এমজেএন মেডিকেল কলেজের নতুন ক্যাম্পাসে নিরাপত্তার অভাব

405

শিবশংকর সূত্রধর, কোচবিহার : কোচবিহারের এমজেএন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নতুন ক্যাম্পাসে নিরাপত্তার অভাব রয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় নিরাপত্তারক্ষী একেবারেই কম রয়েছে। শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষিবীজ খামার এলাকায় ২৫ একর জমির ওপর তৈরি কলেজ ক্যাম্পাসে নিরাপত্তার দাযিত্বে রয়েছেন মাত্র ১০ জন সিভিল ডিফেন্সের কর্মী। সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর কাজ চললেও সেই কাজ শেষ হয়নি। ক্যাম্পাসের সীমানাপ্রাচীরের অনেকটা অংশই ঢিলেঢালা টিন দিয়ে তৈরি। সামনের রাস্তায় পথবাতি নেই। ফলে যে কোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে। মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ সুকুমার বসাক বলেন, সব মিলিয়ে আমাদের ১৪৪ জন নিরাপত্তারক্ষী প্রয়োজন। তার অনুমোদন চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। নিরাপত্তার অভাব রয়েছে ঠিকই। আশা করছি দ্রুত সমস্যা মিটে যাবে।

প্রায় দুবছর আগে কোচবিহারে মেডিকেল কলেজের পরিষেবা শুরু হয়েছে। কিন্তু কৃষিবীজ খামার এলাকায় তাদের নিজস্ব ভবন না থাকায় কোচবিহার স্টেডিয়ামের ভিতরে থাকা যুব আবাসে অস্থায়ীভাবে পঠনপাঠন চলছিল। সেখানে জেলার দ্বিতীয় করোনা হাসপাতাল তৈরি হবে। সেজন্য তড়িঘড়ি সেই জায়গা ছেড়ে নিজেদের ভবনে যেতে হয়েছে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষকে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেই ভবনের কাজ ১০০ শতাংশ সম্পন্ন না হওয়ায় নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যেই এমবিবিএস কোর্সে দ্বিতীয় বর্ষে ভর্তিও শুরু হয়েছে। নতুন ক্যাম্পাসে যে সমস্যা রয়েছে তার মধ্যে নিরাপত্তারক্ষীর অভাব সবচেয়ে বড় সমস্যা। কারণ মেডিকেল কলেজের এই ক্যাম্পাসটি শহরের এক প্রান্তে অবস্থিত। ওই এলাকাটি শুনসান। সামনের রাস্তায় পর্যাপ্ত পথবাতি নেই। সেখানে দ্রুত পথবাতি বসানোর দাবি উঠেছে। কলেজের এক আধিকারিক বলেন, এখনও ভবন তৈরির কাজ চলছে। ফলে নির্মাণকর্মীরাও কিছুটা দেখভাল করছেন। যখন তাঁদের কাজ শেষ হয়ে যাবে, তখন আমাদের ওপরই পুরো দায়িত্ব এসে পড়বে। তার আগেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তারক্ষী রাখতে হবে।

- Advertisement -

জেলায় সরকারিভাবে আরটি-পিসিআর মেশিন দিয়ে যে করোনার পরীক্ষা চলছে, সেটিও সেই মেডিকেল কলেজের চত্বরে করা হচ্ছে। করোনা সংকটের জেরে বর্তমানে মেডিকেল কলেজে পঠনপাঠন বন্ধ রয়েছে। তবে অফিশিয়াল কাজকর্ম চলছে। পঠনপাঠনের পাশাপাশি মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসের ভিতরে অডিটোরিয়াম, চারটি হস্টেল, একাধিক কোয়ার্টার রয়েছে। যার বেশিরভাগ তৈরি হয়ে গিয়েছে। ফলে দ্রুত নিরাপত্তারক্ষী নিযোগের দাবি তুলেছেন সেখানকার কর্মীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মী বলেন, মেডিকেল কলেজের সামনের রাস্তাটিতে কোনও পথবাতি নেই। সন্ধে নামলেই এলাকা শুনসান হয়ে যায়। অনেক সময় কাজ শেষ করে ফিরতে ফিরতে সন্ধে হয়। তাই রাস্তায় পথবাতি লাগানো প্রয়োজন।