শুভজিৎ দত্ত  নাগরাকাটা : হাঁটুর ওপর থেকে দুই পা বাদ যাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার অ্যাথলিট অস্কার পিস্টোরিয়াসকে চেনেন না নাগরাকাটার মংরুপাড়ার কিরণ কাশেরা। জানেন না ভারতীয় নৃত্যশিল্পী সুধা চন্দ্রনের জীবনের কথাও। ছোটোবেলায় এক পা খোয়ানো বছর উনিশের ওই যুবক অবশ্য নিজে যা করছেন তা অন্য যেকোনো জীবনসংগ্রামের কাহিনিকে হার মানাবে। যাবতীয় প্রতিবন্ধকতাকে হেলায় উড়িযে দিয়ে ক্রাচে ভর করে রোজ ট্রাকে ইট বোঝাই করেন তিনি। যা আয় হয় তা দিযে বাঁচিয়ে রেখেছেন বৃদ্ধ মা-বাবা সহ চার ভাইবোনকে।

কিরণের বাবা ভোলা কাশেরা একসময় বাড়ি বাড়ি ঘুরে শিলনোড়া ধার করার কাজ করতেন। গুঁড়ো মশলা আর মিক্সি মেশিনের দাপটে সেই রোজগার হারানোর পর থেকে তিনি এখন বেকার। বার্ধক্যের কারণে চলাফেরার শক্তিও আগের মতো নেই। তাই বাড়িতেই দিন কাটে বৃদ্ধের। মা লায়লা কাশেরা আটপৌরে গৃহবধূ। পাঁচ সন্তানের মধ্যে কিরণই সবচেয়ে বড়ো। বাকি চারজনের নাম রোহিত, অঞ্জলি, ঋদ্ধি ও সিদ্ধি।

খুব ছোটোবেলায় আগুনে পুড়ে কিরণের ডান পা বাদ যায়। তারপর থেকে শুধুমাত্র বাঁ পায়ের ওপর ভর দিযে তাঁর পথ চলা শুরু। বাড়ি থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরের নাগরাকাটা হিন্দি হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক পাস করেন। এরপর অনটনের কারণে আর পড়াশোনা চালিযে যেতে পারেননি। ওই যুবকের কথায়, বাবার রোজগার শূন্য। ৪ জন ছোটো ছোটো ভাইবোন। এমন পরিস্থিতিতে সবার পেট চালাতেই এই কাজে ঢোকা। দিনের শেষে যা আয় হয় তা দিযে চাল-ডাল কিনে ঘরে গেলে তবেই উনুনে হাঁড়ি চড়ে। কষ্ট তো হয়। কিন্তু, পরিবারকে তো বাঁচাতে হবে। কথা শেষ করার আগেই চোখের কোণ চিকচিক করে ওঠে। নিজেকে সামলে নিযে প্রতিবেদকের  কাছে কাতর অনুরোধ, স্যর যদি কোনোভাবে সাহায্য করেন তবে খুব উপকার হয়।

কিরণ জানিযেছেন, ট্রাকে ইট বোঝাই করে কোনোদিন দেড়শো, কোনোদিন দুশো টাকা মেলে। যেদিন কাজ জোটে না সেদিন খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয়। আধপেটা খেয়ে কাটিযে দেয় পরিবারটি। ছেলেটিকে রোজই দেখেন সুলকাপাড়ার সাহেব আলি। তিনি বলেন, যত দেখি তত অবাক হই। প্রকৃত অর্থেই কিরণ এক দৃষ্টান্ত। নাগরাকাটার বিডিও স্মৃতা সুব্বা বলেন, ওই যুবক যদি বিশেষভাবে সক্ষমদের মানবিক প্রকল্পের জন্য আবেদন করেন তবে দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে।