কৃষক আন্দোলনে খালিস্তানি জঙ্গিযোগের অভিযোগ

75

নয়াদিল্লি: সিংঘু হোক, গাজিপুর কিংবা টিকরি। হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশের সঙ্গে দিল্লির সীমান্তগুলি গত দেড় মাস যাবৎ নজিরবিহীন কৃষক আন্দোলনের পীঠস্থানে পরিণত হয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে কৃষকরা আন্দোলন করছেন। হরিয়ানার পুলিশ তাঁদের ওপর লাঠিচার্জ, জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়লেও আন্দোলনকারীরা এখনও পর্যন্ত অহিংসার মন্ত্রেই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। তবুও কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে মঙ্গলবারও সুপ্রিমকোর্টের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে, প্রতিবাদীদের আড়ালে খালিস্তানি জঙ্গিরা আন্দোলন চালাচ্ছে। তারা আন্দোলনকারীদের মধ্যে অনুপ্রবেশ করেছে। প্রধান বিচারপতি এসএ বোবদের বেঞ্চ কেন্দ্রীয় সরকারকে এব্যাপারে হলফনামা দিতে বলেছে।

বুধবার সেই হলফনামা দেবেন বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল কেকে বেণুগোপাল। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা আইবি এই ব্যাপারে যে সমস্ত তথ্য দিয়েছে সেগুলি ওই হলফনামায় থাকবে। কৃষি আইনের সমর্থনে মামলাকারীর আইনজীবী হরিশ সালভে শীর্ষ আদালতকে বলেন, যাঁরা খালিস্তানের সমর্থনে মিছিল করছেন, তাঁরা প্রতিবাদস্থলে নিজেদের সংগঠনের পতাকাও তুলেছেন। এই অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে অ্যাটর্নি জেনারেলের মতামত জানতে চান প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, যদি কোনও নিষিদ্ধ সংগঠন আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করে থাকে এবং কেউ যদি সেই ব্যাপারে কোনও অভিযোগ করে থাকেন, তাহলে আপনাকে তার সত্যতা নিশ্চিত করতে হবে। আপনি আগামীকাল একটি হলফনামা দেবেন আদালতের কাছে। কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে কৃষকদের আন্দোলন শুরু হওয়ার সময় থেকেই প্রতিবাদীদের বিরুদ্ধে খালিস্তানি জঙ্গি, দেশদ্রোহী, চিন-পাকিস্তানের দালাল, টুকরে টুকরে গ্যাং, শহুরে নকশাল ইত্যাদি অভিযোগ তুলেছেন বিজেপির নেতামন্ত্রীরা। এর জবাবে কৃষক আন্দোলনে শামিল হওয়া বহু প্রাক্তন সেনা আধিকারিক ও জওয়ান জানান, তাঁরা দেশের জন্য যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুপক্ষের সঙ্গে লড়াই করেছেন। অন্নদাতারা কীভাবে জঙ্গি, দেশদ্রোহী হন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেসও।

- Advertisement -

মঙ্গলবার কংগ্রেস মুখপাত্র রণদীপ সিং সুরযেওয়ালা বলেন, খালিস্তানি যোগের অভিযোগ যখন উঠছে তখন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা-র তো উচিত তার তদন্ত করা। যারা দেশের অন্নদাতাদের মুখের গ্রাস কেড়ে নিচ্ছে তারাই প্রকৃত দেশদ্রোহী।