সোনা পাচারের করিডর এখন কিশনগঞ্জ

201

শক্তিপ্রসাদ জোয়ারদার, কিশনগঞ্জ : কিশনগঞ্জ করিডর দিয়ে বাংলাদেশ থেকে চোরাচালান হয়ে আসা সোনা দেশের বিভিন্ন রাজ্যে পাচার হচ্ছে। বিশ্বস্ত সূত্রে সেকথাই জানা যাচ্ছে। উত্তর দিনাজপুর ও কিশনগঞ্জ পুলিশসূত্রে খবর, এই সোনা পাচারের কিংপিন কিশনগঞ্জের সোনারপট্টির জনৈক স্বর্ণ ব্যবসায়ী অমর পাতিল। যদিও অমর পাতিল পলাতক বলে জানাচ্ছে দুই রাজ্যের পুলিশ।

সূত্রের খবর, গত বছর ২২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সীমান্তের এপারে গোয়ালপোখর থানার আইসি বিশ্বনাথ মিত্র সোনার বিস্কুট সহ এক স্বর্ণপাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেন। ধৃত ব্যক্তি পুলিশের জেরায় জানায়, বেশ কিছুদিন ধরে সে চোরাই সোনা কিশনগঞ্জের সোনারপট্টির স্বর্ণ ব্যবসায়ী অমর পাতিলকে বিক্রি ও সরবরাহ করে আসছে। আরও অনেকেই এই কাজ করে। এই ঘটনায় গোয়ালপোখর থানায় ধৃতের বিরুদ্ধে ৩২০/২০ নম্বরে এফআইআর দায়ের করা হয়। এই অভিযোগ ও জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে গোয়ালপোখর থানার পুলিশ নতুন বছরের প্রথম দিন কিশনগঞ্জে পাতিলের সোনার অলংকারের দোকান ও সোনা গলানোর ভাটিতে হানা দেয়। কিন্তু অমর পাতিল পালিয়ে যায়। গোয়ালপোখর থানার পুলিশ সেখান থেকে পাতিলের অতিবিশ্বাসী কর্মী মাহমুদ আলমকে আটক করে। অভিযোগ, কিশনগঞ্জ সদর থানায় ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদের পর গোয়ালপোখর থানার পুলিশ ব্যক্তিগত মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়। যদিও গোয়ালপোখর থানার পুলিশের অভিযোগ, কিশনগঞ্জের পুলিশের অসহযোগিতা আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে ধৃতকে পশ্চিমবঙ্গের থানায় আনা যায়নি। যদিও কিশনগঞ্জ সদর থানার আইসি অশ্বিনী কুমার এই অভিযোগ অস্বীকার করেন।

- Advertisement -

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে ইসলামপুর পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের তৎকালীন অফিসার, বর্তমানে গোয়ালপোখর থানার আইসি বিশ্বনাথ মিত্র কিশনগঞ্জ সদর থানার তৎকালীন আইসি আফতাব আহমেদের সাহায্যে বর্তমানে পলাতক অমর পাতিলের সোনার ভাটিতে হানা দিয়ে সোনার বিস্কুট সমেত অমরকে গ্রেপ্তার করে ইসলামপুর  থানায় নিয়ে যান। সেই মামলায় অমর বেশ কিছুদিন ইসলামপুর জেলে বন্দি ছিলেন। পরে তিনি আদালত থেকে জামিন পান। এবারও গোয়ালপোখর থানায় পলাতক অমরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। সূত্রে জানা গিয়েছে, পলাতকের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে সোনা স্মাগলিং সংক্রান্ত প্রচুর সাক্ষ্য প্রমাণ রয়েছে।

এদিকে কিশনগঞ্জের পুলিশ ও শুল্ক দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কয়েক দশক ধরে কিশনগঞ্জ করিডর দিয়ে বিদেশ থেকে পাচার হয়ে আসা সোনা দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার হচ্ছে। আবার মহারাষ্ট্র থেকে আসা সোনা গলানোর প্রচুর কারিগর কিশনগঞ্জ, বাহাদুরগঞ্জ, বিশুনপুর সহ বেশ কিছু জায়গায় সোনা গলানোর ভাটি তৈরি করেছেন। তাঁরা সপরিবারে এসব এলাকায় বসবাস করছেন। কিন্তু এই কারিগররা এক শহরে বেশিদিন থাকেন না। মহকুমা পুলিশ আধিকারিক আনোয়ার জাভেদ আনসারি জানান, পুলিশ পাচারকারী ও লাইনারদের ওপর তীক্ষ্ন নজর রেখেছে। সাম্প্রতিক ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।