বন্ধ ঘাস লাগানো, তৃণভমির অভাবে বুনোদের খাদ্য সংকটের আশঙ্কা

142

শুভদীপ শর্মা, লাটাগুড়ি : অর্থের অভাবে গরুমারা জাতীয় উদ্যানে নতুন ঘাস ও গাছ লাগানো যাচ্ছে না। বন দপ্তর সূত্রে এমনটাই জানানো হয়েছে। সম্ভবত চলতি বছরই প্রথম গরুমারার তৃণভোজী প্রাণীদের জন্য ঘাস লাগানোর কাজ বন্ধ রইল। ফলে তাদের খাদ্যের ভাঁড়ারে টান পড়তে পারে বলে আশঙ্কা ওয়াকিবহাল মহলের। ঘাস ও গাছ লাগানোর সময় পেরিয়ে গেলেও অর্থের জোগান হলেই কাজ শুরু হবে বলে আশা স্থানীয় বনকর্তাদের। যদিও গরুমারা বন্যপ্রাণী বিভাগের বনকর্তারা এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে মুখ খুলতে নারাজ।

রাজ্য বন দপ্তর বিভাগের চিফ ওয়াল্ডলাইফ ওয়ার্ডেন বিনোদকুমার যাদব বলেন, এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করব। বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন না তোলায় তাঁর বক্তব্য মেলেনি।

- Advertisement -

বন দপ্তর সূত্রে খবর, এই মুহূর্তে গরুমারা জাতীয় উদ্যানে প্রায় ৫০টির ওপর গন্ডার, দেড় হাজারের ওপর বাইসন, বেশ কয়েকটি প্রজাতির কয়েকশো হরিণ, বহু হাতি ছাড়াও ছোট-বড় মিলিয়ে নানা প্রজাতির তৃণভোজী প্রাণী রয়েছে। এই সমস্ত প্রাণীর খাদ্যের জন্য প্রতিবছর জঙ্গলের বিভিন্ন স্থানে ঘাস লাগানো হয়। সাধারণত এপ্রিল-মে মাসে চেপটি, মালসা, ঢাড্ডা প্রজাতির ঘাস লাগানোর কাজ শেষ করে বন দপ্তর। পাশাপাশি জঙ্গলের নির্দিষ্ট জায়গা চিহ্নিত করে গাছ লাগানো হয়। বর্ষার জলে এই ঘাস ও গাছগুলি যাতে সহজে বেড়ে উঠতে পারে, তাই বর্ষার আগেই এসব কাজ শেষ করে ফেলা হয়। তবে চলতি বছর পরিস্থিতি একেবারেই আলাদা। এ বছর গরুমারায় ৬৭ হেক্টর জমিতে ঘাস ও ২৮ হেক্টর জমিতে গাছ লাগানোর কথা ছিল। সেই মোতাবেক জায়গা চিহ্নিত করে গাছ ও ঘাস লাগানোর উপযুক্ত করে তোলা হয়েছিল। কিন্তু অর্থের সংস্থান না হওয়ায় সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও সেসব লাগানো সম্ভব হয়নি। ফলে সেখানকার বিপুল সংখ্যক তৃণভোজী প্রাণীর খাদ্যে টান পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

দ্রুত এই বিষয়ে অর্থ মঞ্জুর করে ঘাস ও গাছ লাগানোর আবেদন জানিয়েছেন পরিবেশপ্রেমীরা। স্থানীয় গ্রিন লেভেল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সম্পাদক অনির্বাণ মজুমদার অভিযোগ করে বলেন, প্রতিদিনই বন্যপ্রাণীরা খাদ্যের অভাবে লোকালয়ে বেরিয়ে পড়ছে। এবার তৃণভোজীদের খাবারের ঘাস না লাগানোয় সমস্যা জটিলতর হতে পারে। অর্থ মঞ্জুর করে ঘাস ও গাছ লাগানোর দাবি জানাচ্ছি।