নাবালিকার বিয়ে বন্ধ করল কুশমণ্ডি ব্লক প্রশাসন

কুশমণ্ডি : পুলিশের গাড়ি দেখে মাঝপথ থেকেই ঘুরে গেল বরের গাড়ি। প্রশাসনের তৎপরতায় আবারও বন্ধ হল নাবালিকার বিয়ে। বৃহস্পতিবার ঘটনাটি ঘটেছে কুশমণ্ডি থানা এলাকায়। পরপর নাবালিকার বিয়ের খবর সামনে আসায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কুশমণ্ডিজুড়ে।

গত দুই সপ্তাহে কুশমণ্ডি এলাকায় চারটি নাবালিকার বিয়ে বন্ধ করে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার কুশমণ্ডির এক গ্রামের বাসিন্দা তাঁর নাবালিকা মেয়ের বিয়ে ঠিক করেছিলেন এলাকারই আরেক গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে। গত কয়েক মাস ধরে দুই পরিবারের দেখাশোনার পর বিয়ে ঠিক হয়। বৃহস্পতিবার রাতে বিয়ে হওযার কথা ছিল। মেয়ের বিয়ের সম্পূর্ণ আযোজন করে ফেলেছিলেন বাবা। একদিকে চলছিল বরয়াত্রী ও নিমন্ত্রিতদের আপ্যায়নের জন্য রান্না, অন্যদিকে চলছিল বিয়ে প্রস্তুতি। সন্ধেয় যখন বিয়ের প্রস্তুতি তুঙ্গে, তখনই সেই খবর যায় প্রশাসনের কাছে। নাবালিকার বিয়ের খবর পেয়ে তৎপর হয়ে ওঠেন ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরা। প্যারালিগাল ভলান্টিয়ার উমেদ আলি, পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরা বেরিয়ে পড়েন ওই গ্রামের উদ্দেশ্যে।

- Advertisement -

অন্ধকারে গ্রামের রাস্তায় চারচাকা গাড়ির আলো দেখে বিয়েবাড়ির সবাই ধরে নিয়েছিলেন বরের গাড়ি আসছে। কিন্তু গাড়ি বিয়ের আসরে পৌঁছোতেই পালটাতে থাকে ছবি। গাড়ি থেকে বরের পরিবর্তে নেমে আসেন পুলিশ ও ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরা। ঠিক ওই সময়ই অন্যপথে গাড়ি নিয়ে আসছিল বরযাত্রীরাও। দূর থেকে তারাও লক্ষ্য করে, কনের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে পুলিশের গাড়ি। তাই আর কনের বাড়ির দিকে না এগিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে পড়ে বর সহ বরয়াত্রীদের গাড়ি। বরের বাড়ির লোকজন খবর রায় প্রশাসন বিয়ে বন্ধ করতে এসেছে। তাই আর কনের বাড়ির দিকে না এগিয়ে বর সহ বরয়াত্রীরা ফিরে যান নিজেদের গ্রামে।

পুলিশ ও ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরা নাবালিকা মেয়ের বাবা সহ পরিবারের লোকজনদের দীর্ঘ সময় ধরে বোঝাতে সক্ষম হন নাবালিকার বিয়ে দেওয়া আইনত অপরাধ। প্রশাসনের কথা মেনে এখনই মেয়ের বিয়ে দেবেন না, এই মর্মে মুচলেকা দেন মেয়ের বাবা। তাঁর মুচলেকা নিয়ে প্রশাসনের লোকজন হানা দেন বরের বাড়িতে। পুলিশ দেখে প্রথমে ভয় পেলেও পরে এগিয়ে আসেন বরের বাবা ও তাঁর পরিবারের লোকজন। নাবালিকা মেয়ের সঙ্গে তাঁর ছেলের বিয়ে দেবেন না, এই মর্মে তিনিও মুচলেকা লিখে দেন। তবে শেষ মুহূর্তে এসে মেয়ের বিয়ে না দিতে পেরে ভেঙে পড়েন পাত্রীর বাবা। বিষাদের ছায়া বরের বাড়িতেও। দুপক্ষের কোনো বক্তব্য না পাওয়া গেলেও গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, কষ্ট করেই মেয়ের বিয়ে ঠিক করেছিলেন বাবা। বিয়ের সমস্ত আয়োজন শেষ করতে ধারদেনা করে মোটা অংকের টাকা খরচ করে ফেলেছিলেন।

এ প্রসঙ্গে কবি গোবিন্দ তালুকদার বলেন, নাবালিকা বিয়ে বন্ধে সরকারের উচিত যে কোনো বিয়ের আগেই প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা। প্রায় রোজই নাবালিকা বিয়ে বন্ধের খবর চোখে পড়ে। প্রশাসনের তরফে জোর প্রচারের পাশাপাশি সমস্ত বিয়ের ক্ষেত্রে প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া বাধ্য না করলে নাবালিকা বিয়ে নির্মূল করা যাবে না। আইনজীবী নারায়ণ কুণ্ডু, বিনয় সরকাররা জানান, মেয়েরা শরীর স্বাস্থ্যে একটু বড় হলেই বিয়ে ঠিক করে ফেলার আদিম প্রবণতা থেকে এখনও মানুষ বেরিয়ে আসতে পারেনি। তাই এই সমস্যা থেকে যাচ্ছে।