আইসির মৃত্যুতে পরিকল্পিতভাবে খুনের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

151

কিশনগঞ্জ: দুষ্কৃতীদের ধরতে গিয়ে প্রাণ হারালেন বিহারের কিশনগঞ্জ সদর থানার আইসি অশ্বিনী কুমার। জানা গিয়েছে, ইসলামপুর পুলিশ জেলার অধীন গোয়ালপোখর থানার পাঞ্জিপাড়া পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় দুষ্কৃতীদের ধরতে অভিযান চালায় পুলিশ। আইসিকে লক্ষ্য করে দুষ্কৃতীদের একাংশ বিহার পুলিশের ওপর চড়াও হয়। সেই সময় আইসি গণপিটুনির শিকার হন বলে জানা গিয়েছে। এতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে উদ্ধার করে তড়িঘড়ি ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো আসা হয়। সেখানে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

আইসির মৃত্যুর ঘটনার পর থেকেই একের পর এক প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। মৃত আইসির ভাই প্রবীণ কুমারের অভিযোগ, ‘অভিযানের সময় কিশনগঞ্জ পুলিশের আরও একটি দল থাকতেও কেন অশ্বিনীবাবুকে রক্ষা করতে পারল না? অশ্বিনীবাবুকে দুষ্কৃতীদের গণপিটুনির শিকার হতে দেখেও সেখান থেকে কেন পালিয়ে গেল পুলিশের ওই দলটি? শুধু তাই নয়, পাঞ্জিপাড়ায় অভিযান চালানোর কথা আগে থেকে কেন পশ্চিমবঙ্গ পুলিশকে জানায়নি কিশনগঞ্জ পুলিশ?’ পরিকল্পিত ভাবে আইসিকে খুন করা হয়েছে বলে মনে করছেন তাঁরা। যদিও কিশনগঞ্জ পুলিশের তরফে এব্যাপারে কোনও কিছুই মন্তব্য করা হয়নি।

- Advertisement -

ঘটনার পরই কিশনগঞ্জের পুলিশ সুপার কুমার আশিস জেলা পুলিশের কর্তাদের নিয়ে ইসলামপুর হাসপাতালে যান। শনিবার সকলে ইসলামপুরে যান পূর্ণিয়া জোনের আইজি সুরেশ কুমার চৌধুরীও। ঘটনা প্রসঙ্গে আইজি বলেন, ‘দুষ্কৃতীদের ধরতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার হন অশ্বিনীবাবু। পরে ইসলামপুর হাসপাতালে মারা যান তিনি। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ।’

অপরদিকে, ময়নাতদন্তের পর আইসির দেহ কিশনগঞ্জ পুলিশ লাইনে আনা হয়। সেখানে প্রয়াত আইসিকে গান স্যালুট ও গার্ড অফ অনার দেওয়া হয়। তবে মৃতদেহ আটকে রেখে এই মৃত্যুর তদন্তের দাবিতে সরব হন পরিবারের সদস্যরা। পরে তাঁদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন আইজি। মৃত আইসির পরিবারের লোকেদের ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করার আশ্বাস দেন। ঘটনার তদন্তে এসআইটি গঠন করে তদন্ত শুরু করার পাশাপাশি, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের কর্তাদের সঙ্গে এনিয়ে বিশেষ বৈঠক করবেন বলেও জানান আইজি। তাঁর আশ্বাসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এরপরই আইসির দেহ নিয়ে কনভয় সহ রওনা হয়।