জমি বিবাদের জেরে বোমাবাজির অভিযোগ, দু’পক্ষের সংঘর্ষে জখম ১০

785

সামসী: জমি বিবাদের জেরে বোমাবাজির অভিযোগ। দুই পক্ষের সংঘর্ষে জখম হয়েছেন ১০ জন। রতুয়া থানা এলাকার চাঁদমুনির ঘটনা। বুধবার ঘটনার সূত্রপাত হলেও দুই পক্ষের সংঘর্ষ বাঁধে বৃহস্পতিবার। ঘটনায় দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে রতুয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুই প্রতিপক্ষ চাঁদমুনি-১ এর প্রধান রবিউল ইসলাম ও সাদেক আলি। গণ্ডগোলের সূত্রপাত একটি রাস্তাকে ঘিরে। সম্প্রতি, পঞ্চায়েত থেকে রাস্তাটি কংক্রিট ঢালাই রাস্তার জন্য অনুমোদন মিলেছে। সাদেক আলি ওই রাস্তাকে নিজের রায়তি সম্পত্তি দাবি করছেন। তিনি নিজের জমির ওপর পাকা রাস্তা করতে দিতে নারাজ। অন্যদিকে, চাঁদমুনির প্রধান রবিউল ইসলাম বলেন, ‘ওই রাস্তা দিয়ে বংশ পরম্পরায় ৬০ বছরেরও অধিক সময় ধরে যাতায়াত করছি। রাস্তা কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। সবাই যাতায়াত করতে পারেন।’

- Advertisement -

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, সাদেক আলি ওই জায়গায় পাকা রাস্তা করতে দিতে না চাইলেও প্রধান ও তাঁর লোকজন পাকা রাস্তা করার সিদ্ধান্তে অনড়। এই নিয়ে প্রধান ও সাদেকের লোকজন প্রথম দফায় বুধবার একে অপরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করে। দুই পক্ষের তরফে ব্যাপক বোমাবাজিও হয় বলে অভিযোগ। এদিন সকালেও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে দুই পক্ষের ১০ জন জখম হয়েছেন।

পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, সাদেকের তরফের লোকেদের মারে প্রধানের তরফের ৫ জন জখম হয়েছেন। তাঁরা হলেন-প্রধানের দাদা মহম্মদ বাদিরুদ্দিন, ভাইপো সৌদ আলম, ভগ্নিপতি মহম্মদ কুতুবুদ্দিন, প্রধানের দুই ভাগ্নে খাদিমুল ইসলাম ও একরামুল হক ওরফে টিটন। এদের মধ্যে একরামুল হকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। কলকাতায় চিকিৎসা চলছে তাঁর। বাকিরাও চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদিকে, প্রধানের তরফের লোকেদের মারে সাদেকের বনুই(বোন জামাই) ইব্রাহিম ও ইব্রাহিমের ভাইপো তঞ্জুর আলি ও সাদেকের বৌদি বিবি ফেরদৌসী মারাত্বকভাবে জখম হয়েছেন। তাঁদের মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। এমনকি সাদেক ও সাদেকের স্ত্রীকেও আক্রমণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

সাদেক আলি জানান, প্রধান রবিউল ইসলামের ইন্ধনে গণ্ডগোল হয়েছে। অবশ্য প্রধান রবিউল ইসলাম তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘সাদেক গত পঞ্চায়েত ভোটে আমার বিপক্ষে জোটের প্রার্থী হয়ে ব্যাপক ভোটে হেরেছিলেন। সে থেকেই আমার ওপর ওর একটা রাগ ছিলই। তারই বদলা নিতে পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটান।’ এদিকে ঘটনার জেরে দু’পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে রতুয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার পর চাঁদমুনি এলাকায় ব্যাপক পুলিশি টহল রয়েছে। ঘটনার জেরে এলাকার পরিস্থিতি থমথমে। এই বিষয়ে চাঁচলের এসডিপিও সজলকান্তি বিশ্বাস বলেন, ‘চাঁদমুনির গণ্ডগোলের ঘটনায় দুই পক্ষের তরফে অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার তদন্ত চলছে।’