মাধ্যমিকে ভালো ফল করেও মেয়ের পড়াশোনা নিয়ে চিন্তায় দিনমজুর পরিবার

577

মুরতুজ আলম, সামসী: দিন মজুরের মেয়ে মাদ্রাসা মাধ্যমিকে ভালো ফল করেও একাদশে ভর্তি নিয়ে চিন্তায় রয়েছে সাবনাম শালিনীর পরিবার। সাবনাম এবার মতিহারপুর জিপির বসন্তপুর কাঞ্চনটোলা হাই মাদ্রাসা থেকে ৬১৩ নম্বর পেয়ে মাদ্রাসা মাধ্যমিক পাস করে। ভালো ফল করেও ভর্তি নিয়ে চিন্তায় রয়েছে তাঁর পরিবার।

সাবনাম, বাংলায় ৮৩, ইংরেজি ৭৬, অংক ৬১, ভৌতবিজ্ঞান ৫৯, জীবন বিজ্ঞান ৯৫, ইতিহাস ৭০, ভূগোল ৮০, ইসলাম পরিচয় ৮৯ এবং ঐচ্ছিক আরবীতে ৮১ নম্বর পেয়েছে। সাবনামের বাড়ি কাঞ্চনপুর গ্রামে। বাবা হাসেন জমিতে শাক-সবজি চাষ করেন। তাতে সংসার চলেনা। তাই দিনমজুরিও করতে হয়। ইদানিং নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবজি নষ্ট হয়েছে। ফলে এবছর আয় নেই তেমন। তার ওপর টানা লকডাউনে কাজ নেই। ফলে সমস্যা আরও বেড়েছে। সাবনামের মা সাধারণ গৃহবধূ। ছোট ভাই শাহিদ আকতার গ্রামের স্কুলে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে।

- Advertisement -

সাবনাম চাঁচল সিদ্ধেশ্বরী ইনস্টিটিউশনে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হতে চায়। কিন্তু বাবার কাছে ভর্তি ফি দেওয়ার মতো ক্ষমতা নেই। কারুর কাছে ধার করে তবেই ৫ অগাস্ট ভর্তি হতে হবে সাবনামকে। ভর্তি ফি ছাড়াও বই, খাতা, কলম এবং টিউশনির খরচ, চাঁচল যাতায়াতের খরচও রয়েছে। ভবিষ্যতে ভূগোল নিয়ে পড়ার ইচ্ছে তাঁর। হতে চায় শিক্ষিকা। প্রতিষ্ঠিত হয়ে সমাজের গরিব ছেলেমেয়েদের পাশে দাঁড়ানোর কথা বলেন সাবনাম। তবে পড়াশোনার জন্য আর্থিক সাহায্য দরকার। নাহলে হয়ত মাঝপথে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

চাঁচল সিদ্ধেশ্বরী ইনস্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক আসরারুল হক সাবনাম শালিনীর ভর্তি ফি মুকুবের কথা জানিয়েছেন। বসন্তপুর কাঞ্চনটোলা হাই মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সরিফুল ইসলাম বলেন, সাবনাম ভাল ফল করে ও আমাদের মাদ্রাসার সুনাম বাড়িয়েছে। মাদ্রাসার তরফে সাবনামের পড়াশুনার জন্য আর্থিক সাহায্য করা হবে বলে বলেন সরিফুল ইসলাম। চাঁচল-১ বিডিও সমীরণ ভট্টাচার্যও মেধাবী সাবনামকে ব্লক প্রশাসনের তরফে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।