রণজিত্ বিশ্বাস, রাজগঞ্জ : রাজগঞ্জে রাজ্য সরকারের তৈরি কর্মতীর্থে কারও কর্মসংস্থান না হলেও জায়গাটিকে ভাড়ায় খাটানো হচ্ছে। কর্মতীর্থটির বেশ কয়েকটি ঘরে অনেকে ভাড়া থাকছেন। এনিয়ে আমবাড়ি-ফালাকাটা কর্মতীর্থ সমবায় সমিতি ও জেলা শিল্পকেন্দ্র (ডিআইসি)-র মধ্যে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। সমিতির সভানেত্রী পূর্ণিমা বিশ্বাস বলেন, বেশ কয়েকজন কর্মতীর্থে থাকছেন। ডিআইসি-র তরফে তাঁদের এখানে থাকতে দেওয়া হয়েছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন। এনিয়ে আমরা ডিআইসি-র সঙ্গে যোগাযোগ করি। সেখান থেকে বলা হয় ওই বাসিন্দাদের জন্য কর্মতীর্থটিতে একটি ঘর দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ওই বাসিন্দারা এখানে বেশ কয়েটি ঘরেই থাকছেন। পূর্ণিমাদেবীর দাবি, কর্মতীর্থের বিষয়ে তাঁদের সঙ্গে ছয় বছরের চুক্তি হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, তাহলে আমাদের না জানিয়ে ডিআইসি কী করে সেখানে ভাড়াটে বসায়? রাজগঞ্জের বিডিও এন সি শেরপা বলেন, কর্মতীর্থটি কেন বন্ধ এবং কারা সেখানে ভাড়ায় থাকছেন তা ডিআইসি বলতে পারবে। ডিআইসি-র জেনারেল ম্যানেজার চন্দন পাল বলেন, ওই কর্মতীর্থে কে বা কারা ভাড়ায় থাকছেন তা জানা নেই। দপ্তর থেকে কাউকে সেখানে থাকতে বলা হয়নি। কর্মতীর্থের চাবি সমিতির কাছে থাকে। তাহলে ঘর খুলে দিল কে তা সমিতিই বলতে পারবে।

হস্তশিল্পীদের স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে ২০১৬ সালে রাজগঞ্জের মগরাডাঙ্গিতে আমবাড়ি-ফালাকাটা ক্ষুদ্র শিল্পতালুকে একটি কর্মতীর্থ গড়ে তোলা হয়। সেখানে ৩০ জন বিভিন্ন শিল্পকর্ম ও দোকান চালু করলেও এই বাজারটি কোনো দিনই সেভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারেনি। এখানে পুঁতি, উল, বাঁশের কাজ, দর্জি, ফাস্টফুডের দোকান, বিউটি পার্লার প্রভতি রয়েছে। কিন্তু চার বছরে কর্মতীর্থটি টানা তিন মাসও সচল থাকেনি। প্রায় দেড় বছর থেকে এটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে রয়েছে। বাজার চত্বরটি জঙ্গলে ভরে গিয়েছে। কিন্তু দেখভালের কেউ নেই। যে ৩০ জন এই কর্মতীর্থে স্টল নিয়েছেন তাঁদের বেশিরভাগই মহিলা। স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও তা পূরণ না হওয়ায় তাঁরা বেশির ভাগই ভেঙে পড়েছেন। আমবাড়ি-ফালাকাটা কর্মতীর্থ সমবায় সমিতির সভানেত্রী বলেন, বিশাল এলাকা নিয়ে প্রাচীর দেওয়া শিল্পতালুকের জমির মধ্যে এখনও কোনো শিল্প গড়ে ওঠেনি। শুধু ঝোপজঙ্গল আর গোচারণভূমি। সেই শিল্পতালুকের ভিতরে কর্মতীর্থটি তৈরি করা হয়েছে। ফলে এটি কারও নজরেই পড়ে না। এছাড়া প্রচারের অভাবও রয়েছে। তাই যাঁরা দোকান সাজিয়েছেন তাঁদের কাছে মাছি মারা ছাড়া কোনো কাজ নেই। এই পরিস্থিতিতে দোকানপাটের জিনিসপত্র নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অভিযোগ, যাঁরা দোকান দিয়েছেন, কর্মতীর্থে যাতায়াতের খরচ তাঁদের নিজেদের পকেট থেকেই বহন করতে হচ্ছে। চত্বরটি জঙ্গলে ভরে গিয়েছে। কারও পক্ষে তা সাফাই করার সামর্থ্য নেই। পূর্ণিমাদেবী বলেন, প্রতি মাসে বিদু্য়ত্ বিল আসছে। তা দেওয়া য়াচ্ছে না।  কর্মতীর্থটি জনবহুল এলাকায় করা হলে এই সমস্যা হত না। এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে অন্য কিছু বিক্রিবাট্টা বা বিনোদনমূলক ব্যবস্থা করা হলে এখানে মানুষের আনাগোনা থাকত বলে তিনি জানান।

প্রায় ছয় মাস আগে কর্মতীর্থের পাশে একটি সরকারি গোডাউন ও একটি বেসরকারি বহুজাতিক বিস্কুট কারখানা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এই নির্মাণকাজে যুক্ত কয়েজন বর্তমানে কর্মতীর্থটির কয়েটি ঘরে থাকছেন। কর্মতীর্থ চত্বরে নির্মাণকাজের সামগ্রী পড়ে থাকছে। কে তাঁদের কর্মতীর্থটিতে থাকতে দিয়েছে তা নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। সেখানে থাকতে দেওয়ার বিনিময়ে কোনো টাকা নেওয়া হচ্ছে কিনা তা তাঁদের জানা নেই বলে পূর্ণিমাদেবী অবশ্য জানিয়েছেন। স্থানীয় পঞ্চায়ে সদস্য দীপক মণ্ডল বলেন, কর্মতীর্থে কে বা কারা ভাড়ায় থাকছেন বলে শুনেছি। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হবে। সমস্যা মেটাতে প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে হবে বলে তিনি দাবি জানিয়েছেন।