আখের রসেই লাভের গুড় খুঁজছেন কোশিয়াড়ির চাষিরা

159

কলকাতা: বাজারে চিনির কদর বেশি থাকলেও গুড়ের চাহিদাও কম নয়। পার্বণ হোক বা উৎসব সবেতেই ব্যবহার হয়ে থাকে গুড়। আখের গুড়ের চাহিদা সারাবছরই থাকে গ্রামীণ এলাকাগুলিতে। সুবর্ণরেখা তীরবর্তী এলাকাগুলিতে পৌষপার্বণ উপলক্ষ্যে গুড়ের চাহিদা একটু বেশিই থাকে। নদী পার্শবর্তী এলাকাগুলিতে যথেষ্ট পরিমাণে হয় আখের চাষ। যে আখের রস থেকেই তৈরি হয়ে থাকে গুড়, সেই আখ কাটার প্রস্তুতি সহ গুড় তৈরির এমনই চিত্র দেখা গেল কোশিয়াড়ি ব্লকের নছিপুর ও বাঘাস্তি গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকায়।

এই এলাকাগুলিতে মূলত আখ, সবজি সহ কাঁচা আনাজের চাষ হয়ে থাকে, যা গ্রামীণ হাট ও শহরের এলাকাগুলিতে চাহিদা মেটায়। আখ তুলতে ব্যস্ত চাষিরা। কোদাল ও কাটারী দিয়ে আখ কাটার পর মেশিনের সাহায্যে বিশেষ পদ্ধতিতে আখের রস বের করার কাজ চলছে জমিতেই। ঠিক যেমন আমরা আখের রসের দোকানে যেভাবে দেখতে পাই ঠিক সেভাবেই মেশিনের সাহায্যে পেষাই যন্ত্রে নিংড়ে বের করা হচ্ছে রস।

- Advertisement -

কাটামাটিয়া এলাকার আখচাষি গৌরহরি পাতর জানান, এবছর আখের চাষ ভালোই হয়েছে, তবে নিজস্ব জমিতে আখ চাষে যেমন লাভ হয় খাজনা চাষে তেমন লাভ হয়না। আখের রসের কাজ চলবে চৈত্র মাস পর্যন্ত। অপর এক চাষি চৈতন্য সাঁতরার দাবি, করোনা আবহে শ্রমিকের যোগান নেই, চাষে তেমন লাভ হচ্ছে না। গুড় গরম করে তা প্রক্রিয়াজাত করতে অনেক খরচ, সে হারে লাভ হয়না। একটা বড় পাত্রে আখের রস ফুটিয়ে প্রায় ২৭ কেজি গুড় তৈরি হয়, যা ৪টি মাটির কলসির সমান। কলসি করেই গুড় চলে যায় অন্যত্র। সবটাই মজুরি দিয়ে কাজ করানোর জন্য খরচ হয়ে যাচ্ছে এবং হাতির হানায় বেশ ক্ষতি হয়েছে আখ চাষে।