চিতাবাঘের আক্রমণে জখম দুই

264

বিদেশ বসু, মালবাজার: মাল ব্লকের কুমলাই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার একটি প্রজেক্ট চা-বাগানে চিতাবাঘের আক্রমণে জখম হলেন দুজন। বন বিভাগের মালবাজার স্কোয়াডের আধিকারিক এবং বনকর্মীরা এলাকায় গিয়ে নজরদারি রেখেছেন। সোমবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে কুমলাই গ্রাম পঞ্চায়েতের নেওড়ার মাছুয়া ধুরা এলাকায়। জানা গিয়েছে, স্থানীয় একটি প্রজেক্ট চা-বাগানে সার ছেটানোর কাজ চলছিল। সেসময় চিতাবাঘ তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। আহত দুজন বাসন্তী রায় (৩৫) এবং অনুজ মাহাতো (১৪) আতঙ্কে চিৎকার করে ওঠেন। এরপর বাগানের ঝোঁপে পালিয়ে যায় চিতাবাঘটি। আহতদের উদ্ধার করে মালবাজারের সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে পাঠানো হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা নীরেন্দ্রনাথ রায় বলেন, ‘এর আগেও ওই এলাকায় চিতাবাঘের হামলার ঘটনা ঘটেছে। আমরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। ছাগল, মুরগী ইত্যাদি শিকার করে নিয়ে যাচ্ছে। চিতাবাঘের আক্রমণে গরুও মারা গিয়েছে। বন বিভাগের কাছে আহতদের চিকিৎসার দেখভালের পাশাপাশি এলাকায় খাঁচা বসানোর দাবিও করছি।’ গরুমারা বন্যপ্রাণ বিভাগের আওতাধীন মালবাজার স্কোয়াডের ওয়ার্ডেন বিভূতিভূষণ দাসের নেতৃত্বে চিতাবাঘের হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান বনকর্মীরা। মাল থানার পুলিশও ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রজেক্ট চা বাগান থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে দিয়ে এলাকাটির ওপর নজরদারি রাখা হয়।

- Advertisement -

ওয়ার্ডেন বিভূতিভূষণ বাবু বলেন, ‘পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। এলাকায় খাঁচা বসানো হবে।’ উল্লেখ্য, সম্প্রতি কুমলাই গ্রাম পঞ্চায়েতের নেওড়া নদী চা-বাগানে একটি চিতাবাঘের শাবক নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়ায়। এরপর কুমলাই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ঘুমটি পাড়ায় লেপার্ড ক্যাট নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হয়। লকডাউনের মধ্যেই লোকালয়ে বন্যপ্রাণী নিয়ে ঘটনাক্রমে উদ্বিগ্ন পরিবেশপ্রেমী সংগঠনগুলিও। পরিবেশপ্রেমী সংগঠন স্পোরের কর্মকর্তা শ্যামাপ্রসাদ পাণ্ডে বলেন, ‘কুইক রেসপন্স টীম গঠন করে বন্যপ্রাণ ও মানুষের সংঘাত রোধে প্রাথমিক পর্বের কাজ সামালাচ্ছি। লকডাউনে সব এলাকাই শুনশান। তাই আমাদের বাড়তি সতর্কতা বজায় রাখতে হবে।’