কোচবিহার মেডিকেলের মাতৃমায় চিকিৎসকের অভাব

শিবশংকর সূত্রধর, কোচবিহার : করোনা পরিস্থিতি সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। এদিকে, চিকিৎসকের সংকটে কোচবিহার সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মাতৃমা বিভাগে স্বাস্থ্য পরিষেবা মুখ থুবড়ে পড়েছে। মাত্র তিনজন চিকিৎসক দিয়ে চলছে গাইনোকলোজি বিভাগ। তবে পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে শনিবার আরও দুজন চিকিৎসককে আনা হয়েছে। এমএসভিপি ডাঃ রাজীব প্রসাদ বলেন, চিকিৎসক অনেক কম রয়েছে। সেজন্য স্বাস্থ্য দপ্তরের কাছে চিকিৎসক চাওয়া হয়েছিল। নতুন করে দুজন এদিন কাজে যোগ দিয়েছেন। আরও চিকিৎসকের প্রযোজন রয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, মাতৃমার গাইনিকলোজি বিভাগে মোট আটজন চিকিৎসক ছিলেন। তার মধ্যে একজন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন। একজন চিকিৎসক ছুটিতে কলকাতায় আছেন। করোনা সংক্রামিতের সংস্পর্শে আসায় তিনজন চিকিৎসক হোম আইসোলেশনে রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে মাত্র তিনজন চিকিৎসক দিয়ে পরিষেবা দেওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন মাতৃমা বিভাগে কমবেশি ৩০টি শিশুর জন্ম হয়। শতাধিক শিশু ও মহিলা সেখানে চিকিৎসাধীন থাকেন। এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের সংকট দেখা দেওয়ায় পরিষেবা দিতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। এছাড়া মাতমায় চিকিৎসকের আরও তিনটি পদ ফাঁকা রয়েছে। দীর্ঘদিন আগে সেখানে দুজন চিকিৎসক নিয়োগ করা হলেও তাঁরা পরবর্তীতে চলে যান। সেই পদে নতুন করে আর নিয়োগ হয়নি। মাতৃমার এক আধিকারিক জানান, প্রায় দুবছর আগে মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাব বা মাতৃমা তৈরি হয়েছে। উন্নতমানের চিকিৎসার জন্য এখানে শিশুমৃত্যুর হার অনেক কমে গিয়েছে। পাশাপাশি রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক কম। দ্রুত এই সমস্যা মেটানো উচিত।

- Advertisement -

হাসপাতাল সূত্রে খবর, যে তিনজন চিকিৎসক করোনা সংক্রামিতের সংস্পর্শে এসেছিলেন, তাঁদের লালার নমুনা পরীক্ষা করা হবে। সেই রিপোর্ট নেগেটিভ এলে তাঁরা কাজে যোগ দেবেন। তখন সমস্যা কিছুটা মিটবে। মাতৃমায় চিকিৎসাধীন এক মহিলার আত্মীয় কোচবিহার-১ ব্লকের শুকটাবাড়ির বাসিন্দা রতন দাস বলেন, ভিজিটিং আওয়ারের বাইরে তো আমাদের ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হয় না। সেখানে চিকিৎসক নিয়ে কোনও সমস্যা রয়েছে কিনা জানা নেই। তবে যদি কোনও সমস্যা থেকে থাকে, তাহলে কর্তৃপক্ষ দ্রুত সমস্যা মেটাক। সাধারণ মানুষ যাতে সঠিকভাবে পরিষেবা পায়, সেই ব্যবস্থা করা হোক।