শিলিগুড়ি শহরে ব্যানার সরানোয় সদিচ্ছার অভাব

143

শমিদীপ দত্ত, শিলিগুড়ি : নিজেদের রাজনৈতিক কর্মসূচির ফেস্টুন, ব্যানার লাগিয়ে দায় শেষ। শিলিগুড়ি শহরের প্রধান সড়কগুলি এখন ভরে গিয়েছে রাজনৈতিক ব্যানার, ফেস্টুন থেকে শুরু করে দুমাস আগে শেষ হওয়া উৎসবের শুভেচ্ছাবার্তায়। বেশ কিছু ক্ষেত্রে সেই ফেস্টুন, ব্যানার  রীতিমতো বিপজ্জনকভাবে ঝুলে থাকছে। বাদ নেই বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপনও। স্বাভাবিকভাবেই শহরের দৃশ্য দূষণ রোধে রাজনৈতিক দলগুলির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

ফেস্টুন খোলার ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলির যে বিশেষ সদিচ্ছা থাকে না, সেটা অবশ্য শিলিগুড়ির প্রতিটি কোনা দেখলেই বোঝা যায়। জংশন মোড় এলাকায় তৃণমূলের লাগানো রাজ্য সরকারের প্রকল্পমূলক ব্যানার বর্তমানে বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। কোনওভাবে তারে লেগে সেই ব্যানার রাস্তার দিকে ঝুলে রয়েছে। ডিসেম্বরে  উত্তরকন্যা অভিযানকে কেন্দ্র করে বিজেপি বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় ব্যানার লাগিয়েছিল। এক মাস পেরিয়ে গেলেও বর্ধমান রোডের বিভিন্ন জায়গায় ব্যানারগুলি পড়ে রয়েছে। উৎসব শেষের দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও বিজেপি নেতার শুভেচ্ছাবার্তা এসএফ রোডের ধারে থাকা ত্রিফলা বাতিতে ঝুলে রয়েছে। আবার কংগ্রেসের জেলা সভাপতির  শুভেচ্ছাবার্তা ভেনাস মোড়ে ঝুলে রয়েছে। বামফ্রন্টের ২৬ নভেম্বরের ধর্মঘটের সমর্থনে লাগানো ফেস্টুন এখনও এসএফ রোডে নজরে পড়বে। রাজনৈতিক, সরকারি এই ব্যানার, ফেস্টুনের অজুহাতে বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত ব্যানারেও পথবাতি থেকে শুরু করে ত্রিফলা সেজে উঠছে। শিলিগুড়ি ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের সম্পাদক রূপক দে সরকার বলেন, আসলে রাজনৈতিক দলগুলি এই শহর সম্পর্কে কতটা সচেতন সেটা শহর দেখলেই বোঝা যায়। বিশেষ বিশেষ দিনে কিছু নেতা শহর সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠলেও সারাবছর কোনও খেয়ালই রাখেন না। আসন্ন নির্বাচনে শহরের যে কতটা দৃশ্য দূষণ হবে, তা নিয়ে আমরা আশঙ্কায় রয়েছি।  এ ব্যাপারে পুরনিগমের ট্রেড লাইসেন্স বিভাগের দেখাশোনার দাযিত্বে থাকা কমল আগরওয়াল বলেন, পুরনিগমের সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিদায়ি মেয়র পারিষদ হিসেবে আমি সমস্ত রাজনৈতিক দলকে এ ব্যাপারে সচেতন হতে বলব। কারণ একটি রাজনৈতিক দলের ফেক্স খোলার পর অন্য রাজনৈতিক দলের ফ্লেক্স কোনওভাবে চোখের আড়ালে চলে গেলে পুরনিগমের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ওঠে।

- Advertisement -