বাঁকুড়াকে টেক্কা দিয়ে টেরাকোটায় সেরা কুনোর

110

সুকুমার বাড়ই, রায়গঞ্জ : উত্তর দিনাজপুরের কুনোরের হাটপাড়ার বাসিন্দা দেবু রায় রাজ্য হস্তশিল্প প্রতিযোগিতায় হাজির হন তাঁর তৈরি টেরাকোটার সামগ্রী নিয়ে। পুজোর উপকরণ ছিল তাঁর সম্ভারে। যা দেখে অভিভূত হয়ে যান বিচারকরা। বাঁকুড়া, পুরুলিয়ার টেরাকোটা শিল্পীদের কিছুটা হলেও পিছনে ফেলে দিয়ে প্রথম পুরস্কার জিতে নেন তিনি। দেবু রায়ের কথায়, আমি খুব খুশি। আবারও প্রামাণিত হল আজও টেরাকোটা শিল্পে রাজ্যের সেরা কুনোর।

শুধু তিনিই নন, উত্তর দিনাজপুরের ভাগে জুটেছে আরও দুটি প্রথম পুরস্কার। কালিয়াগঞ্জের বাঘন এলাকার পশ্চিম ভাণ্ডারের সুকুন্দু রায় তৈরি করেছিলেন কারুকার্যখচিত কাঠের মুখোশ। ইটাহারের সোনাপুরের বাসিন্দা কমল সরকার কাঠ দিয়ে কারুকার্যখচিত একটি বড় কুমির তৈরি করেছিলেন। তাঁর কাজও রাজ্যস্তরে প্রথম স্থান অর্জন করেছে।

- Advertisement -

উল্লেখ্য, গত ২৩ নভেম্বর কলকাতায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল রাজ্য হস্তশিল্প প্রতিযোগিতা। ২৪ নভেম্বর বিকেলে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। আর এই ফলাফলেই চমক দেখাল উত্তরবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার শিল্পীরা। উত্তর দিনাজপুরের ঝুলিতে এসেছে তিনটি প্রথম পুরস্কার ও একটি বিশেষ পুরস্কার। চারটি প্রথম পুরস্কার পেয়েছে বাঁকুড়া জেলা। তবে উত্তরবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলা পুরস্কারের নিরিখে প্রথম স্থান অর্জন করেছে।

কোচবিহারের ঝুলিতে এসেছে একটি প্রথম পুরস্কার, একটি দ্বিতীয় পুরস্কার এবং তিনটি বিশেষ পুরস্কার। দার্জিলিং পায় একটি প্রথম পুরস্কার। সদ্য গঠিত কালিম্পং জেলার ঝুলিতে আসে একটি প্রথম পুরস্কার, একটি দ্বিতীয় পুরস্কার এবং একটি বিশেষ পুরস্কার। মালদা জেলার প্রতিযোগীরা পেয়েছেন একটি প্রথম পুরস্কার, দুটি দ্বিতীয় পুরস্কার এবং দুটি বিশেষ পুরস্কার। জলপাইগুড়ি জেলার ভাগ্যে জুটেছে একটি দ্বিতীয় পুরস্কার ও একটি বিশেষ পুরস্কার। আলিপুরদুয়ার এবং শিলিগুড়ি পেয়েছে একটি করে বিশেষ পুরস্কার। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা অর্জন করেছে দুটি বিশেষ পুরস্কার। সব মিলিয়ে এবারের রাজ্যস্তরের হস্তশিল্প প্রতিযোগিতায় উত্তরবঙ্গের ঝুলিতে প্রথম পুরস্কারের সংখ্যা সাত, দ্বিতীয় পুরস্কারের সংখ্যা পাঁচ এবং বিশেষ পুরস্কারের সংখ্যা ১২। মোট ২৪টি পুরস্কার এসেছে উত্তরবঙ্গে।

সুকুন্দু রায় জানালেন, জেলায় প্রথম হয়েছিলাম, কিন্তু ভাবতে পারিনি রাজ্যেও প্রথম হব। এই পুরস্কার আমাকে আরও দায়িত্বশীল করে তুলল। কমল সরকারের কথায়, আমার কাজ রাজ্যস্তরের বিচারকদের পছন্দ হয়েছে এটাই সবচেয়ে বড় আনন্দের। এই ধরনের কাজ করে সকলের মাঝে শিল্পসত্তার বিকাশ করতে আমি।

এছাড়াও হেমতাবাদ ব্লকের কাকড় শিংয়ের বাসিন্দা সুষেন বৈশ্য বাঁশ দিয়ে তৈরি করেছিলেন ল্যাম্পপোস্ট। তাঁর এই অনিন্দ্য সুন্দর শৈল্পিক কাজের জন্য তিনি বিশেষ পুরস্কারের স্বীকৃতি অর্জন করেন। জেলা শিল্পকেন্দ্রের মহাপ্রবন্ধক সুনীল সরকারের কথায়, হস্তশিল্প বেঁচে থাকে দেশজ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ইতিহাসে। এই শিল্পের ওপর নির্ভর করে গ্রামবাংলা হয়ে ওঠে স্বয়ংসম্পূর্ণ। শিল্পীরা পান বেঁচে থাকার রসদ। এর মধ্যেই লুকিয়ে থাকে কোনও দেশ বা জাতির আত্মনির্ভর হয়ে ওঠার গল্প। তাই উত্তর দিনাজপুর জেলার হস্তশিল্পীরা যে সম্মান জেলার জন্য আনলেন তাতে আমরা ওদের জন্য গর্বিত ও আনন্দিত। এটা জেলা তথা রাজ্যেরও গর্ব।