ভারী গাড়ি গেলেই কাঁপে, বিপজ্জনক কুলিক সেতু

316

রায়গঞ্জ : ভারী গাড়ি গেলেই কেঁপে ওঠে সেতু। দুদিকের মাটি ধসে গিয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতি। রায়গঞ্জের কুলিক সেতুর এমন বেহাল দশায় উদ্বিগ্ন রায়গঞ্জ শহরের মানুষ। ১৯৪৮ সালে সেতুটি তৈরি হয়েছে। কিন্তু তারপর থেকে প্রায় তিন দশক কেটে গেলেও এখনও একবারের জন্য়ও সেই সেতু সংস্কার হয়নি। সংস্কার না হওয়ায় সেতুটি বেহাল ও দুর্বল হয়ে পড়েছে। জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে একাধিক জায়গায় সতর্কতামূলক বোর্ড লাগানো হয়েছে। জাতীয় সড়ক মালদা বিভাগের প্রকল্প অধিকর্তা ডি.কে হানসারি বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

কুলিক পক্ষীনিবাস লাগোয়া কুলিক নদীর ওপর এই সেতু দিয়ে কলকাতা, মালদা, বালুরঘাট, বহরমপুর, শিলিগুড়ি, কোচবিহার, অসমের ধুবড়ি রুটের বাস চলে। পণ্যবাহী ট্রাক সহ উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা গাড়ি এই সেতু দিয়ে চলে। মাটি ধসে তৈরি হওয়া কয়েক ফুট গর্তও উদ্বেগ বাড়িয়েছে রায়গঞ্জবাসীর। বাসিন্দাদের আশঙ্কা, যেকোনও সময় যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিযে ওই গর্ত দিয়ে নদীতে পড়ে যেতে পারে। সেতু আর রাস্তার দুদিকের সংযোগস্থলে ফাটল ধরেছে। সেতু ভেঙে পড়ার আশঙ্কা বেড়েছে। সেতু সংস্কারের দাবিতে একাধিকবার চিঠি দিলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি বলে অভিযোগ। তাই আন্দোলনের হুঁশিযারি দিয়েছেন রায়গঞ্জ নাগরিক কমিটির সম্পাদক তপন চৌধুরী। তপনবাবু বলেন, ‘১৯৮৮ সালে এই কুলিক সেতু ভেঙে যাওয়ার ফলে প্রায় একমাস উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। সেইসময় সাধারণ মানুষকে কম হয়রানি পোহাতে হয়নি। সারি সারি পণ্যবাহী ট্রাক এবং দূরপাল্লার বাস দাঁড়িয়েছিল দিনের পর দিন। পণ্যবাহী ট্রাকে থাকা কাঁচামাল পচেছে। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী ও সড়ক কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় প্রায় দশদিন পর ভেঙে যাওয়া সেতুর নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। জেলা প্রশাসনের তরফে বহুদিন আগে এই  সেতুকে বিপজ্জনক সেতু হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।’ পিএন ভুটিযা এই জেলায় জেলা শাসক হিসেবে থাকাকালীন জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে কুলিক সেতুটি সংস্কারের অনুরোধ করেছিলেন। তিনি চিঠিতে লিখেছিলেন, সেতুটির বর্তমান যা অবস্থা, তাতে যেকোনও সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। সেই সময় জাতীয় সড়ক মালদা বিভাগের অধিকর্তা মহম্মদ সইফুল্লা জেলা শাসককে চিঠির উত্তরে বলেছিলেন, কিছুদিনের মধ্যেই কুলিক সেতুর মেরামতির কাজ শুরু হবে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কাজের কাজ কিছুই হয়নি। পরবর্তীতে জেলা শাসক আয়েশা রানি একাধিকবার মালদা ডিভিশনের জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেন। জাতীয় সড়ক কর্তপক্ষের আধিকারিক ডিকে হানসারির নির্দেশে একাধিকবার জাতীয় সড়কের ইঞ্জিনিযাররা পরিদর্শন করে গেলেও সংস্কার করা হয়নি। সম্প্রতি এই কুলিক সেতুর মাঝে গর্ত থাকার কারণে একটি পণ্যবাহী ট্রাক রেলিং ভেঙে কুলিক নদীতে পড়ে যাওযার উপক্রম হয়েছিল। থানার পুলিশের চেষ্টায় দুটি ক্রেন ব্যবহার করে ট্রাকটি উদ্ধার করা হয়। তার ফলে প্রায় ১০ ঘন্টা ৩৪ নং জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ হযে পড়েছিল। এছাড়া এই কুলিক সেতুতে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটলেও হেলদোল নেই জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের। জেলা শাসক অরবিন্দ কুমার মিনাকে এই বিষযে ফোন করা হলে তিনি ফোন তোলেননি। রায়গঞ্জ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক অতনুবন্ধু লাহিড়ি ও উত্তর দিনাজপুর চেম্বার অফ কমার্সের সম্পাদক শংকর কুণ্ডু বলেন, ‘সেতুটি ভেঙে পড়লে সড়ক, যোগাযোগ, পণ্য় সরবরাহ কাজ থমকে যাবে। সেতুটি মেরামতের জন্য বণিক সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি জানানোও হবে।’

- Advertisement -

ছবি- কুলিক সেতু।

তথ্য ও ছবি- বিশ্বজিৎ সরকার