অর্থাভাবে ধান কেটে নিট পরীক্ষায় সফল খোকন

20017

হলদিবাড়ি: অর্থাভাব থাকলেও যে নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে ভর করে সাফল্যের দোরগড়ায় পৌঁছে যাওয়া যায়, তা ফের একবার প্রমাণ করে দেখাল হলদিবাড়ি ব্লকের হেমকুমারী গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বামন পাড়ার বাসিন্দা খোকন রায়। বাবা মার সঙ্গে অন্যের জমিতে দিনমজুরের কাজ করে অভীষ্ট লক্ষ্য পূরণ করতে পেরেছে খোকন। যেভাবে কষ্ট করে পড়াশোনা চালিয়েছে ও সর্বভারতীয় ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষায় নিট এ সাফল্য পেয়েছে তা দেখে তাকে বাহবা দেওয়ার ভাষাও অনেকে হারিয়ে ফেলেছেন। বসতঘর বলতে টিনের ছাপড়া দেওয়া দুটো কাঁচা ঘর। দুই বোন ও এক ভাই। বাবা সর্বেশ্বর রায় পেশায় একজন ভ্যান চালক সঙ্গে অন্যের জমিতে কৃষি শ্রমিকের কাজ করেন। মা কণিকা রায় সংসারের হাল ধরতে স্বামীর সঙ্গে অন্যের জমিতে দিনমজুরের কাজ করেন।

তাই পরিবারের অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী। তবুও ছেলের পড়াশোনায় বিন্দুমাত্র ক্ষতিসাধন করতে দিতে রাজি হননি সর্বেশ্বর। দিনভর হাড় ভাঙা খাটুনি করে উপার্জন করেন তিনি। ছোট থেকেই খোকনের পড়াশোনার প্রতি বিশেষ টান ছিল। তাই স্ত্রী সহ নিজে কঠোর পরিশ্রম করে ছেলের পড়াশুনা করাচ্ছেন। তাঁদের পরিশ্রমকে ব্যর্থ হতে দেয়নি খোকনও। ২০১৭ সালে দেওয়ানগঞ্জ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৫৯৯ নম্বর পেয়ে মাধ্যমিক পাস করে সে। সেসময় তাঁর উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে সাহায্যের জন্য উত্তরবঙ্গ সংবাদে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেই প্রতিবেদনের জেরে বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যক্তির কাছ থেকে সাহায্যেও পায় সে।

- Advertisement -

হলদিবাড়ি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২০১৯ সালে বিজ্ঞান বিভাগে ৪৩৬ নম্বর পেয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে। ২০২০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর নিট পরীক্ষায় বসে সে। গত ১৬অক্টোবর নিট পরীক্ষায় রেজাল্ট রের হলে দেখা যায় সে দেশের মধ্যে  ৯১৯৮১ নম্বর স্থান অধিকার করে। এসসি ক্যাটাগরিতে স্থান হয় ৩৯৮৭৩ নম্বরে। গত ১৩ নভেম্বর অনলাইনে কাউন্সিলিং হয়। এরপর ১৬ নভেম্বর উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে তাঁর সিট আলটম্যান্ট হওয়ার খবর জানানো হয়।

এদিকে ছেলে ডাক্তারি পড়ার সুযোগ পাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছে পরিবারটি। খোকনের বাবা সর্বেশ্বর বলেন, শুনেছি সরকারি কলেজে সুযোগ পাওয়ায় খরচ কম। কিন্তু তারপরেও যেটুকু খরচ হবে, সেই টাকা কি করে আসবে সে চিন্তায় রাতের ঘুম উবে গিয়েছে। এদিকে বুধবার দুপুরে খোকনের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, সে মাথায় ধানের বোঝা নিয়ে জমি থেকে বাড়ির দিকে আসছে। খোকন জানায়, নিত্য অভাব থাকায় জমিতে কাজ করে পড়াশোনার অর্থ যোগাই। বাবা মার ইচ্ছে অনুযায়ী ডাক্তারি পড়ার সুযোগ পেয়ে খুব ভাল লাগছে। ডাক্তারি পড়া শেষ করে গ্রামের দরিদ্র রোগীদের পরিষেবা দেওয়ার ইচ্ছে তাঁর। তাঁর সাফল্যে খুশি হয়ে এদিন তাঁকে ফুলের তোড়া ও মিষ্টির প্যাকেট দিয়ে সংবর্ধনা জানান গ্রিণ জলপাইগুড়ি নামে এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার দুই সদস্য প্রসেনজিৎ ঘোষ ও নূর আলম সরকার।