কৌশিক দাস, লাটাগুড়ি : কর্মীর অভাবে জলপাইগুড়ি জেলায় মুখ থুবড়ে পড়েছে গ্রন্থাগার দপ্তরের বই ধরো বই পড়ো প্রকল্প। জেলার সব গ্রন্থাগারে প্রকল্প শুরু করার নির্দেশ পৌঁছে গেলেও বহু গ্রন্থাগার এই প্রকল্প শুরুই করতে পারেনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন জলপাইগুড়ি জেলা গ্রন্থাগারিক সৈকত গোস্বামী।

জলপাইগুড়ি জেলা গ্রন্থাগারের বার্ষিক পত্রিকা থেকে জানা গিয়েছে, জেলায় বর্তমানে গ্রন্থাগারের সংখ্যা ৭৩টি। এর মধ্যে বেশ কিছু গ্রন্থাগারে কোনো গ্রন্থাগারিক নেই। বেশ কিছু গ্রন্থাগার চতুর্থ শ্রেণির কর্মী দিয়ে চলছে। বছরখানেক আগে সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী বেশ কিছু বন্ধ হয়ে যাওয়া গ্রন্থাগার ফের খোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। এর ফলে যেসব গ্রন্থাগারে দুজন কর্মী ছিলেন, সেখান থেকে একজন করে কর্মী বদলি করা হয়েছিল। পরিসেবায় বিঘ্ন হওয়ায় জেলার যেসব গ্রন্থাগারে পাঠকের ভিড় হত, সেখানে এখন পাঠক কমে গিয়েছে।

পাঠকদের যাতে গ্রন্থাগারমুখী করা যায়, সেই উদ্দেশ্যে মাস কয়েক আগে গ্রন্থাগার দপ্তরের তরফে বই ধরো বই পড়ো প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি গ্রন্থাগারে ৬ হাজার পাঠকের নাম নথিভুক্ত করার নির্দেশ যায়। জেলার বেশ কিছু গ্রন্থাগারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেল, এই প্রকল্প আদৌ শুরুই করা যায়নি কর্মীসংকটের কারণে। মাল টাউন লাইব্রেরির গ্রন্থাগারিক গৌতম সরকার বলেন, আমরা পাঠকসংখ্যা বাড়ানোর জন্য নানা পরিকল্পনা নিয়েছি। বই ধরো বই পড়ো প্রকল্পের জন্য আমরা ফর্ম বিলি করলেও অনেকেই সেই ফর্ম ফিল আপ করে আর জমা করছেন না। তবুও আমরা চেষ্টা করছি।

লাটাগুড়ির বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত গ্রন্থাগারকর্মী বিমল দাস দীর্ঘদিন ধরে লাটাগুড়ি নেতাজি পাঠাগারের সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে এসেছেন। তিনি বলেন, কর্মীর অভাবে গ্রন্থাগারগুলি ধুঁকছে। লাটাগুড়ি নেতাজি পাঠাগার জলপাইগুড়ি জেলার শ্রেষ্ঠ গ্রন্থাগারগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল। কিন্তু গ্রন্থাগারিককে অন্য জাযগায় বদলি করার ফলে লাটাগুড়ির অন্যতম গ্রন্থাগারটিই প্রায় নষ্ট করে দেওয়া হল। চতুর্থ শ্রেণির কর্মী দিয়ে কোনোরকমে চলছে গ্রন্থাগারটি। কর্মী নিয়োগ না করে একটা সচল গ্রন্থাগারকে এভাবে অচল করে দেওয়ার কারণ কী, প্রশ্ন তাঁর।

পশ্চিমবঙ্গ গ্রন্থাগারকর্মী কল্যাণ সমিতির জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি তাপস বাগচি বলেন, কর্মীর অভাবে ধুঁকছে গ্রন্থাগারগুলি। দীর্ঘদিন ধরে গ্রন্থাগারে কর্মী নিয়োগ হয়নি। বেশির ভাগ গ্রন্থাগার কর্মীরও বয়স হয়েছে। চতুর্থ শ্রেণির কর্মী দিয়ে বহু গ্রন্থাগার চলছে। এভাবে কোনো প্রকল্প কার্যকর হওয়া সম্ভব নয়। জলপাইগুড়ি জেলা গ্রন্থাগার আধিকারিক সৈকত গোস্বামী বলেন, আমরা সরকারি প্রকল্প কার্যকর করার চেষ্টা করছি। বেশ কিছু এলাকায় ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। আশা করছি ধীরে ধীরে সব জায়গাতেই এটি সাফল্যলাভ করবে।