শতবর্ষের মুখেও সমান উদ্যমী কিশোরী দাস

জলপাইগুড়ি : বয়স একশো ছুঁইছুঁই। অথচ এখনও নিয়ম করে পতাকা হাতে দলীয় মিছিলের পুরোভাগে হাঁটেন তিনি। এমনকি দুর্দিনে দলের পাশে থাকার জন্য কর্মীদের সাহসও জোগান। এমনই পরিচিতি জলপাইগুড়ির কিশোরী দাসের। কংগ্রেস কর্মী কিশোরীবাবুর সম্মানে মাথা নীচু করেন সব রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরাই।

পেশায় মুচি কিশোরী দাস শৈশবেই বিহার থেকে জলপাইগুড়িতে এসেছিলেন। এখন তাঁর বাস শহরের নযাবস্তি এলাকার একচিলতে ঘরে। সেখানে বসেই জুতো সারাই করেন তিনি। পাশাপাশি কংগ্রেসের যাবতীয় কর্মসূচিতে হাজির থাকেন তিনি। দলের অনেক শীর্ষনেতাই তাঁর কথা জানেন, নিয়মিত খোঁজ নেন তাঁরা। কিশোরী দাস জানালেন, যতদিন বাঁচবেন ততদিন কংগ্রেসের কথা মানুষের কাছে তুলে ধরবেন। বর্তমানে কংগ্রেসকে ক্ষয়িষ্ণু শক্তি বলতে তিনি নারাজ। তাঁর দাবি, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবেই। নির্বাচনি বিপর্যয় হলেও দল আবার ঘুরে দাঁড়াবেই। কংগ্রেসের ছাত্র-যুব সংগঠনের কর্মীদের কাছে বারেবারে বলি, রাজনীতিতে হতাশার কোনো জায়গা নেই। তিনি বলেন, পুরসভা, জেলাশাসকের দপ্তর এবং শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে আমি পুরোভাগেই থাকব। কংগ্রেসের কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এই বয়সে আরও বেশি উজ্জীবিত হই। রাজ্যে চার দশকের বেশি সময় কংগ্রেস ক্ষমতায় নেই। কেন্দ্রেও আমরা ক্ষমতায় নেই। মানুষের কথা বিরোধী মঞ্চ থেকে বেশি করে বলার সুযোগ আছে। সেই সুযোগকেই কাজে লাগাব।

- Advertisement -

বর্ষীয়ান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কিশোরী দাসের প্রশংসা শোনা গিয়েছে অন্য রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের মুখেও। সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য প্রদীপ দে বলেন, আদর্শগতভাবে কংগ্রেসের সঙ্গে আমাদের মতপার্থক্য আছে। কিন্তু একজন কংগ্রেস কর্মী হিসেবে কিশোরীবাবু তাঁর রাজনৈতিক আদর্শকে যেভাবে লালন করছেন, তা প্রশংসার যোগ্য। আরএসপির জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য প্রকাশ রায় বলেন, বর্তমানে রাজনৈতিক মূল্যবোধযুক্ত লোকের সংখ্যা ক্রমেই কমে যাচ্ছে। কিশোরীবাবু সেখানে একটি ব্যতিক্রমী চরিত্র। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা দুলাল দেবনাথও কিশোরী দাসের উদ্যমের প্রশংসা করেছেন। অন্যদিকে জলপাইগুড়ি জেলা কংগ্রেসের সভাপতি নির্মল ঘোষদস্তিদার বলেন, কিশোরীবাবু আমাদের অভিভাবকসম। এখনও দলের প্রতিটি কর্মসূচিতে শামিল হন তিনি। তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করি আমরা।