কোচবিহার : এখন যেখানে কোচবিহার বিমানবন্দর, সেখানে একসময় মহারাজাদের পোলো খেলার মাঠ ছিল। ওই মাঠের পাশে ছিল কোচবিহার স্টেট সুপারিন্টেন্ডেন্টের বাংলো। পরবর্তীকালে ওই মাঠে বিমান নামার ব্যবস্থা করা হয়। ১৯৩৬ সালে কোচবিহারে প্রথম বিমান নেমেছিল। কোচবিহার মহারাজার দুটি বিমান ছিল। সেগুলি টিনের শেড দেওয়া ঘরে রাখা হত। ওই ঘরগুলি কিংস হ্যাঙ্গার নামে পরিচিত ছিল। বর্তমানে অবশ্য ওই টিনের শেড দেওয়া ঘর নেই। তার বদলে পাকা ঘর উঠেছে। বিমানবন্দর ও কিংস হ্যাঙ্গার এলাকা জেলা প্রশাসনের হেরিটেজ তালিকায় স্থান পেয়েছে।

১৯৩৬ সালে মহারানি ইন্দিরাদেবীর বন্ধু তথা হলিউড অভিনেতা ডেভিড ফেয়ারব্যাংকস বিমানে চড়ে কোচবিহারে আসেন। সেসময় বিমান দেখতে জেনকিন্স স্কুলের অনেক ছাত্র বিমানবন্দরে গিয়েছিল। মহারানি ইন্দিরাদেবীরও বিমানে চড়ার শখ ছিল। ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে ইংরেজ সরকার কোচবিহার বিমানবন্দরে সামরিক ঘাঁটি তৈরি করেছিল। কোচবিহারের মহারাজা জগদ্দীপেন্দ্রনারায়ণকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লাইং ক্লাবের সদস্যরা এল৪ বিমান উপহার দিয়েছিলেন। ১৯৪৯ সালে মহারাজা জগদ্দীপেন্দ্রনারায়ণের রাজত্বের রজতজয়ন্তী বর্ষ উপলক্ষ্যে বিমানবন্দরের মাঠে ঘোড়া, হাতি ও গোরুর গাড়ির দৌড় প্রতিযোগিতা হয়েছিল।

- Advertisement -

ভারতীয় ইতিহাসে অনেক বিখ্যাত ব্যক্তি কোচবিহার বিমানবন্দরে এসেছিলেন। ১৯৮৪ সালে বন্যার সময় এসেছিলেন জওহরলাল নেহরু। এছাড়া উদয় শংকর, মমতা শংকর, ইন্দিরা গান্ধি ও ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ে মতো ব্যক্তিত্ব এখানে এসেছিলেন। ভারতভুক্তি চুক্তির পর ভারত সরকারের উদ্যোগে নিয়মিত কোচবিহারে বিমান যাতায়াত করত। কিন্তু ১৯৯৫ সালে বায়ুদূত বিমানের একটি দুর্ঘটনার পর তা বন্ধ হয়ে যায়। ওই বিমানটি অবতরণের সময় রানওয়ে থেকে পিছলে যাওয়ায় সেটির চাকা মাটিতে ঢুকে যায়। তবে বিমানের যাত্রীরা সুরক্ষিত ছিলেন। ওই বিমানটি কিংস হ্যাঙ্গারে রেখে দেওয়া হয়েছিল। এরপর মাঝেমধ্যে বিমান পরিসেবা চালু হলেও তা বন্ধ হয়ে যায়।

কোচবিহার আর্কাইভের সভাপতি ঋষিকল্প পাল বলেন, মহারাজা জগদ্দীপেন্দ্রনারায়ণের এল৪ বিমানটি ফ্লাইং ক্লাবের সদস্যরা উপহার দিয়েছিলেন। অপর বোনানজা বিচক্রাফট বিমানটি তিনি নিজে কিনেছিলেন। দুটি বিমানই কিংস হ্যাঙ্গারে রাখা হত। এখন এ সবই ইতিহাস।