তিস্তায় ভেসেছে জমি-বাড়ি, অন্যত্র সরতে চান এলাকাবাসী

680

গৌতম সরকার, মেখলিগঞ্জ: চাষের জমির পাশাপাশি তিস্তা গ্রাস করে ফেলছে অনেকের বসতভিটাও। তাই তিস্তার ভাঙনের হাত থেকে যতটা সম্ভব রক্ষা পাওয়া যায় সেই উদ্দেশ্যে সরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন মেখলিগঞ্জ ব্লকের কুচলিবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের বাংলাদেশ সীমান্তঘেরা ২৫ পয়স্থি এলাকার বাসিন্দারা।

এলাকাবাসী জানিয়েছেন, গত কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিতে তিস্তায় জল বাড়ার সঙ্গে নদী ভাঙনের মাত্রাও বেড়েছে। ইতিমধ্যেই এলাকার একমাত্র শিশুশিক্ষাকেন্দ্রের পাকা ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছে। গাছপালা, কিছু মানুষের বাড়ি ঘরের একাংশও তিস্তার জলের স্রোতে বাংলাদেশের দিকে ভেসে গিয়েছে। বরাবরই দেখা যায় নদীতে জল কমে গেলেও যেহেতু ভাঙন অব্যাহত থাকে এমনকি এই ভাঙনের মাত্রা অনেকক্ষেত্রে বেড়ে যায়। তাই ঝুঁকি না নিয়ে নদীর ধার থেকে তারা একটু উঁচু স্থানে বাড়িঘর সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

- Advertisement -

এলাকাবাসী হরিকান্ত রায়, আব্দুল ছাত্তার প্রমুখ বলেন, এবারও তাঁদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। অনেকের বসতভিটা চাষের জমি তিস্তা গ্রাস করে ফেলায় তাঁরা সর্বশান্ত হয়েছেন। এরইমধ্যে বাড়িঘর কিছুটা সরিয়ে নিয়ে বাঁচার চেষ্টা চলছে। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, তিস্তা নদী পেরিয়ে তাদের এলাকায় যেতে হয়। বর্তমানে তাদের চর এলাকার চারিদিকেই তিস্তা নদীর অবস্থান রয়েছে। নদীতে বন্যা দেখা দিলে কার্যত কুচলিবাড়ি সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ওইসময় তিস্তা ভয়ংকর রূপ ধারণ করায় নৌকাতেও পারাপার করার সাহস তাঁরা দেখাননা। এই সময় ভারতের বাসিন্দা হয়েও তাঁদের নিজেদেরকে ভারত ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন বলে মনে হয়।

তাঁরা বলেন, ‘একদিকে বাংলাদেশ সীমান্ত অপরদিকে তিস্তার ভাঙন। এই বিষয়গুলি নিয়ে তারা চিন্তিত। এছাড়াও এলাকায় বিদ্যুতের ব্যবস্থা নেই। বন্যার কারণে পানীয় জলের ব্যাপক সমস্যা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে ভাঙনের হাত থেকে বাঁচতে অনেকে বসতবাড়ি সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এই গ্রামের ষোলো আনা মানুষই কৃষিনির্ভর। তাই চাষের জমি নদী গ্রাস করায় তাঁরা চিন্তায় পড়েছেন। পাশাপাশি গত কয়েকদিন থেকে নিজেদের দুর্ভোগের পাশাপাশি গবাদি পশুপালন নিয়েও সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে জানান। কুচলিবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান জয়শ্রী রায় জানিয়েছেন, ২৫ পয়স্থি এলাকার তিস্তার ভাঙন সমস্যার বিষয়ে তিনিও অবগত রয়েছেন। ওই এলাকায় থাকা শিশুশিক্ষা কেন্দ্রটিও ভেঙে গিয়েছে। গোটা বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।