পঞ্চায়েতি ব্যবস্থায় কর্মীসংকট, প্রকল্প বাড়লেও কর্মী বাড়েনি কোচবিহার জেলায়

252

চাঁদকুমার বড়াল, কোচবিহার : সরকারি প্রকল্প বাড়লেও দপ্তরগুলোতে কর্মী বাড়েনি। ফলে কোচবিহারের পঞ্চায়েতি ব্যবস্থার তিনটি স্তরই কর্মী সংকটে ভুগছে। জেলার পঞ্চায়েতি ব্যবস্থায় স্থাযীপদে প্রায় সাড়ে তিনশো কর্মী কম রয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে সময় মতো প্রকল্পের কাজ করতে হিমসিম খাচ্ছেন বিভিন্ন দপ্তরের কর্মীরা। প্রায় ছয় বছর ধরে কোচবিহারে কেন শূন্যপদে নিয়োগ হচ্ছে না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এক্ষেত্রে ডিস্ট্রিক্ট লেভেল সিলেকশন কমিটি কী করছে? কেন তারা কর্মী নিয়োগ করছে না সেই প্রশ্নও উঠছে বিভিন্ন মহলে।

কোচবিহার জেলা পরিষদে শূন্যপদ রয়েছে ৩০টি। জেলার ১২টি পঞ্চায়েত সমিতিতে ১০৮ জন কর্মী থাকার কথা থাকলেও সেখানে সব মিলিয়ে রয়েছেন  ৬১ জন কর্মী। এখানে বিভিন্ন বিভাগে শূন্যপদ রয়েছে ৪৭টি। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসগুলির। জেলার ১২৮টি গ্রাম পঞ্চায়েছে সচিব রয়েছেন ৮৯ জন। ১২৮ জন নির্বাহী সহায়কের মধ্যে রয়েছেন ৮৩ জন। এখানেও ৪৫টি শূন্যপদ রয়েছে। ৭৭ জন গ্রাম পঞ্চায়েত সহায়ক কম রয়েছেন। ৭৯ জন গ্রাম পঞ্চায়েত কর্মী কম রয়েছেন। এছাড়াও নির্মাণ সহায়কের ১২টি পদ খালি রয়েছে।পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত কর্মচারী সমিতি সমূহের যৌথ কমিটির কোচবিহার প্রাক্তন জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য প্রতুল ভদ্র বলেন, জেলায় কর্মী এতটাই কম রয়েছে যে কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে। জেলার সিলেকশন কমিটির নিয়োগ করার অধিকার থাকলেও তারা তা করছে না বলে অভিযোগ তাঁর।

- Advertisement -

কোচবিহার জেলা পরিষদের সভাধিপতি তথা ডিস্ট্রিক্ট লেভেল সিলেকশন কমিটির চেয়ারম্যান উমাকান্ত বর্মন বলেন, কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। গ্রেডেশনের তালিকা তৈরি হচ্ছে। এই কাজ হলেই কর্মী নিয়োগ শুরু হবে। বিজেপির কোচবিহার জেলা সভানেত্রী মালতী রাভা বলেন, আর্থিক সংকটে ভুগছে রাজ্য সরকার। তাই স্থায়ী পদে নিয়োগ করছে না। কনট্রাকচুয়াল কর্মী দিয়ে কাজ চালাচ্ছে। উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, বিরোধীদের অভিযোগ ভিত্তিহীন। নিয়োগের বিষয়টি জেলা প্রশাসন দেখছে বলে জানান তিনি।

কোচবিহার জেলায় ২০১৪ সালের পরে সেভাবে গ্রাম পঞ্চায়ে ও পঞ্চায়ে সমিতি স্তরে নিয়োগ হয়নি। ২০১৭ সালে যাও বা হয়েছিল তার মধ্যে বেশ কয়েকটি এখনও মামলার জেরে আটকে রয়েছে। এছাড়া, জেলা পরিষদেও ২০১১ সালের পরে নিয়োগ হয়নি। আবার এই সময়ের মধ্যে অনেক কর্মী অবসর নিয়েছেন। কোচবিহার জেলা পরিষদের পাশাপাশি গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতিগুলিও কর্মী সংকটে ধুঁকছে। দীর্ঘদিন ধরেই এই পরিস্থিতি রয়েছে। এক্ষেত্রে জেলার সিলেকশন কমিটি কেন নিয়োগ করছে না সেই প্রশ্নও রয়েছে কর্মীদের মধ্যে। কোচবিহার জেলায় এখন পঞ্চায়েত স্তরে সবমিলিয়ে ৩২৯টি শূন্যপদ রয়েছে। কর্মীদের একাংশ বলছে, যে হারে সরকারি প্রকল্প বেড়েছে সেই হিসেবে কর্মী বাড়েনি। বেশ কিছু কাজ আটকেও যাচ্ছে। ফলে সময়মতো উন্নয়নমূলক কাজগুলি হচ্ছে না।