লক্ষ্মী আরাধনার তোড়জোড় শালকুমারহাটের রাভাবস্তিতে

442

সুভাষ বর্মন, শালকুমারহাট: করোনা ভাইরাস সংক্রমণজনিত পরিস্থিতিতে আর্থিক মন্দা সত্ত্বেও উৎসবের মেজাজ দেখা যাচ্ছে জঙ্গলঘেরা রাভাবস্তিতে। জলদাপাড়া সাউথ রেঞ্জের শালকুমারহাটের এই রাভাবস্তির সমাজ ব্যবস্থা এখনও মাতৃতান্ত্রিক। তাই দেবী হিসেবে লক্ষ্মীর প্রাধান্যকে বেশি গুরুত্ব দেন বস্তির বাসিন্দারা। প্রায় আট মাস থেকে বস্তিতে কোনও অনুষ্টান হয়নি। এখানে দুর্গাপুজোও হয় না। সেই একঘেয়েমি পরিস্থিতি বদলাতে হাজারো সমস্যা সত্ত্বেও লক্ষ্মীপুজোর তোড়জোড় চলছে রাভাবস্তিতে। কারণ, রাভাদের কাছে দুর্গাপুজোর থেকে লক্ষ্মীপুজোর আনন্দ কোনও অংশে কম নয়।

এই রাভাবস্তিতে দুর্গাপুজোর মত লক্ষ্মীপুজোতেও আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি হয়৷ তবে এবারের পরিস্থিতি অনুযায়ী বস্তির লক্ষ্মীপুজো ও অনুষ্টানে বাইরের লোকজন সেভাবে আমন্ত্রিত থাকবেন না। জঙ্গলঘেরা পরিবেশে রাভারা নিজেরাই নিজেদের পুজো ও অনুষ্টানে সামিল থাকবেন বলে ঠিক হয়েছে। এই বস্তিতে প্রায় ৮৩টি পরিবারের বসবাস। লোকসংখ্যা পাঁচশোরও বেশি। আগে এখানে স্বতন্ত্র ধারায় লক্ষ্মীপুজোর আয়োজন করতেন রাভারা। পুজোয় কোনও প্রতিমা ছিল না। তার বদলে ধান গাছ ও কাশফুলের গাছকেই পুজো করা হত। পুজোয় বলির প্রচলনও ছিল। পুজোর প্রসাদ হিসেবে মিলত হাঁস,মুরগি,পায়রার মাংস ও মদ। এখন অবশ্য আর আগের নিয়মে বস্তিতে পুজো হয় না। রাভাদের নিজস্ব হুজি বা পুরোহিত আম্বাই রাভার মৃত্যুর পর আর অন্য কোনও হুজি বা পুরোহিত না থাকায় হিন্দু নিয়ম মেনেই কয়েক বছর থেকে এই বস্তিতে লক্ষ্মীপুজো হচ্ছে।

- Advertisement -

দুর্গাপুজোর আগেই লক্ষ্মীপুজো নিয়ে রাভাবস্তিতে বেশ কয়েকটি মিটিং এরপর পুজো কমিটি গঠিত হয়েছে। সভাপতি হয়েছেন শিব রাভা। যোগেশ রাভা ও রামবিলাস রাভা হয়েছেন সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ। পুজোর মাড়েয়া হলেন মদন রাভা। সভাপতি শিব রাভা বলেন, ‘আমাদের এখানে লক্ষ্মী প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয় না। স্থায়ী মন্দিরেই পুজোর পর প্রতিমা রাখা হয়। সারা বছরই রাভা মহিলারা দেবীর আরাধনা করেন।’

পুজোর পর দু’দিন ঘরোয়া অনুষ্টানেরও আয়োজন করা হয়েছে। কমিটির অন্যতম সদস্য মন্টু রাভা বলেন, ‘শুক্রবার পুজোর পর শনি ও রবিবার দু’দিন সাংস্কৃতিক অনুষ্টান হবে। তবে বাইরের কেউ নন, বস্তির বাসিন্দারাই অনুষ্টানে সামিল থাকবেন।’

অন্যদিকে উদ্যোক্তারা জানান, দীর্ঘ আট মাস থেকে করোনা পরিস্থিতির কারণে এই বস্তিতে এক ঘিয়েমি পরিবেশ চলছে। ভিন রাজ্যে কর্মরত বস্তির যুবকরা বাড়ি ফিরেছেন। আর্থিক মন্দা এখনও কাটেনি৷ তা সত্ত্বেও বস্তির বাসিন্দাদের সাধ্যমত চাঁদা দিয়েই লক্ষ্মীপুজোর আয়োজন করা হয়েছে। কারণ, এখানে দুর্গাপুজো হয় না। লক্ষ্মীপুজোতে সেই আনন্দে মেতে ওঠেন বস্তির আট থেকে আশি, সকলেই।

বস্তিতে বনদপ্তরের বিট অফিসের পাশেই প্যান্ডেল তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। বস্তির পাশেই কলাবাড়িয়ায় বাড়ি শালকুমার-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান উত্তম কার্জির। উত্তম বাবু বলেন, ‘দুর্গাপুজোর মতই রাভাবস্তির ৫০০-রও বেশি মানুষ লক্ষ্মীপুজোয় আনন্দে মেতে ওঠেন। তাঁরা এবার ঘরোয়াভাবেই পুজো ও অনুষ্টান পরিচালনা করবেন। আমি ওদের এই আয়োজনের সাফল্য কামনা করি।’