সতীপুকুর শ্মশানে জায়গার অভাব

337

ইসলামপুরঃ সতীপুকুর শ্মশানে জায়গার অভাবে শিশু ও মহন্তদের সমাধি দিতে পারছেন না। ফলে ওই সব মরদেহ নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে ইসলামপুরবাসীকে। শহরের বাসিন্দাদের শিশু ও মহন্তদের সমাধিস্থ করতে বিহারের ডোংরাবস্তির ফাটিপুকুর, ইসলামপুর শহর থেকে প্রায় ১০ কিমি দূরে মাটিকুন্ডা শ্মশানের উপর নির্ভর করতে হয়। অবিলম্বে শিশু ও মহন্তদের সমাধিস্থ করতে সতীপুকুর শ্মশান সংলগ্ন জমির ব্যবস্থা করার দাবি উঠেছে।

সূত্রের খবর, আগে সতীপুকুর শ্মশানে শিশু ও মহন্তদের যে জায়গায় সমাধিস্থ করা হত সেখানে শ্মশানে বৈদ্যুতিক চুল্লি বসানো হয়েছে। এছাড়া বৈদ্যুতিক চুল্লি বসানোর ফলে শ্মশানের সৌন্দর্য্যয়ানের উপরেও প্রভাব পড়েছে বলে দাবি সতীপুকুর শ্মশান কমিটির কর্মকর্তাদের। শ্মশান কমিটির সভাপতি বাণীপ্রসাদ নাগ বলেন, সাধু-সন্ত ও শিশুদের সমাধির জায়গায়ই নেই শ্মশানে। ফলে খুবই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তাদের সমাধির জন্য তিনি বিকল্প জমির ব্যবস্থা করার দাবি তুলেছেন।

- Advertisement -

শহরবাসী ও শ্মশান কমিটি সূত্রে খবর, শহরের চোপড়াঝাড় মৌজায় তিস্তা ক্যানেল সংলগ্ন এলাকায় ১৯৭৩ সালে শহরের একমাত্র শ্মশান গড়ে ওঠে। তৎকালীন মহকুমা শাসক দিলীপ চৌধুরি সতীপুকুর শ্মশানের সৌন্দর্যায়নে এগিয়ে আসেন। ২০০৪ সালে শ্মশানে স্থান পায় নানা দেবদেবীর মূর্তি এবং বাগিচা। তারপাশেই দাহ করা ও সমাধি করার স্থান। শ্মশানে সাধু-সন্ত ও শিশুদের পাশাপাশি ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালের মর্গের বেওয়ারিশ লাশের সমাধিস্থ করা হত। এলাকার বিধায়ক আব্দুল করিম চৌধুরি মন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই সতীপুকুর শ্মশানে বৈদ্যুতিক চুল্লি বসানোর দাবি ওঠে শহরে। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের অর্থানুকূল্যে সতীপুকুর শ্মশানে বৈদ্যুতিক চুল্লি বসানোর হয়। জমি কম থাকায় বাগান ও সমাধির জায়গার বড় অংশ বৈদ্যুতিক চুল্লি বসানোর কাজে লেগে যায়। ফলে সমাধির জন্য শহরবাসীকে দূরের শ্মশানের উপর ভরসা করতে হচ্ছে। এছাড়া মর্গের বেওয়ারিশ লাশ নিয়েও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে পুলিশ ও প্রশাসনকে।

সমাধির জায়গার বিষয়ে ইসলামপুর পুরসভার প্রশাসক কানাইয়ালাল আগরওয়াল বলেন, সতীপুকুর শ্মশানে শিশু, সাধু সন্ত এবং বেওয়ারিশ লাশগুলিকে সমাধিস্থ করার জায়গার সমস্যা নিয়ে আমরা ভাবিত। শ্মশানের পাশে পুকুর ঘেশা একটি জমি কেনা নিয়ে পুরসভার সঙ্গে কথাবার্তা চলছে। ওই জমিটি পেয়ে গেলে আর সমস্যা থাকবে না।