কার্যত লকডাউনে আতঙ্কে দিনমজুর-পড়ুয়ারা

77

রায়গঞ্জ:  হু হু করে বাড়ছে করোনা সংক্রামণ। পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যু। তাতেই রাস টানতে এবার ১৫ দিনের লকডাউন দিল রাজ্য সরকার। বাস, অটো, টোটো থেকে শুরু করে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা বন্ধ। শুধুমাত্র জরুরি পরিষেবার দপ্তরগুলি খোলা রয়েছে। গতবছরের লকডাউনের ভয়াবহ স্মৃতি এবারও ছায়া ফেলেছে মানুষের মনে ও পেশায়।

রাজ্যজুড়ে কার্যত লকডাউনে গতবছরের সেই একই চিত্র যেন ফুটে উঠল শহরের বুকে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে মরণ বাচন লড়াই লড়ছে প্রত্যেকে। পাশাপাশি পেটের জ্বালায় ভোগার ভয়ে আতঙ্কে রয়েছেন দিনমজুরেরা। নিজেদের ভবিষ্যত সহ সব বিষয় নিয়েই মানুষ ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। কি করে জীবন আবার স্বাভাবিক হয়ে উঠবে সেই প্রশ্ন যেন সবার মুখে। অতিমারির এই ভয়াবহ পরিস্থিতি প্রত্যেককেই এক অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে দিয়েছে। শুধুমাত্র কর্মক্ষেত্রই নয় প্রভাব এসে পড়েছে বাড়ির হেঁসেলেও।

- Advertisement -

রিকশাচালক কমল বর্মন বলেন, ‘আমি রায়গঞ্জ শহরে রিকশা চালাই। আংশিক লকডাউন একেই যাত্রী পাচ্ছিলাম না, সারাদিনে ১৫০-২০০ টাকা আসছিল। এবার তো সম্পূর্ণ লকডাউন হয়ছে। বাঁচবো কি করে? খাবো কী? এটা ভেবেই চিন্তা আরও বাড়ছে।‘

বেসরকারি সংস্থানে কর্মরত এক ব্যক্তি জগন্নাথ বিশ্বাস বলেন, ‘আমার বাড়ি দক্ষিণ দিনাজপুরের পতিরামে কর্মসূত্রে আমি রায়গঞ্জে এসে ছিলাম। রায়গঞ্জ শহরের একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করি। আগের বছর লকডাউনে প্রথমে ৫০ শতাংশ বেতন দিয়েছে। পরবর্তীতে কাজ চলে যায়। খুব কষ্ট করে আবার একটা চাকরি জোগাড় করেছি। এবার কি করে চালাবো বুঝতে পারছিনা ।এখনো পর্যন্ত চাকরিতে বহাল আছে।‘

রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া অভ্রদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, তিথি পাল প্রমুখ বলেন, ‘আগের বছর থেকে এখনও পর্যন্ত পড়াশোনা ঠিকভাবে হচ্ছে না। অনলাইনে ক্লাস আর স্কুল, কলেজে গিয়ে ক্লাস করার মধ্যে অনেক তফাৎ রয়েছে। সবাই যদি একটু নিয়ম মেনে চলত তবে এই সমস্যায় হয়তো পড়তে হত না।‘