বাপি দাস, আলিপুরদুয়ার : আলিপুরদুয়ার জেলায় রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরশিক্ষণ বিভাগের কয়েকটি স্টাডি সেন্টারে ঢিলেঢালা পরিকাঠামোর জেরে স্নাতকোত্তর স্তরের পড়ুয়াদের বিপাকে পড়তে হচ্ছে। আলিপুরদুয়ারের বিবেকানন্দ কলেজের স্টাডি সেন্টারের ছাত্রছাত্রীরা পরিকাঠামো ও পরিচালন ব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, দিনের পর দিন পরীক্ষার খাতা নিয়ে গাফিলতি, দেরিতে পরীক্ষার ফল প্রকাশ, সময়মতো স্টাডি মেটিরিয়াল না পাওয়া সহ বিভিন্ন বিষয় রয়েছে।

২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তর স্তরের ছাত্রছাত্রীরা গত বছর ডিসেম্বর মাসে থার্ড সিমেস্টারের পরীক্ষা দিলেও আজ পর্যন্ত তাঁদের ফল প্রকাশিত হয়নি। এছাড়া, নতুন নিয়মানুযায়ী থার্ড সিমেস্টারের ফল না বেরোতেই ছাত্রছাত্রীরা গত জানুয়ারিতে ফোর্থ সিমেস্টারে ভর্তি হন। কিন্তু, তিনমাস পরও তাঁরা কোনও ধরনের স্টাডি মেটিরিয়াল হাতে পাননি। ফলে ছাত্রছাত্রীরা দিশেহারা হয়ে প্রতিনিয়ত ওই স্টাডি সেন্টারে ভিড় জমাচ্ছেন। কলেজ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনও সহযোগিতা না পেয়ে তারা ছাত্রছাত্রীদের ঘুরিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এর আগে স্নাতকোত্তর স্তরের ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষের পার্ট ওয়ান অ্যানুয়াল মোডের ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষার খাতা হারিয়ে যায়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ে তরফে ছাত্রছাত্রীদের সকলকেই গড় নম্বর দিয়ে দিতে বিবেকানন্দ কলেজে নোটিশ পাঠানো হয়। সেই নোটিশে অবশ্য দ্বিতীয় বিকল্প হিসেবে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়টির উল্লেখ ছিল। তবে বিবেকানন্দ কলেজের ছাত্রছাত্রীরা প্রথম বিকল্পটিকেই বেছে নেন বলে জানা গিয়েছে। দিনের পর দিন এমন গাফিলতি এবং ঢিলেঢালা পরিকাঠামোয় শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

- Advertisement -

২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষের বিবেকানন্দ কলেজের স্টাডি সেন্টারের পোস্ট গ্র‌্যাজুয়েটের ছাত্রী মালবিকা দেবনাথ বলেন, প্রায় চারমাস হয়ে গেলেও পরীক্ষার ফল পাইনি। এছাড়া, ফোর্থ সিমেস্টারে ভর্তি হওয়ার তিনমাস পরও স্টাডি মেটিরিয়াল পাইনি। তাই ভর্তি হওয়ার পরও পড়াশোনা করতে পারছি না। পার্ট ওয়ান অ্যানুয়াল মোডের ছাত্র বিকাশ সরকার বলেন, ২০১৯ সালে পোস্ট গ্র‌্যাজুয়েটের ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষের পার্ট ওয়ান অ্যানুয়াল মোডের পরীক্ষা হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও ফল না পেয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে জানতে পারি, আমাদের পরীক্ষার খাতা নাকি হারিয়ে গিয়েছে। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ে তরফে ছাত্রছাত্রীদের সকলকেই গড় নম্বর দিয়ে পাশ করিয়ে দেওয়া হয়।

বিবেকানন্দ কলেজের টিআইসি গোবিন্দ রাজবংশী বলেন, এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এখনও কোনওরকম নির্দেশ না আসায় আমরা ছাত্রছাত্রীদের ঘুরিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছি। সমস্যা নিয়ে নিয়মিত বিশ্ববিদ্যালয়ে জানানো সত্ত্বেও অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে না। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরশিক্ষণ বিভাগের ডাইরেক্টর (অ্যাক্টিং) ডঃ ঈশানী নস্কর বলেন, এটা শুধু আলিপুরদুয়ার বিবেকানন্দ কলেজের বিষয় নয়। সমস্ত স্টাডি সেন্টারের জন্যই একই কথা প্রযোজ্য। খাতা দেখা, রেজাল্ট তৈরি করা, স্টাডি মেটিরিয়াল দেওয়া, সবকিছুর জন্যই তো কিছুটা সময়ে প্রয়োজন হয়। আশা করছি শীঘ্রই সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ করে ছাত্রছাত্রীদের কাছে সব মেটিরিয়াল পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। খাতা হারিয়ে য়াওয়ার বিষয়টি এবং সেই পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা নোটিশ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অনেকদিন আগেই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মিটিয়ে ফেলেছে। সে বিষয়ে নতুন করে আর কিছু বলার নেই।