জেলা সভাপতি পদ থেকে সরতে হচ্ছে সৌরভকে

523

জলপাইগুড়ি : জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি পদে পরিবর্তন হচ্ছেই। জেলা সভাপতি হচ্ছেন প্রবীণ তৃণমূল কংগ্রেস নেতা কৃষ্ণকুমার (কিষান) কল্যাণী। রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব এই সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই নিয়েছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান জেলা সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তীর অভিজ্ঞতাকে প্রশাসনিক কাজে লাগাতে চায় তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্য মন্ত্রীসভায় সৌরভবাবুকে নেওয়া হতে পারে। দলের পুরোনো এবং নব্য নেতৃত্বের সমতার উপরেও রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব নজর রেখেছেন।

দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যাযে নির্দেশে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বকসির সঙ্গে কৃষ্ণকুমার কল্যাণীর বৈঠক হয়ছে। জেলার সাংগঠনিক ক্ষেত্রে কী কী পদক্ষেপ করতে হবে তা নিয়ে দুজনের মধ্যে একপ্রস্থ আলোচনাও হয়েছে। দলের জলপাইগুড়ি জেলার পর্যবেক্ষক অরূপ বিশ্বাস আগামী ৬ অগাস্ট জলপাইগুড়িতে আসছেন। দুদিন জেলায় থাকবেন। তিনিই সভাপতি পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করবেন। লোকসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পরিপ্রেক্ষিতে সাংগঠনিক দুর্বলতাগুলিকে চিহ্নিত করে রাজ্য নেতৃত্বের তরফে পর্যবেক্ষক অরূপ বিশ্বাস জলপাইগুড়িতে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের একসঙ্গে কাজ করার বার্তাও দেবেন। তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রের খবর, কৃষ্ণকুমার কল্যাণী শনিবার মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে গিয়েছিলেন।

জেলা সভাপতি পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে নাগরাকাটার এক রিসর্টে ব্লক সভাপতিরা বৈঠক করায় বিষয়টি নিয়ে রাজ্য নেতৃত্ব যথেষ্টই অসন্তুষ্ট। দলের ময়নাগুড়ির নেতা শিবশংকর দত্ত বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। তিনি নাকি আবার দলে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তৃণমূল সূত্রের খবর, ময়নাগুড়িতে অরূপবাবুর উপস্থিতিতে শিবশংকরবাবু তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরবেন। সাংগঠনিক পরিবর্তনের বিষয়ে বর্তমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তীকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, সাংগঠনিক পরিবর্তনের বিষয়ে তাঁর কিছু জানা নেই। দলনেত্রী সাংগঠনিক স্বার্থে যে সিদ্ধান্ত নেবেন সেই সিদ্ধান্তই তিনি মাথা পেতে নেবেন। সাংগঠনিক রদবদল নিয়ে কৃষ্ণকুমার কল্যাণী বলেন, রাজ্য নেতৃত্ব এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন। তাঁর মন্তব্য করার কোনো অধিকার নেই।

জেলা সভাপতি পরিবর্তনের খবরকে ঘিরে জেলা তৃণমূল কংগ্রেস আড়াআড়িভাবে দুভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে। দলের বর্তমান জেলা নেতৃত্ব সভাপতি পদে কৃষ্ণকুমার কল্যাণীকে মেনে নিতে চাইছেন না। অপরদিকে, কৃষ্ণকুমার কল্যাণীর অনুগামীরা বর্তমান নেতৃত্বের ব্যর্থতা নিয়ে সরব হয়ে নেতৃত্বের বদল চাইছেন। গত শুক্রবার নাগরাকাটার একটি রিসর্টে জেলার সৌরভ অনুগামী বেশিরভাগ ব্লক সভাপতি কার্যত তৃণমূল জেলা সভাপতি বদলের প্রক্রিয়ায় বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। বৈঠকের পর কয়েকজন জানান, বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের সঙ্গে বৈঠক করে যিনি তৃণমূলকে ব্ল্যাকমেল করতে চান, তাঁর উদ্দেশ্য তাঁরা সফল হতে দেবেন না।

কিন্তু শনিবার ও রবিবারের বিভিন্ন ঘটনা থেকে প্রমাণিত হচ্ছে, তৃণমূলের শীর্ষনেতৃত্ব ব্লক সভাপতিদের মনোভাবকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। অথচ এই নেতারা কিষান কল্যাণীকে ঠেকাতে এমনকি প্রশান্ত কিশোরেরও দ্বারস্থ হয়েছিলেন। ব্লক সভাপতিদের সঙ্গে নিযমিত যোগাযোগ রাখতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপদেষ্টা প্রশান্ত কিশোর একটি হোযাটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলেছেন। ওই গ্রুপের মাধ্যমে তিনি তৃণমূলের নীচুতলার নেতাদের নিযমিত কার্যকলাপ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকার চেষ্টা করেন। সেখানেই কিষান কল্যাণীর সম্পর্কে তাঁদের মনোভাব জানিয়েছেন জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূলের বেশিরভাগ ব্লক সভাপতি। তবে তাঁরা যে সবাই সৌরভ চক্রবর্তীর অনুগামী, এমন নয়। কিন্তু তাঁরা কিষান কল্যাণীর বিরোধী।

এখন রাজ্য নেতৃত্ব যদি সৌরভকে সরিয়ে কিষান কল্যাণীকে জেলা সভাপতির পদে বসিয়ে দেন. তাহলে এই ব্লক সভাপতিরা কী পদক্ষেপ করেন তা জেলা তৃণমূলের ভবিষ্যতের পক্ষে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এমনিতে লোকসভা ভোটের আগে জলপাইগুড়ির আসনের ব্যাপারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খুবই আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু সেই আসনে তৃণমূল বড়ো ব্যবধানে পরাজিত হয়। লোকসভা ভোটের সেই ফলই এখন সৌরভের বিরুদ্ধে যাচ্ছে। কিষান কল্যাণীও রাজ্য নেতৃত্বকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন, যাঁরা তাঁর বিরোধিতা করছেন তাঁরাই লোকসভা ভোটে বিভিন্ন এলাকায় সংগঠনের দায়িত্বে ছিলেন এবং সেইসব এলাকায় দলের ফল নৈরাশ্যজনক হয়েছে।