করোনার জেরে ছাঁচের লক্ষ্মী প্রতিমা বিক্রিতে ভাটা

473

দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ: রাত পোহালেই কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। প্রতিবছরের মতো এবছরও শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছাঁচের প্রতিমা বিক্রি করতে মৃৎশিল্পীরা হাজির হলেও ক্রেতাদের দেখা মিলছে না। মাঝেমধ্যে দু-একজনের দেখা মিললেও দামাদামি করে ফিরে যাচ্ছেন। আবার অনেকে কম দামেই দিয়ে দিতে হচ্ছে। উপযুক্ত দাম না পাওয়ায় হতাশ শিল্পীরা। করোনার কারণে আর্থিক মন্দার জেরে অধিকাংশ মানুষ লক্ষ্মীর ছবি ও ঘটেই পুজো সারছেন। ফলে গত বছরের তুলনায় এবছর ক্রেতার সংখ্যা নগন্য। চাহিদা না থাকায় দীর্ঘ পরিশ্রমের পর উপযুক্ত পারিশ্রমিক না মেলায় হতাশ রায়গঞ্জের কাঞ্চনপল্লী, সুভাষগঞ্জের মৃৎশিল্পীরা।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দেখা যায় রায়গঞ্জ শহরের কলেজপাড়া, দেবীনগর, বিদ্রোহী মোড়, মোহনবাটি এলাকায় প্রচুর ছাঁচের ও রেডিমেড প্রতিমা নিয়ে আলোকিত করে আছেন শিল্পীরা। কিন্ত তাদের মুখে হাঁসি নেই। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বসে থাকলেও অনেকেই একটি প্রতিমাও বিক্রি করতে পারননি। আগামীকাল পুজো। তাই কি হবে বুঝতে পারছেন না তাঁরা। প্রতিবছর পুজোর আগের দিন নাওয়া খাওয়া ভুলে ক্রেতাদের সামলাতে ব্যস্ত থাকতে হত। বেশ ভালো দামও পাওয়া যেত। কিন্ত এইবছর তাদের ন্যূনতম পারিশ্রমিক উঠবে না বলে আক্ষেপ তাদের। বিদ্রোহী মোড়ে প্রতিমা বিক্রি করতে আসা মৃৎশিল্পী ভাষা পাল জানান, বিক্রি হচ্ছে টুকটাক। যে খরচা হয়েছে তা আমরা পাচ্ছি না। ছোট ছাঁচের প্রতিমা ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং বড়গুলি ৮০ থেকে ৯০ টাকা দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। করোনার কারণে অনেকেই পুজো করছেন না। সেকারণে খুব কম খরিদ্দারের দেখা মিলছে। বাধ্য হয়ে কম দামেই দিয়ে দিতে হচ্ছে। প্রায় ১৫০ প্রতিমা নিয়ে এসেছি, সবগুলি বিক্রি হবে কিনা সন্দেহে রয়েছি।

- Advertisement -

আর এক শিল্পী বাসুদেব পাল জানান, লকডাউনের বাজার। তাই বুঝতে পারছি না। টুকটাক প্রতিমা বিক্রি হচ্ছে। আগামীকাল কি হবে বলতে পারছি না। গতবার যে দামে বিক্রি করেছিলাম বাধ্য হয়ে সেই দামেই প্রতিমা বিক্রি করে দিতে হচ্ছে। বড় রেডিমেড প্রতিমা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং ছোট প্রতিমা ২০০ থেকে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এবার প্রতিমার খরচটুকু উঠবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন শিল্পীরা।