ভুটানে নতুন করে ক্যাম্প করতে মরিয়া কেএলও

2872

জলপাইগুড়ি : কেএলও চিফ জীবন সিংহ ভুটানের জঙ্গলে নতুন করে ক্যাম্প স্থাপনের জন্য মরিয়া। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, কেএলওর থিংক ট্যাংক মনে করছে, ভুটানে ক্যাম্প করতে পারলে পশ্চিমবঙ্গে জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার জেলায় অপারেশন করার ক্ষেত্রে সুবিধা হবে। দীর্ঘদিন ধরে উত্তরবঙ্গ থেকে কেএলও রিক্রুটমেন্ট হয়নি। কেএলওর সদস্যসংখ্যা আগের তুলনায় হুহু করে কমে যাওয়ায় জীবন সিংহের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। উত্তরবঙ্গ থেকে কেএলও চিফ নতুন করে রিক্রুটমেন্ট করতে চাইছেন।

এরাজ্যে যাতায়াত করতে ভুটানের কালীখোলা রুটকেই জঙ্গিরা বেশি ব্যবহার করত। আবার অসম থেকে সংকোশ নদী পেরিয়ে নিউল্যান্ডস, সংকোশ চা বাগান এলাকা দিয়ে তারা রাজ্যে ঢুকত। সেই কথা মাথায় রেখেই গোয়েন্দারা সীমান্ত এলাকায় বিশেষ নজরদারি রেখেছেন। ইতিমধ্যেই অসম-বাংলা সীমান্তে আলিপুরদুয়ার জেলার বারবিশাকে আউটপোস্ট থেকে থানায় উন্নীত করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় রাজ্য পুলিশ ব্যাপকভাবে মোতায়েন করা হয়েছে। পুরোনো রুট ছেড়ে কেএলও এরাজ্যে যাতায়াতে নতুন কোনও রুট ব্যবহার করে কি না, সেদিকেও নজর রাখা হয়েছে। জীবন সিংহের আদি বাড়ি কুমারগ্রামে। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, কুমারগ্রাম থেকে কেএলওর  জঙ্গি শিবিরে যুবকদের নিয়ে গিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন জীবন। পুরোনো কেএলও জঙ্গিদের অনেকে মূলস্রোতে ফিরে আসায় জীবন সিংহ অনেকটাই ধাক্কা খেয়েছেন। তাই নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে মরিয়া হয়ে অসম এবং পশ্চিমবঙ্গে কোনও বড় অপারেশন করতে চাইছেন কেএলও চিফ।

- Advertisement -

নতুন করে কেএলওর তৎপরতার খবরে উদ্বিগ্ন রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি ব্যবসায়িক মহল এবং সাধারণ মানুষ। সিপিএমের জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক সলিল আচার্য বলেন, অবিভক্ত জলপাইগুড়ি জেলায় কেএলও জঙ্গিদের আক্রমণে আমাদের দলের বহু কমরেডের রক্ত ঝরেছে। ধূপগুড়িতে সিপিএম পার্টি অফিসে কেএলও জঙ্গিরা গুলি চালিয়ে আমাদের নেতাদের হত্যা করেছে। কুমারগ্রামের নেতা প্রাণেশ পাল কেএলও জঙ্গিদের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন। কেএলও জঙ্গিদের মোকাবিলায় ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। কংগ্রেসের নির্মল ঘোষদস্তিদার বলেন, কেএলও জঙ্গিরা বিচ্ছিন্নতাবাদী। এই বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে নিয়ে সচেতনতামূলক প্রচার করব। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করব কেএলও জঙ্গিদের পুরোনো রুটগুলিতে সতর্ক দৃষ্টি রাখার। তৃণমূল কংগ্রেসের জলপাইগুড়ি জেলার মুখপাত্র দুলাল দেবনাথ বলেন, রাজ্য সরকার প্রাক্তন কেএলও জঙ্গিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছে। ইতিমধ্যে অনেকেই হোমগার্ড বা অন্য দপ্তরেও চাকরি পেয়েছেন। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছেন।

নর্থবেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের কোষাধ্যক্ষ কিশোর মারোদিয়া বলেন, অতীতে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জঙ্গিরা টাকা আদায় করেছে, ব্যবসায়ীদের অপহরণ করেছে। এই পরিস্থিতির যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। ক্ষুদ্র চা বাগিচা সমিতির সর্বভারতীয় সভাপতি বিজয়গোপাল চক্রবর্তী বলেন, কেএলও জঙ্গি গোষ্ঠীকে ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে। আমাদের প্রশাসন তত্পর রয়েছে। আশা করব কেএলও উত্তরবঙ্গে মাথাচাড়া দিতে পারবে না। সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে প্রশাসন।