মোহনবাগান থেকে একঝাঁক ফুটবলার নিতে চান কিবু

363

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : মোহনবাগান থেকে বেশ কিছু ফুটবলারকে নিয়ে তিনি কেরালা ব্লাস্টার্সে যাচ্ছেন, একথা নিজেই জানিয়ে দিলেন কিবু ভিকুনা। বৃহস্পতিবার ইন্ডিয়ান সুপার লিগের তরফে এক লাইভ চ্যাট শো-এ এসে সাংবাদিক এবং সমর্থকদের প্রশ্নের জবাবে এই ইঙ্গিত দেন। তবে নংদাম্বা নাওরেম ছাড়া আর কারোর নাম বলেননি ভিকুনা।

দেশে ফিরে আপাতত নিয়মমাফিক হোম কোয়ারান্টিনে আছেন প্রাক্তন বাগান কোচ। তবে তারই মধ্যে যোগাযোগ রাখছেন ব্লাস্টার্স কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। দলগঠনের কাজ চলছে তাঁর পরিকল্পনামাফিক। যদিও এখনই ফুটবলারদের নাম জানাতে রাজি নন তাঁরা। তবে মোহনবাগান ফুটবলাররা এক ধাপ উপরের লিগে খেলার জন্য তৈরি কিনা জানতে চাইলে ভিকুনা বলেন, অবশ্যই ওরা তৈরি। যেমন নাওরেম মোহনবাগানে আমার কাছে এসেছিল ব্লাস্টার্স থেকেই। ফলে ওকে আবার পাচ্ছি। নাওরেম যেকোনও দলের সম্পদ। আরও কিছু ফুটবলারকে দেখতে পাবেন সমর্থকরা। যাঁদের নাম আমি এখনই বলতে পারছি না। কিন্তু যাঁরা আসছে তাঁরা সকলেই আইএসএল খেলার উপযুক্ত। ইতিমধ্যেই ভিপি সুহেরের সঙ্গেও চুক্তি করে ফেলেছে কেরালা ব্লাস্টার্স। এছাড়া জোসেবা বেইতিয়া ও ফ্রান গঞ্জালেজের সঙ্গেও কথাবার্তা পাকা বলে খবর। বার্থেলোমিউ ওগবেচের সঙ্গে চুক্তি বাড়িয়ে নেওয়া হয়েছে। ওগবেচে বা সন্দেশ ঝিংগানের মধ্যে একজনকেই হয়তো অধিনাযক হিসেবে বেছে নেবেন কিবু ভিকুনা। নিজের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে ভিকুনার বক্তব্য, মোহনবাগানে যোগ দেওয়ার পরে আমি জুনিয়ার দল থেকে কিছু ফুটবলার চেয়েছিলাম। সেখান থেকে প্রাক মরশুম প্রস্তুতিতে গিয়ে চারজনকে বেছে নিই। যাদের মধ্যে শেখ সাহিল এবং শুভ ঘোষ নিয়মিতদের মধ্যে ছিল। বাকি দুইজনও খেলেছে। আমার কাছে এটা অনেকবেশি গুরুত্বপূর্ণ। এখানেও চাইব, জুনিয়ার দল থেকে যেন ছেলেদের নিয়ে এসে কাজ করতে পারি। তবে এখনই প্রাক মরশুম নিয়ে কোনওরকম পরিকল্পনা করছি না, কারণ পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, কবে থেকে খেলাধুলো শুরু হবে, আন্তর্জাতিক উড়ান চালু হওয়ার ব্যাপার আছে, সব মিলিয়ে এখনই এই বিষয়ে কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে এটুকু বলতে পারি, তরুণ ফুটবলাররা আমার দলের সম্পদ হতে পারে।

- Advertisement -

এই প্রসঙ্গে তিনি নাওরেম ছাড়া কেপি রাহুল, জিকসন সিং এবং সাহাল আবদুল সামাদের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। এই প্রসঙ্গে ভিকুনার বক্তব্য, আমি যখন মোহনবাগানে আসি তার আগে দুই বছর আগের একটা ম্যাচের ভিডিও দেখেছিলাম। যেখানে কেপি রাহুলের একটা দুর্দান্ত দৌড়ে মোহনবাগানের আই লিগ জয়ে স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়। যা দেখে আমি কর্তাদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, ওকে সই করানো যায় কিনা? ওর গতি অসম্ভব ভালো। সাহালকে আমি দেশের অন্যতম সেরা ভারতীয় ফুটবলার বলে মনে করি। ওর খেলা দেখে আমি সত্যি মুগ্ধ। আশা করছি, সাহালকে সেরকম পরিবেশ দিতে পারব, যাতে ও নিজের সেরাটা মেলে ধরতে পারে। জিকসনও ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে নিজের জাত চিনিয়েছে। কিবুর বক্তব্যেই পরিষ্কার, ইতিমধ্যে তিনি মোহনবাগানের ফেলে যাওয়া শেখ সাহিলের মতো ফুটবলারদের পরিবর্ত নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছেন। কারণ এই লাইভ চ্যাটের শুরুতেই তিনি জানিয়ে দেন, কেরালা ব্লাস্টার্সে তাঁর ফুটবল দর্শন সেই একই থাকছে ।