সৌরভ রায়, কুশমণ্ডি : কাশ্মীরের পুলওয়ামায় এখনও আটকে রয়েছে উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের ৩৯ জন শ্রমিক। ফলে চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছে ওই শ্রমিকদের পরিবারের লোকজন। আটকে থাকা শ্রমিকদের মধ্যে কুশমণ্ডি ব্লকেরই ৩১ জন শ্রমিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাপরিষদের মেন্টর শুভাশিস পাল। ওই শ্রমিকদের ফিরিয়ে আনার জন্য ইতিমধ্যেই তিনি জেলাশাসককে জানিয়েছেন বলে দাবি করেছেন। কুশমণ্ডি পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ জাহির আব্বাস রেজা জানিয়েছেন, স্থানীয় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার তরফে ওই শ্রমিকদের খোঁজ নিতে নেমে পড়েছে বেশ কয়েজন সদস্য।

আটকে থাকা শ্রমিকদের মধ্যে কুশমণ্ডি ব্লকের শিবকৃষ্ণপুর গ্রামের আট জন, আরাজি পানিশালা, ঢাকঢোল ও উজিল গ্রামের নয় জন, নাহিট গ্রামের চার জন, চণ্ডীপুর ও বাসকুড়ি গ্রামের সাত জন, বিষকুড়ি গ্রামের দুজন ও পরমেশ্বরপুর গ্রামের এক জন রয়েছে। ওই শ্রমিকদের সঙ্গে তাদের পরিবারের বর্তমানে কোনো যোগাযোগ নেই বলে জানা গিয়েছে। করঞ্জি গ্রামের ফাইজুর রহমান বলেন, আমার তিন ছেলে সাহাবুদ্দিন হোসেন, জাফর আলি ও জাহির মহম্মদ পুলওয়ামার ভেনাস প্লাইউড কারখানায় কাজ করে। তাদের সঙ্গে গত দুসপ্তাহ ধরে কোনো যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। ওই গ্রামের রুবেল রানার মা রুবিনা খাতুন বলেন, আমার ছেলে বাড়ি চলে আসবে বলেছিল। ভেবেছিলাম, জেলায় যখন ১০৫ জন শ্রমিক ফিরে আসে তাদের সঙ্গেই ও বাড়ি ফিরে আসবে। কিন্তু বাকিরা চলে এলেও আমার একমাত্র ছেলে ঘরে ফেরেনি। চিন্তায় রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছে।

- Advertisement -

একইভাবে করঞ্জি গ্রামের জাফর মহম্মদের গর্ভবতী স্ত্রী নাসরিন পারভিন বলেন, আমি কী করব বুঝে উঠতে পারছি না। পরিবারের লোকজন সঙ্গে থাকলেও মন পড়ে আছে কাশ্মীরের পুলওয়ামার প্লাই কারখানায়। অসহায়তার একই ছবি দেখা গিয়েছে আরাজি পানিশালা, মহিপাল, নাহিট, পরমেশ্বরপুর গ্রামের মণিরুল জামান, হায়দার আলি, সামিদার রহমান, চণ্ডীপুর গ্রামের মাজেদার রহমান কিংবা আবদুল সাদেকের পরিবারেও। সকলের আবেদন, কাশ্মীর থেকে রাজ্যের শ্রমিকদের ঘরে ফিরিয়ে আনতে রাজ্য সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছিল, তা আরও একবার গ্রহণ করুক।

বাসকুড়ি গ্রামের আরিফ রেজার বাবা লুৎফর রহমান বলেন, গত কয়েকদিন ধরে ছেলের কোনো ফোন পাচ্ছি না। কয়েক বছর ধরে আমার ছেলেও পুলওয়ামার পাশে একটি প্লাইউড কারখানায় কাজ করছে। পরিবারের সকলেই রোজ টিভি সহ পরিচত মানুষদের কাছে খোঁজ নিচ্ছে। ছেলের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে না পেরে হতাশ নাহিট গ্রামের নাসরিন ইয়াসমিনের বাবা এবং ঢাকঢোল উজিল ডাঙ্গাপাড়ার মাবুব আলমের বাবা আবদুল হামিদ। হামিদ সাহেব বলেন, প্রশাসন যদি উদ্যোগ নেয় তবে ছেলে তাড়াতাড়ি ঘরে ফিরতে পারবে। রোজ কাশ্মীরের ঘটনা কানে আসে। আর তখন সবকিছুই এলোমেলো হয়ে যায়।

এপ্রসঙ্গে স্থানীয় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্মী জাবেদ মিয়াঁদাদ ও মিজানুর রহমান বলেন, আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাশ্মীরে যাওয়া শ্রমিকদের বিষয়ে সমস্ত তথ্য জোগাড় করছি। এখনও পুলওয়ামাতে আটক উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার ৩৯ জন শ্রমিকের তালিকা রাজ্য সরকারের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছি। উত্তর দিনাজপুরের তরঙ্গপুর, রাধিকাপুর, ফরিদপুর ও সমসপুরের ৮ জন শ্রমিকও ওই রাজ্যে আটতে আছেন। এপ্রসঙ্গে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাপরিষদের মেন্টর শুভাশিস পাল বলেন, বিষয়টি জেলাশাসকের নজরে আনা হয়েছে। আগামী দুদিনের মধ্যে ভালো খবর পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।