১১৯ বছরে পা কিশনগঞ্জের বুড়িকালীর পুজোর

109

কিশনগঞ্জ: কিশনগঞ্জ শহরের লাইনপাড়ার শতাব্দী প্রাচীন বুড়িকালী মন্দিরের পুজো এইবছর ১১৯ তম বর্ষে পড়ল। কথিত আছে লোকেবলে কিংবদন্তী বুড়িমা মহাজাগ্রত। ১৯০২ সালের কার্তিকী অমানিশায় মন্দিরের পুজো শুরু হয়েছিল। শতাব্দী প্রতীন এই মন্দিরে একসময়ে নিশি মায়ের পুজো হতো, ছাগবলিও হতো। আজও সেই ধারা বর্তমান। সেইদিনের টিনের চালার মন্দির আজ সুরম্য বিশাল আকাশচুম্বী মন্দিরে পরিণত হয়েছে। এখানে তন্ত্রমতে মা দক্ষিণাকালির পুজো হয়। কিন্তু মাতৃ প্রতিমা এই মন্দিরে মৃন্ময়ী। বংশ পরম্পরায় নিমাই পাল প্রতিমা গড়ে চলেছেন। অপরদিকে চার প্রজন্ম ধরে এই মন্দিরের সেবায়েত ভট্টাচার্য পরিবার।

পুজো কমিটির সভাপতি জানিয়েছেন, মন্দিরে ভক্তরা নিজেরাই চাঁদা দিয়ে যান। এই চাঁদা দিয়েই মন্দিরে পুজো হয়। এবছর নিশি মায়ের পুজোর বাজেট তিন লাখ তিনশো এক টাকা। প্রতিবছরই কার্তিকী অমানিশার পুজোর আগের দিন সারাবছর পূজিতা মৃন্ময়ী প্রতিমা স্থানীয় রমজান বা ডক নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয়। আর কার্তিকী অমানিশার সন্ধ্যায় মন্দিরের বেদীতে নতুন মৃন্ময়ী প্রতিমা স্থাপিত করা হয়।

- Advertisement -

মন্দিরের সম্পাদক অমিত কুমার দাস জানিয়েছেন, ভক্তরা মনস্কামনা পূরণের জন্য মন্দিরে মৃন্ময়ী প্রতিমা দান করেন। এই মুহূর্তে ২০৪২ সাল পর্যন্ত ভক্তরা প্রতিমা দান করেছেন। প্রত্যেক প্রতিমা দাতার নাম রেজিস্টারে নথিবদ্ধ রয়েছে। অনেকে বুড়ী কালিমাকে বলির ছাগ, সোনা রুপোর অলঙ্কারও দিয়ে থাকেন। কার্তিকী অমাবস্যার পুজোর পরের দিন, এই মন্দিরে অন্নকূট উৎসব পালন করা হয়। এবছর কোভিড বিধিনিষেধ মেনেই পুজোর আয়োজন করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, মন্দিরের নিশি পুজোর দিন সকালে নতুন প্রজন্মের বেকার যুবকরা মন্দিরের বেদী ও মন্দির পরিষ্কার করেন। কারণ বিশ্বাস, নিশি পুজোর দিন মন্দির ও বেদী পরিস্কার করলে, বেকাররা চাকরী পায় বা জীবনে সফল হয়।