৬৬.৪ শতাংশ), রাজস্থান (৬৯.৭ শতাংশ), বিহার (৭০.৯ শতাংশ), তেলেঙ্গানা (৭২.৮ শতাংশ) এবং উত্তরপ্রদেশের (৭৩.০ শতাংশ)। সাক্ষরতার শীর্ষে যথারীতি কেরল (৯৬.২ শতাংশ)।কেরলে নারী-পুরুষের সাক্ষরতার হারের ব্যবধানও অন্য সমস্ত রাজ্যের তুলনায় অনেক কম (২.২)। কেরলে পুরুষ ও নারীর সাক্ষরতার হার যথাক্রমে ৯৭.৪ ও ৯৫.২।

এরপর সাক্ষরতায় এগিয়ে রয়েছে দিল্লি (৮৮.৭ শতাংশ), উত্তরাখণ্ড (৮৭.৬ শতাংশ), হিমাচল প্রদেশ (৮৬.৬ শতাংশ) এবং অসম (৮৫.৯ শতাংশ)। ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকাল অফিস (এনএসও)-এর প্রকাশিত নথিতে সাক্ষরতার হারের তালিকায় প্রথম দশে স্থান হয়েছে বাংলার। তবে একেবারে শেষে। পশ্চিমবঙ্গে সাক্ষরতার হার ৮০.৫। সাক্ষরতার হারে রাজ্যে লিঙ্গ বৈষম্যও রয়েছে। এরাজ্যে পুরুষদের সাক্ষরতার হার যেখানে ৮৪.৮, মেয়েদের হার সেখানে ৭৬.১। ব্যবধান ৮.৭ শতাংশ। সাক্ষরতার তালিকায় ৬ থেকে ৯ নম্বর স্থানগুলি দখল করে আছে মহারাষ্ট্র (৮৪.৮ শতাংশ), পঞ্জাব (৮৩.৭ শতাংশ), তামিলনাড়ু (৮২.৯ শতাংশ) এবং গুজরাট (৮২.৪ শতাংশ)।

- Advertisement -

এনএসও রিপোর্ট অনুযায়ী, সংখ্যালঘু মুসলিমরা তপশিলি জাতি ও উপজাতির থেকে সাক্ষরতায় পিছিয়ে আছে। ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলির মধ্যে খ্রিস্টানরা সাক্ষরতায় সবচেয়ে এগিয়ে, তারপরে হিন্দু ও শিখরা। সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত নারী-পুরুষের সাক্ষরতার হারে দৃষ্টিকটু রকমের বৈষম্য রয়েছে। এনএসও প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতে পুরুষের সাক্ষরতার হার ৮৪.৭। মেয়েদের ৭০.৩ শতাংশ। কেরলকে বাদ দিলে দেশের বাকি সব রাজ্যেই নারী-পুরুষের সাক্ষরতার হারের মধ্যে ব্যবধান ৮ শতাংশের ওপর। লিঙ্গবৈষম্য সবচেয়ে বেশি রাজস্থানে। সেখানে নারী-পুরুষের সাক্ষরতার হারের ব্যবধান ২৩.২ শতাংশ।

এরপর রয়েছে বিহার (১৯.২) এবং উত্তরপ্রদেশ (১৮.৪)। সর্বভারতীয় প্রেক্ষাপটে নারী ও পুরুষের সাক্ষরতার হার যথাক্রমে ৮৪.৭ ও ৭০.৩। অর্থাৎ, জাতীয় ক্ষেত্রে ব্যবধান ১৪.৪ শতাংশ। সাক্ষরতায় গ্রামের তুলনায় এগিয়ে শহর। গ্রাম এবং শহরের মধ্যে বৈষম্য স্পষ্ট। এই হার সর্বনিম্ন কেরলে (১.৯ শতাংশ), সর্বোচ্চ তেলেঙ্গানায় (২৩.৪ শতাংশ)। সাক্ষরতার প্রশ্নে শহর ও গ্রামের মধ্যে বৈষম্যের সঙ্গে লিঙ্গবৈষম্য যুক্ত করলে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বোঝা যায়। শহুরে পুরুষ এবং গ্রামীণ মহিলাদের সাক্ষরতার হারের ব্যবধানের জাতীয় গড় ২৭.২ শতাংশ। রাজস্থান ও তেলেঙ্গানায়ে এই সংখ্যাটা যথাক্রমে ৩৮.৫ ও ৩৮।

সাক্ষরতায়ে প্রথম ৫ (শতাংশের বিচারে)

  1. কেরল ৯৬.২
  2. দিল্লি ৮৮.৭
  3. উত্তরাখণ্ড ৮৭.৬
  4. হিমাচল ৮৬.৬
  5. অসম ৮৫.৯

সাক্ষরতায় শেষ ৫

  1. উত্তরপ্রদেশ ৭৩.০
  2. তেলেঙ্গানা ৭২.৮
  3. বিহার ৭০.৯
  4. রাজস্থান ৬৯.৭
  5. অন্ধ্র ৬৬.৪