আযুষ্মান চক্রবর্তী, আলিপুরদুয়ার : এক সময় শীতের দুপুরে রংবেরংয়ে ঘুড়ি আকাশে উড়ত। আকাশের দিকে তাকালে দেখা যেত, পেটকাটি, চাঁদিয়াল সহ বিভিন্ন ধরনের ঘুড়ি যেন ডানা মেলে উড়ছে। অনেকেই রয়েছেন যাঁরা শৈশবের দিনগুলিতে সুযোগ পেলেই মাঠে ছুটে যেতেন লাটাই হাতে। বন্ধুবান্ধব মিলে চলত ঘুড়ি ওড়ানোর প্রতিযোগিতা। মাঠ অথবা রাস্তার পাশ দিয়ে গেলেই দেখা যেত, কচিকাঁচারা লাটাই হাতে ঘুড়ি ওড়াচ্ছে। আর মাঝেমধ্যেই শোনা যেত ভোকাট্টা…। সে সব যেন এখন কোথায় উধাও হয়ে গিয়েছে। আধুনিকতার ছোঁয়ায় শিশু-কিশোরদের হাতেও এখন অ্যান্ড্রয়েড ফোন। তারা এখন ভুলতে বসেছে ঘুড়ি ওড়ানো।

অভিভাবকদের বক্তব্য, বাচ্চারা সকালে স্কুলে যায়। ফিরতে ফিরতে সেই সন্ধ্যা। ফলে ছোটোরা এখন ঘুড়ি ওড়ানোর মতো সময় পায় না। যেটুকু সময় পায় তা ছোটোরা মোবাইলে গেম খেলতেই স্বচ্ছন্দ বোধ করে। আলিপুরদুয়ার শহরে হাতেগোনা দুএকজন ঘুড়ি বিক্রেতা রয়েছেন। তাঁদের গলায় কিছুটা হতাশার সুর। শহরের নিউটাউন এলাকার ব্যবসায়ী প্রফুল্ল পাল বলেন, আগে বিভিন্ন রকমের ঘুড়ি বিক্রি করতাম। কিন্তু এখন আর কেউ ঘুড়ি কিনতে আসে না। তাই আর বিক্রি করি না।

যুধিষ্ঠির বর্মন নামে এক যুবক বলেন, কিশোর বয়সে আমি বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে নীল আকাশে লাটাই হাতে ঘুড়ি ওড়াতাম। ওই মুহূর্তগুলি আনন্দদায়ক ছিল। কিন্তু পড়াশোনার চাপ ও মোবাইলের কারণে আজ ঘুড়ি ওড়ানো ভুলতে বসেছে নবীন প্রজন্ম। কখনও কাউকে ঘুড়ি ওড়াতে দেখলে ছুটে যাই, তার কাছ থেকে লাটাই নিয়ে ঘুড়ি ওড়াই। সেসময় মনে হয়, যেন শৈশবের সেই দিনগুলি আবার ফিরে এসেছে। ডাঃ যুধিষ্ঠির দাস জানান, বাচ্চারা মোবাইলের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে। এতে তাদের মানসিক বিকাশ হচ্ছে না।