মাটি থেকে মহাকাশে আড্ডায় এমবাপে

প্যারিস : কমবেশি সাড়ে তিনশো কিলোমিটার। পৃথিবী থেকে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের দূরত্ব।

সেই স্পেস স্টেশনে থাকা ফরাসি মহাকাশচারীর টমাস পাস্কের সঙ্গে আড্ডায় মাতলেন তারকা ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপে। ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির সৌজন্য প্রথম ফুটবলার হিসেবে মহাকাশে থাকা বিজ্ঞানীর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত ইউরো কাপে ফ্রান্সের অন্যতম ভরসা এই ফরোয়ার্ড। চাপ কাটানোর কৌশল থেকে মহাকাশে ফুটবল, অনেক বিষয়ই উঠে এল দুপক্ষের মিনিট কুড়ির আড্ডায়।

- Advertisement -

হিউস্টনের স্পেস কন্ট্রোল থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার পর আর দেরি করেননি এমবাপে। শুধু চোখে-মুখেই নয়, উত্তেজনা ও বিস্ময়ে ছাপ ছিল তাঁর কথাতেও। শুরুতেই বললেন, আমি নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছি না। আমার কত কিছু জানার আছে। জানি না কোথা থেকে শুরু করব। সবার আগে বল, মহকাশে থাকতে কেমন লাগছে? যার জবাবে টমাস বলেন, এখানে কোনও আওয়াজ নেই, চারদিক একেবারে শান্ত। খুব ভারী বস্তুও অনায়াসে হাতে তুলে নেওয়া যায়। এমনকি উড়ে বেড়ানোও যায়। কথা বলার সময় টমাসের হাতে একটি ফুটবল ছিল। মাঝেমাঝেই তা ছেড়ে দিচ্ছিলেন টমাস। কিন্তু বলটি সেখানেই ভেসে থাকছিল, যা এমবাপের বিস্ময় আরও বাড়িয়ে দেয়।

এমবাপের এক প্রশ্নের উত্তরে টমাস জানান, স্পেস স্টেশনে তাঁরা চারজন আছেন। সেখানে তাঁরা ইংরেজি ছাড়াও বিভিন্ন ভাষায় কথা বলেন। এটা অনেকটা বিভিন্ন দেশের ফুটবলারদের সঙ্গে একই ক্লাবে খেলার মতো। যার জবাবে এমবাপে বলেন, একেবারেই, সকলকে অন্যের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে হয়। সকলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এটা প্রয়োজন। কারণ অনেকে অন্য অঞ্চল, অন্য দেশ, এমনকি অন্য মহাদেশ থেকে আসে। সবসময় নজরদারীর মধ্যে থাকা নিয়ে টমাস মত জানতে চাইলে এমবাপে বলেন, এটা ভালো, একইসঙ্গে চাপের। সবসময় ভয় হয়, এই বুঝি কোনও সামান্য বিষয়ে জন্য আমি আমার প্যাশন থেকে দূরে সরে যাব। ফলে স্বাচ্ছন্দের সঙ্গে উদ্বেগও মিশে থাকে।

কোনও কাজে সফল হওয়ার ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ প্রতিভার সঙ্গে ৫০ শতাংশ পরিশ্রম এবং ৫০ শতাংশ অধ্যাবসায় লাগে বলে মন্তব্য করেন টমাস। সেই সূত্র ধরে এমবাপে বলেন, প্রথমে আমরা সকলেই তারকা ফুটবলার হতে চাই। এরপর ধীরে ধীরে জানতে পারি, এতে পরিশ্রম, ত্যাগের মতো দিক রয়েছে। সঙ্গে ভাগ্যের বিষয়ও রয়েছে। যেমন সঠিক সময়ে সঠিক মানুষের সঙ্গে পরিচয় হওয়া বা নির্দিষ্ট দিনে ভালো পারফরমেন্সের মতো বিষয়। আড্ডার মাঝে টমাসের কাজ নিয়ে প্রশ্ন করে এমবাপে। তাঁরা সেখানে কী করছেন, কোন পরীক্ষা বা কিছু আবিষ্কার করেছেন কি না, জানতে চান। সেসময় দৃশ্যতই মহাকাশচারীর কাজ নিয়ে আগ্রহ ফুটে উঠেছিল তারকা ফুটবলারের মুখে। এর জবাবে নিজেদের কাজ নিয়ে বিস্তারিত বলেন টমাস। যা শুনে এমবাপে বলেন, তোমরা শীঘ্রই এই পরীক্ষার ফল নির্ণয় কর। কারণ আমি বুড়ো হয়ে যাচ্ছি।

এদিন দুজনের মধ্যে মহাকাশে ফুটবল খেলা নিয়ে কথা হয়। টমাস বলেন, এখানে ফুটবল খেলা অর্থহীন। কারণ কোনও ওজন না থাকায় বল নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। কোনওদিকে মারলে টানা সেদিকেই ভেসে যেতে থাকে। তবুও আমরা খেলি। এরমধ্যেই কন্ট্রোল স্টেশন থেকে জানানো হয়, আর মাত্র ৩০ সেকেন্ড সময় আছে, যা শুনে এমবাপে বা টমাস কেউই তেমন খুশি হননি। শেষবেলায় টমাস বলেন, তোমার সঙ্গে কথা বলে ভালো লাগল। মহাবিশ্বের সঙ্গে তোমার কিছু বিষয়ে মিল আছে। আমরা এখান থেকেই ইউরো দেখব। তোমার জন্য শুভেচ্ছা। আমি জানি আমার মতো তোমরাও ফ্রান্সকে গর্বিত করতে চাও। পাল্টা ধন্যবাদ জানিয়ে এমবাপে বলেন, তোমার থেকে অনেককিছু শিখলাম। এই অভিজ্ঞতা ভোলার নয়।

আড্ডার পুরো সময়টাই প্রায় স্পেস স্টেশনে ভেসে ছিলেন টমাস। আড্ডা শেষ হওয়ার পর তা নিয়ে বিস্মিত এমবাপের উক্তি, ও ভেসে রয়েছে, এটা অবিশ্বাস্য! ফুটবলের বিস্ময়বালক হিসেবে পরিচিত এমবাপে ইউরোয় এমন কিছু অবিশ্বাস্য করবেন, আশাবাদী সমর্থকরা।