পেনাল্টি নষ্ট করে নিঃসঙ্গ এমবাপে

বুখারেস্ট : ২৯ জুন, ২০২১। রবিবার রাত। দিনটাকে বোধহয় আজীবন বুকে বয়ে বেড়াবেন কিলিয়ান এমবাপে। বিভীষিকার মতো। আতঙ্কের আরেক নাম হয়ে ফরাসি তারকার শয়নে স্বপনে জাগরিত হবেন সুইজারল্যান্ডের গোলরক্ষক ইয়ান সোমার। দুঃস্বপ্নের মতো তাঁর প্রতিটি স্পন্দনে ভেসে বেড়াবে একুশে কুড়ির ইউরো কাপ।

২০১৮-র রাশিয়া বিশ্বকাপের মঞ্চ এমবাপে নামক এক তারকার জন্ম দেখেছিল। যার দ্যুতির সামনে ফিকে হয়ে গিয়েছিল লিওনেল মেসির ঔজ্জ্বল্য। বিশ্বকাপ জয়ের পর অনেকেই ফুটবল সম্রাট পেলের সঙ্গে তুলনা টেনেছিলেন তরুণ এমবাপের। রিয়াল মাদ্রিদে তিনিই হবেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর যোগ্য উত্তরসূরি, সেই দাবিও করে বসেছিলেন অনেক গুণমুগ্ধ। কিন্তু ২০২১-এর ইউরোর প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ড ম্যাচের পর সেই প্রশস্তি আপাতত অতীত কিংবা মনভোলানো ছলনা বলে মনে হতে পারে। কারণ রবিবাসরীয় রাতে মোক্ষম সময়ে মারাত্মক ভুল এমবাপের। টাইব্রেকারে তাঁর পেনাল্টি মিস ফ্রান্সকে শুধু ইউরো কাপের দৌড় থেকে ছিটকে দিল না, সঙ্গে ফরাসি তারকাকে নামিয়ে আনল বাস্তবের রুক্ষ্ম জমিতে।

- Advertisement -

কিন্তু কেন ব্যর্থ ফরাসি সুপারস্টার? তালটা বোধহয় কেটে গিয়েছিল ইউরো শুরুর আগেই। এমবাপের ইগো সমস্যা যে তাঁকে সাজঘরে আরও নিসঙ্গ করে দিয়েছে, সেটাও স্পষ্ট ম্যাচ শেষের দৃশ্যে। টাইব্রেকারে পেনাল্টি নষ্ট করা এমবাপেকে সান্ত্বনা দিতে এগিয়ে আসতে দেখা গেল না দলের কোনও চেনা মুখকে। ব্যতিক্রম শুধু লুকাস ডিগনে আর কিংবদন্তি লিলিয়াম থুঁরাম-পুত্র মার্কাস।

তিক্ত পরিস্থিতি ঢাকতে ম্যাচের পর আসরে নামতে হল ফ্রান্সের কোচ, অধিনায়ককে। এমবাপে প্রশ্নে দিদিয়ের দেশঁ-র মন্তব্য, টাইব্রেকারে পেনাল্টি নষ্টের দায় কিলিয়ান নিজের কাঁধে নিয়েছে। ও অপরাধবোধে ভুগছে। কিন্তু এমনটা উচিত নয়। আমরা কেউ ওঁর ওপর বিরক্ত নই। এই ব্যর্থতা একার কারও নয়। বিপর্যয়ে পরেও আমরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছি। যেমনটা আগে আমরা ছিলাম। অধিনায়ক হুগো লরিস সেই সুর বজায় রেখে আওড়ে গেলেন চেনা শব্দবন্ধ, উই উইন টুগেদার, উই লস টুগেদার। রাফায়েল ভারানের কথায়, পেনাল্টি অনেকটাই লটারির মতো। সেটার সাফল্য-ব্যর্থতা দিয়ে কারও বিচার চলে না।

আর এমবাপে? লে ব্লুজ সমর্থকদের উদ্দেশে ক্ষমা চেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ফরাসি তারকার পোস্ট, এই ধাক্কা সামলে ওঠা কঠিন। নিজেদের লক্ষ্যে পৌঁছোনোর আগেই ছিটকে যাওয়ার দুঃখ অবর্ণনীয়। পেনাল্টি নষ্টের জন্য সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইছি। আমি বিধ্বস্ত। দলকে সাহায্য করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ব্যর্থ হয়েছি। খেলোয়াড় জীবনে চড়াই উতরাই থাকে। তা মেনেও বিপর্যয়ে রাতে ঘুমোনো মুশকিল, স্বীকারোক্তি ফরাসি ফুটবলের পোস্টারবয়ের।