দীপংকর মিত্র, রায়গঞ্জ : নামেই শ্মশান। একমাত্র চুল্লি ছাড়া কিছুই নেই। ফাঁকা মাঠের ওপর একটি লোহার চুল্লি, ওপরে নেই কোনো ছাউনি। বৃষ্টি শুরু হলেই অনেক সময় শ্মশানযাত্রীরা চুল্লি থেকে আধপোড়া মৃতদেহ নামিয়ে গাছতলায় নিয়ে আসেন। আবার অনেক সময় চুল্লির ওপর নিজেদেরকেই অস্থায়ী ছাউনি দিয়ে মৃতদেহ দাহ করতে হয়। শ্মশানে গড়ে ওঠেনি কোনো পরিকাঠামো। মৃতদেহ দাহ করার জন্য শ্মশানযাত্রীদের খড়ি বা জ্বালানি নিয়ে আসতে হয়। নেই বিশ্রামঘর, নেই টিউবওয়েল, নেই শৌচাগারও।

চুল্লির সামনে একটি সোলার লাইট থাকলেও প্রায় ৬ মাস ধরে তা অকেজো। রাতের ঘন অন্ধকারে শ্মশানে আসা সাধারণ মানুষের চলাফেরা করতে সমস্যা হয়। রাতে শবদাহ করতে হলে নিয়ে আসতে হয় হ্যারিকেন বা টর্চ। কোনো টিউবওয়েল বা জলের ব্যবস্থা না থাকায় দাহকার্যে একমাত্র ভরসা পুকুর। চুল্লির পিছনে রয়েছে ওই পুকুরটি। পুকুরের জল দিয়ে যাবতীয় কাজকর্ম সারতে হয়। কিন্তু পুকুরে নামার জন্য নেই কোনো ঘাট বা সিঁড়ি। তাই মাঝেমধ্যে দুর্ঘটনায় পড়েন শবযাত্রীরা। শ্মশানে শবদেহ নিয়ে আসার রাস্তাটিও বেহাল। বর্ষার সময় শ্মশানে দাহ করতে আসতে সমস্যায় পড়েন শবযাত্রীরা। মালঞ্চা, দক্ষিণ মালঞ্চা, ছাতিয়ান, নয়নটুলি সহ প্রায় ৬টি গ্রামের মানুষ এই শ্মশানে দাহ করতে আসেন। তাই শ্মশানটির পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের দাবি তুলেছেন গ্রামবাসীরা। স্থানীয় বাসিন্দা ছুলু বর্মন বলেন, প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো এই শ্মশান। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো পরিকাঠামো গড়ে ওঠেনি। ঝড় বৃষ্টি হলে খুব সমস্যায় পড়তে হয় শবযাত্রীদের। ছাউনি না থাকায় বৃষ্টি নামলে অনেক সময় চুল্লি থেকে আধপোড়া শবদেহ নামিয়ে নিয়ে আসতে হয় গাছতলায়।

- Advertisement -

গ্রামবাসী যুগল বর্মন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পঞ্চায়েতকে জানিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না। একদিকে বেহাল রাস্তাঘাট, অন্যদিকে বেহাল শ্মশান। গ্রামের মানুষ খুব কষ্টে আছেন। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য তথা বরুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ধনেশ্বর বর্মন বলেন, এই শ্মশানে মালঞ্চা, ছাতিয়ান, নয়াটুলি সহ বিভিন্ন গ্রামের মানুষ মৃতদেহ দাহ করতে আসেন। পরিকাঠামো না থাকায় সমস্যায় পড়তে হয় শবযাত্রীদের। তবে শীঘ্রই শ্মশানটির পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। চুল্লির ওপরে ছাউনি, টিউবওয়েল ও বিশ্রামঘরের পাশাপাশি আলো ও শৌচাগার তৈরি করা হবে। তিনি আরও বলেন, রাস্তাঘাটের অবস্থা সত্যিই বেহাল। গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষে প্রায় ২ কিমি রাস্তা তৈরি করা সম্ভব নয়। তাই পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলাপরিষদকে আমরা জানিয়েছি। গ্রামবাসীরা শ্মশানের চারিদিক পাঁচিল দিয়ে ঘিরে রক্ষণাবেক্ষণের দাবি করেছেন।