দাঁড়িয়ে ক্লাস করতে হয় পড়ুয়াদের

248

অভিরূপ দে, ময়ানাগুড়ি : ছাত্রছাত্রীর সংখ্যার নিরিখে জলপাইগুড়ি জেলার দ্বিতীয় বৃহত্তম স্কুল। পড়ুয়ার সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার। বিদ্যালয়ের পঠনপাঠনের মান যথেষ্ট উন্নত। গত কয়েক বছরে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় স্কুলের ফলও যথেষ্ট ইতিবাচক। কিন্তু এত বিপুল সংখ্যক পড়ুয়ার বসে ক্লাস করার মতো পরিকাঠামো নেই। ফলে ক্লাস চলাকালীন হয় দাঁড়িয়ে কিংবা ঘরের মেঝেতে বসে অথবা ক্লাসের বাইরে দাঁড়িয়ে পড়া শুনতে হয় পড়ুয়াদের। ময়নাগুড়ি ব্লকের ভোটপাট্টি হনুমানবক্স লোহিয়া উচ্চবিদ্যালয়ে গত কয়েক বছর ধরে পর্যাপ্ত ক্লাসরুমের অভাবেই এই অবস্থা দেখা যাচ্ছে। প্রশাসনের তরফে বিদ্যালয়ের পরিকাঠামোর উন্নয়নের জন্য একাধিক পদক্ষেপ করা হলেও পড়ুযার সংখ্যা এতটাই বেশি যে পর্যাপ্ত ঘরের অভাবে প্রতিনিয়তই এখন সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে।

ময়নাগুড়ি ভোটপাট্টি বাজার সংলগ্ন এলাকায় ১৯৬৭ সালে এই বিদ্যালয়টি গড়ে ওঠে। এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা হনুমানবক্স লোহিয়ার নাম অনুসারে বিদ্যালয়ের এই নামকরণ হয়েছে। এলাকার বেশিরভাগ মানুষ তপশিলি জাতিভুক্ত। বিদ্যালয় চালুর প্রথম দিকে মাত্র হাতেগোনা কয়েকজন ছাত্রছাত্রীকে নিয়ে পঠনপাঠন শুরু হয়। তবে তার পর থেকে হুহু করে বাড়তে থাকে পড়ুয়ার সংখ্যা। এলাকার বাসিন্দাদের বেশিরভাগেরই প্রথম প্রজন্ম এই স্কুলের পড়ুয়া। বর্তমানে এই বিদ্যালয়ের পড়ুয়ার সংখ্যা ২৪২৫, যা ময়নাগুড়ি ব্লকের বিদ্যালয়গুলির মধ্যে সর্বোচ্চ। শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা ৪৮। পড়াশোনার মান ভালো হওয়ায় ভোটপাট্টি এলাকা ছাড়াও আশেপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে পড়ুয়ারা এসে এই বিদ্যালয়ে ভরতি হয়। পড়ুয়ার সংখ্যা বৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে কয়েক বছর আগেও বিদ্যালয়ে নতুন ভবন তৈরি করা হয়। কিন্তু পড়ুয়ার সংখ্যা দিনদিন বেড়ে চলায় বর্তমানে আরও বেশি ঘরের প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্লাস শুরু হলে ছাত্রছাত্রীদের বসার ঠিকমতো জায়গা পাওয়া যায় না। তখন ক্লাসের মধ্যে দাঁড়িয়ে কিংবা মেঝেতে বসে অথবা ক্লাসরুমের বাইরে থেকে পড়া শুনতে হয়।

অভিভাবকদের বক্তব্য, বিদ্যালয়ের পঠনপাঠনের মান যথেষ্ট উন্নত। অন্য বিভাগও জেলায় সুনাম অর্জন করেছে। ফলে এই বিদ্যালয়ে ভরতি হওয়ার জন্য আগ্রহ বেশি থাকে। কিন্তু পড়ুয়াদের সংখ্যার তুলনায় ক্লাসরুম এবং চেয়ার, বেঞ্চ কম। ফলে সব ছাত্রছাত্রী বসার সুযোগ পায় না। দাঁড়িয়ে অনেককে ক্লাস করতে হয়। বিদ্যালয়ে শিক্ষক রাজা রাউত, মানিক ঘটক, নীলাঞ্জন মিস্ত্রি, তাপস ঘোষ, নীলেশ দাশগুপ্ত জানান, কোনো বেঞ্চে ৫-৬ জন করে পড়ুয়া বসানোর পরেও অনেকের বসার জায়গা থাকে না। তখন তারা দাঁড়িয়ে ক্লাস করে। কোনো কোনো সময় বাইরের বারান্দায় দাঁড়িয়ে পড়া শুনতে হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৃণাল পাল জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে এই সমস্যা রয়েছে। তার মধ্যেও ছাত্রছাত্রীদের সহযোগিতায় ক্লাস হচ্ছে। ঘরের সংখ্যা ও আসবাবপত্র কম থাকার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রশাসন যদি এ ব্যাপারে নজর দেয় তবে সুবিধা হবে। বিদ্যালয়ের পরিচালন কমিটির সম্পাদক বাবন পাল জানান, ঘরের সংখ্যা কম থাকার জন্য সমস্যা রয়েছে। এই বিদ্যালয়ে এলাকার বহু ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করে। সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে উদ্যোগী হওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।