ভাঙছে কুলিক নদীর পাড়, উদ্বিগ্ন জেলা প্রশাসন

35

রায়গঞ্জ: উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দ্রুত গতিতে ভাঙছে রায়গঞ্জের কুলিক সহ একাধিক নদীর পাড়। আসন্ন বর্ষার মরশুমে ভারী বৃষ্টিপাতের আগে মেরামতের কাজ শুরু না করলে, আচমকা নদীর বাঁধ ভেঙে জনবসতি এলাকা জলমগ্ন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন উত্তর দিনাজপুর জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নদীর বাঁধগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার জন্য জল সেচ দপ্তরকে জানানো হবে। বস্তুত, রায়গঞ্জের আব্দুলঘাটা থেকে ইটাহারের পাজোল পর্যন্ত কুলিক নদীর বাঁধ তৈরি হয়েছে। তা দেখাশোনার অভাবে নদীর তীরের মাটি খসে পড়ছে। ১১২ কিলোমিটার বাঁধের আওতায় রয়েছে জেলার সাতটি নদী। কুলিক, সুই, মহানন্দা, শ্রীমতি, নাগর, টাঙন, সিরিয়ানা। ২৯টি স্লুইস গেট রয়েছে। কিন্তু নদীগুলোর পরিকাঠামো এতটাই দুর্বল যে কোনও সময় বাঁধের অংশ দিয়ে নদীর জল ঢুকে যাবে জনপদ এলাকায়। নীচু এলাকায় বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। নদীগুলোতে পলি জমে নাব্যতা হারাচ্ছে। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে নদীগর্ভে জল ধারণের ক্ষমতা কমে গিয়েছে। ওপার বাংলা থেকে এই জেলার হেমতাবাদের চৈনগর সীমান্ত দিয়ে কুলিক নদী রায়গঞ্জ হয়ে ইটাহারের গোরাহারে নাগর নদীর সঙ্গে মিশে মহানন্দায় উঠেছে। ৪২.২৫ কিলোমিটার কুলিক নদীতে ছ’টা স্লুইস গেট রয়েছে। তবে নিয়মিত নজরদারির অভাবে সমস্যা ক্রমেই বাড়ছে বলে মনে করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

- Advertisement -

তবে জেলা শেষ দপ্তরের আধিকারিক দেবাশিস পাত্র জানান, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে এলাকাগুলি যৌথভাবে পরিদর্শন চলছে। যে সমস্ত এলাকায় ভাঙনের সম্ভাবনা আছে তা চিহ্নিত করে কাজ করা হবে। পরিদর্শনের কাজ দ্রুত শেষ হবে। বোল্ডার দেওয়া কিংবা অন্য কোনও স্কিমে কাজ করা হবে। যেখানে যেমন তেমনই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রায়গঞ্জ কুলিক নদীর পাড়ে একাধিক পাকা সিঁড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ইটাহারে স্লুইস গেটগুলো মেরামতের কাজ শুরু হবে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ১ জুন থেকে বর্ষার মৌসুম শুরু হচ্ছে। তাই সেচ দপ্তর এখন থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছে। দিন কয়েক আগে দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে বন্যা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রস্তুতির ভার্চুয়াল বৈঠক করেন সেচমন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র। উত্তর দিনাজপুর সহ তিনটি জেলায় সেচ দপ্তরের অফিসে রিজিওনাল কন্ট্রোলরুম চালু করা হবে। ১ জুন থেকে কন্ট্রোল রুম চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।