ধোনিকে খেলাতে সৌরভকে দশ দিন বোঝাতে হয়

নয়াদিল্লি : সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ২০০৪-এ আন্তর্জাতিক অভিষেক।

বাকিটা ইতিহাস নিজের হাতেই তৈরি করেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। দেশের জার্সি গায়ে ওঠার ক্ষেত্রে দলীপ ট্রফির ফাইনাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। যেখানে জাতীয় দলের উইকেটকিপার দীপ দাশগুপ্তকে সরিয়ে খেলেছিলেন মাহি।

- Advertisement -

এরজন্য সৌরভকে দিন দশেক ধরে বোঝাতে হয়। প্রথমে রাজি হননি মহারাজ। দীপে আস্থা রাখেন। শেষপর্যন্ত মত বদলে মাহিকে খেলাতে রাজি হন! তৎকালীন নির্বাচক কমিটির প্রধান কিরণ মোরে এদিন বলেন, এক সহকর্মীর মুখে এমএসের কথা শুনে ওর একটা ম্যাচ দেখতে যাই। যেখানে দলের ১৭০-এর মধ্যে ওর একারই ছিল ১৩০। প্রতিপক্ষের কোনও বোলারকে রেহাই দেয়নি। আমরা চাইছিলাম দলীপের ফাইনালে দীপের বদলে ওকে উইকেটকিপার হিসেবে খেলাতে। এনিয়ে সৌরভ ও দীপের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয়। প্রায় দিন দশেক লাগে সৌরভকে বোঝাতে।

বিশ্ব ক্রিকেটে তখন গিলক্রিস্ট-যুগ। সময়ে দাবি মেনে ভারতও খুঁজছিল গিলির মতো বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান-উইকেটকিপার। আর সেই খোঁজের ফসল রাঁচি থেকে বিশ্ব ক্রিকেটের মাহির পা রাখা। কিরণ বলেন, এমন একজন উইকেটকিপার চাইছিলাম, যে বিগহিট নিতে পারে। ওইসময় সংক্ষিপ্ত ফর্ম্যাটে খেলার ধরন বদলাচ্ছিল। তার সঙ্গে মানানসই একজনকে দরকার ছিল, যে ৬-৭ নম্বরে নেমে দ্রুত ৪০-৫০ রান করে দিতে পারে। ধোনির মধ্যে যে রসদ দেখেছিলাম। ফাইনালে ধোনি সফল। পরবর্তী এ দলের হয়ে কেনিয়া সফরে দুরন্ত পারফরম্যান্সের পর জাতীয় দলে ডাক।

মাঠে হোক মাঠের বাইরে বারবার চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন ধোনি। ব্যাট হোক বা মুখ, যোগ্য জবাব দিয়েছেন সমালোচকদের। একজন যেমন লিখেছিলেন, আমি নিশ্চিত, অনেক মানুষই ওকে ঘৃণা করে, তা জানে এমএস ধোনি। এই তালিকায় আমিও একজন। কয়েকটা শব্দেই যার জুতসই জবাব দেন ধোনি। জবাবে লেখেন, তুমি আমাকে পছন্দ করো না ঠিক আছে। কিন্তু ঘৃণা বড্ড বেশি কড়া শব্দ। যাইহোক, এটা তোমার পছন্দ। আমার কোনও অভিযোগ নেই।