বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ : নামেই মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। ব্রেন হেমারেজ থেকে শুরু করে হার্ট নিউরোলজি সহ একটু জটিল কোনও অসুখ হলেই আজও রায়গঞ্জবাসীকে ভরসা করতে হয় উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ অথবা অন্য কোনও বেসরকারি হাসপাতালের উপরেই। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, একটি মেডিকেল কলেজ থেকেও যদি চিকিৎসার জন্য অন্য কোনও জায়গায় যেতে হয়, তাহলে সেটি থাকার প্রয়োজনীয়তা কোথায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় কাউকে এই হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রেফার করে দেওয়া হয় উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। যদিও কর্তৃপক্ষের দাবি, একদিনে কোনও কিছু গড়ে ওঠে না। এখানে মেডিকেল কলেজ চালু হওয়ার পর ছাত্রছাত্রী ভর্তি সহ আরও বেশ কিছু পরিষেবা চালু হয়েছে। মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ দিলীপকুমার পাল বলেন, এখানে একটি জেলা হাসপাতালকে মেডিকেল কলেজে উন্নীত করা হয়েছে। তাই সেটি রাতারাতি পূর্ণমাত্রায় মেডিকেল কলেজ হয়ে ওঠে না। ধাপেধাপে এই উন্নয়ন করতে হয়। এইজন্য চিকিৎসক, লোকবল, পরিকাঠামো বিভিন্ন বিভাগে নিয়োগ সহ প্রভৃতি বিষয়ে প্রয়োজন হয়। এখনও পর্যন্ত বিভাগগুলি রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজে নেই। ধীরে ধীরে বিভাগগুলি খোলার চেষ্টা করা হচ্ছে।

- Advertisement -

কলকাতা থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রায়গঞ্জ শহর। শিলিগুড়ি প্রায় ২০০ কিলোমিটার। আর সেই কারণেই রায়গঞ্জবাসীর দুর্ভোগ কমাতে বছর দেড়েক আগে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ চালু হলেও এখনও পর্যন্ত এখানে নিউরোলজি, ইউরোলজি, নেফ্রলজি, এন্ড্রোকোলজি বা বার্ন ইউনিটের মতো একাধিক বিভাগ চালু হয়নি। ফলে অসুখ একটু জটিল হলেই রোগীদের অন্যত্র রেফার করা হয়। রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে অনেক সময় নানা অভিযোগ ওঠে। সঠিক পরিষেবা না পেয়ে অনেক রোগীকেই বাইরে চিকিৎসার জন্য যেতে হয়। একেই রায়গঞ্জ থেকে যে কোনও জায়গার দূরত্ব একটা বড় বিষয়, সেই দূরত্ব অতিক্রম করে চিকিৎসা করাতে যাওয়াটা একটা সমস্যা।

গত ৭ দিনে প্রায় ১৩৫ জন রোগীকে অন্যত্র রেফার করা হয়েছে। তাতেই রীতিমতো ক্ষুব্ধ রায়গঞ্জ মহকুমার বাসিন্দারা। মোটরবাইক নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে পথ দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হন হেমতাবাদ থানার বিলপাড়া এলাকার বাসিন্দা আবদুল সিদ্দিক। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হওয়ায় তাঁকে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে রেফার করা হয়েছে। জখমের দাদা ইশাক আলি বলেন, গুরুতর জখম অবস্থায় আবদুলকে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করলে কর্তব্যরত শল্য চিকিৎসক উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে রেফার করেন। রায়গঞ্জ থানার লক্ষ্মণীয়ার বাসিন্দা বিলাস বর্মন (৩০) বাইক দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হন। তাঁকেও রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করলে কিছুক্ষণের মধ্যে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে রেফার করা হয়।

একই ঘটনা ঘটেছে মনজুর আলম ও তফসিরুল মহম্মদের সঙ্গেও। জখমদের আত্মীয় সইফুল রহমান ও জ্যোতিষ বর্মনের দাবি, রায়গঞ্জ হাসপাতাল নামেই মেডিকেল কলেজ। এখানে কোনও আধুনিক পরিষেবা মেলে না। ফলে গুরুতরভাবে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে অন্যত্র রেফার করতে হয়। আমরা চাই, একটি মেডিকেল কলেজের যে পরিকাঠামো প্রয়োজন, তা অবিলম্বে চালু করা হোক। এতে রায়গঞ্জ সহ উত্তর দিনাজপুর জেলার মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।