কর্মী-আধিকারিকের অভাবে কোচবিহারে মুখ থুবড়ে শিক্ষাব্যবস্থা

গৌরহরি দাস, কোচবিহার : কর্মী-আধিকারিকের অভাবে কোচবিহার জেলায় কার‌্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে শিক্ষা ব্যবস্থা। জেলার শিক্ষা ব্যবস্থাকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক দপ্তর ও মহকুমাগুলিতে সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শকের দপ্তর রয়েছে। অথচ ওই দপ্তরগুলিতে কর্মী-আধিকারিকের সংখ্যা একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেছে। সবমিলিয়ে মোট কর্মী-আধিকারিকের এক-তৃতীযাংশও নেই। এতে কাজ করতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে আধিকারিকদের। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক দুই দপ্তরেরই একই অবস্থা। অভিযোগ, বিষয়গুলি নিয়ে রাজ্য শিক্ষা দপ্তরের কোনও হেলদোল নেই। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে উঠেছে যে, আধিকারিকের অভাবে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শককে (প্রাথমিক) তাঁর নিজের দায়িত্বের পাশাপাশি মাধ্যমিকের ডিআইয়ে দায়িত্বভার, জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সম্পাদকের দায়িত্বও সামলাতে হচ্ছে। একসঙ্গে এতগুলি দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন তিনি।

জেলা শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, কোচবিহার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় ডিআই অফিসে ডিআই, এআই ও এএসআই একজন করে থাকলেও জুনিয়ার ক্লার্কের তিনটি পদে একজনও নেই। আপার ডিভিশন ক্লার্কের (ইউডিসি) তিনজনের মধ্যে রয়েছেন একজন। গ্রুপ-ডির তিনজনের মধ্যেও রয়েছেন মাত্র একজন। এছাড়া জেলায় প্রাথমিকের ২৬টি সার্কেল অফিস রয়েছে। সেই অফিসগুলির অবস্থা একেবারে তথৈবচ। সেখানে ইউডিসি পাঁচজনের মধ্যে চারজন থাকলেও এলডিসি ২১টি পদের মধ্যে রয়েছেন মাত্র চারজন। গ্রুপ-ডি ২৬ জনের মধ্যে রয়েছেন মাত্র ৭ জন।

- Advertisement -

জেলায় প্রাথমিকের মতো একইরকম ভয়াবহ অবস্থা মাধ্যমিকেও। জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে দপ্তরে স্থায়ী বিদ্যালয় পরিদর্শক নেই। প্রাথমিকের ডিআই দায়িত্বভার সামলাচ্ছেন। জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) দপ্তরে সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শকের পদ রয়েছে সাতটি। অথচ সেখানে সাতজনের মধ্যে রয়েছেন মাত্র ২ জন। অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকের ২টি পদ থাকলেও তাতে একজনও নেই। দপ্তরে গ্রুপ-ডি রয়েছেন ৪ জন, এলডিসি ৩ জন ও ইউডিসি রয়েছেন ৫ জন। এছাড়া মাধ্যমিকের জন্য প্রতিটি মহকুমায় একটি করে সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শকের দপ্তর রয়েছে। প্রতিটি দপ্তরে একজন সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শক (এআই), তিনজন অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক (এসআই), এলডি, ইউডি মিলে তিনজন ক্লার্ক ও দুজন করে গ্রুপ-ডি অর্থাৎ মোট নয়টি পদ রয়েছে।

অথচ সেখানে চারটি মহকুমায় চারজন এআই থাকলেও তুফানগঞ্জ মহকুমায় কোনও এআই নেই। পাঁচটি মহকুমায় তিনজন করে মোট ১৫ জন এসআই থাকার কথা থাকলেও তার মধ্যে শুধুমাত্র দিনহাটা ও মাথাভাঙ্গায় একজন করে মোট দুজন এসআই রয়েছেন। বাকি ১৩ জন নেই। গ্রুপ-ডি দুজন করে মোট দশজনের মধ্যে শুধুমাত্র তুফানগঞ্জ ও কোচবিহার সদরে একজন করে রয়েছেন। দিনহাটা, মেখলিগঞ্জ ও মাথাভাঙ্গা মহকুমায় কোনও গ্রুপ-ডি নেই। প্রতিটি মহকুমায় তিনজন করে ক্লার্ক থাকার কথা থাকলেও কোচবিহার সদরে দুজন ও বাকি চারটি মহকুমায় মাত্র একজন করে রয়েছেন। অর্থাৎ ১৫ জনের মধ্যে রয়েছেন মাত্র ছয়জন।

কর্মী-আধিকারিকের অভাবে পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে উঠেছে যে, প্রাথমিকের ডিআই কানাইলাল দে প্রাথমিক ছাড়াও মাধ্যমিকের ডিআই ও জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান এবং সম্পাদকের পদ সামলাচ্ছেন। তিনি বলেন, এতগুলি পদ কীভাবে সামলাব বুঝে উঠতে পারছি না। এমনিতেই কর্মীসংখ্যা একেবারে কম তার ওপর এতগুলি দায়িত্বভার। খুবই সমস্যা হচ্ছে।