হরিশ্চন্দ্রপুর : ঘোষণাই সার। হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লকের বিতলে এখনও ইংরেজি মাধ্যমের সরকারি স্কুল চালু করা সম্ভব হয়নি। স্কুল ভবন তৈরি হলেও শিক্ষক না মেলার কারণেই বাংলা মাধ্যমেই পড়াশোনা চলছে স্কুলটিতে। শুধু তাই নয়, পানীয় জল, শৌচাগার, বিদ্যুতেরও সমস্যা রয়েছে স্কুলে। ফলে ইংরেজি শিক্ষার প্রসার ঘটানোর চেষ্টা কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। বিষয়টি শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিককে জানিয়েছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। তাঁরও দাবি, শিক্ষকের অভাবে ওই স্কুলে ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করানো যাচ্ছে না। সমস্যা মেটাতে চেষ্টা করা হচ্ছে।

হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লকের বিতলে বছর তিনেক আগে স্থাপিত হয়েছিল ইংরেজি মাধ্যমের সরকারি মডেল স্কুল। কথা ছিল ইংরেজি মাধ্যমে পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত এলাকার ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা দেওয়া হবে। সেই কথা মাথায় রেখে তড়িঘড়ি ঝাঁ চকচকে স্কুলভবন তৈরি করা হয়। কিন্তু অন্য পরিকাঠামো এখনও সেভাবে গড়ে ওঠেনি। ব্যবস্থা নেই পর্যাপ্ত পানীয় জলের। অভাব রয়েছে শৌচাগার এবং বিদ্যুতের। সবকিছু মোটামুটি থাকলেও ইংরেজিতে পড়ানোর মতো কোনও শিক্ষকই স্কুলে নেই। ফলে এখনও বাংলা মাধ্যমেই এই স্কুলে পড়াশোনা চলছে। বর্তমানে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ২১৮ জন ছাত্রছাত্রী রয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন ছয়জন। তবে আগামী মাসে একজনের অবসর নেওয়ার কথা রয়েছে।

- Advertisement -

ইংরেজি মাধ্যম মডেল স্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক মনসুর রহমান বলেন, সরকারের তরফে এই স্কুলে সুন্দরভাবে ভবন তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু শিক্ষক অপ্রতুলতার কারণে এই স্কুল চালু করা যাচ্ছে না। তাই শিক্ষা দপ্তরের আদেশ মেনে আমরা বাংলাতেই পঠনপাঠন চালাচ্ছি। বর্তমানে পরিকাঠামোগত কিছু সমস্যা রয়ে গিয়েছে। পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পঠনপাঠনের ব্যবস্থা থাকলেও বর্তমানে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রছাত্রী রয়েছে। মোট আটটি সেকশনে ২১৮ জন ছাত্রছাত্রী এই স্কুলে পড়ছে। ছয়জন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক এবং একজন করণিক দিয়ে স্কুলের কাজকর্ম চলছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সিলেবাস অনুসরণ করে স্কুলে পড়ানো হয়। সামনের মাসে একজন শিক্ষক অবসর নেবেন।

এলাকার বিতল, সিমলা, রঙাইপুর, মারদাঙ্গী, তুলসীহাটা, কুশিদা সহ দূরদূরান্ত থেকে প্রচুর ছাত্রছাত্রী এই স্কুলে আসে। তাদের থাকার জন্য কোনও হস্টেল নেই। নেই ডাইনিং হল ও সাইকেল স্ট্যান্ড। শ্রেণিকক্ষেই মিড-ডে মিলের রান্না করা হয়। তাছাড়া বিদ্যুতের সমস্যাতে স্কুল জেরবার। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছিলাম। কিন্তু এখনও সমস্যার সমাধান হয়নি। গরমে এই অবস্থা চলতে থাকলে পানীয় জল ও বিদ্যুতের কারণে চূড়ান্ত অসুবিধায় পড়বে ছাত্র থেকে শিক্ষকরা। হরিশ্চন্দ্রপুর উচ্চবিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক মফিজউদ্দিন আহমেদ জানান, ঝকঝকে বিল্ডিং থাকলেও বিদ্যালয়টি বর্তমানে ইংলিশ মিডিয়ামের পরিবর্তে বাংলা মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। কোনও নিয়মিত শিক্ষক নেই। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দিয়ে স্কুল পরিচালিত হচ্ছে। আমরা আশা করেছিলাম, গ্রামীণ এলাকায় ইংরেজি শিক্ষার প্রসার ঘটাবে এই স্কুল। বাস্তবে তা হল না।

স্থানীয় বাসিন্দা প্রমীলা ভৌমিক গুপ্তা বলেন, আমরা আশা করেছিলাম হরিশ্চন্দ্রপুরের এই ইংরেজি মাধ্যমের বিদ্যালয়টি চালু হলে আমাদের ঘরের ছেলেমেয়েরা বাড়ির কাছে থেকেই ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করতে পারবে। কিন্তু এখনও স্কুলটি বাংলাতেই পরিচালিত হচ্ছে। আমরা চাই, অবিলম্বে স্কুলটি ইংরেজি মাধ্যমে হোক, যাতে হরিশ্চন্দ্রপুরের সাধারণ ঘরের পড়ুয়ারা ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করার সুযোগ পায়।

স্থানীয় জেলা পরিষদ সদস্য মমতাজ বেগম বলেন, ওই স্কুলে শিক্ষকের অভাব রয়েছে। সেজন্য ইংলিশ মিডিয়াম চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। আগামী মাসে মুখ্যমন্ত্রী মালদা সফরে আসছেন। বিষয়টি তাঁকে জানানো হবে। এবিষয়ে হরিশ্চন্দ্রপুর চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক শর্মিলা ঘোষ বলেন, ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষকের অভাবের কারণে শিক্ষা দপ্তরের আদেশ এই স্কুলে বর্তমানে বাংলায় পরিচালিত হচ্ছে। অন্য পরিকাঠামোগুলি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।